বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অনেকই জানেন, রাহুল দেববর্মনের ডাকনাম পঞ্চম। কিন্তু এ নামের আগে তাঁর ডাকনাম ছিল ‘টুবলু’। এই ডাকনাম দিয়েছিলেন তাঁর দাদি।

default-image

তখন তাঁর বয়স মাত্র ৯! ওই বয়সে আর ডি বর্মন প্রথম যে গানে সুর করেছিলেন, সেটি হলো ‘অ্যায় মেরি টোপি পলটকে আ’। গানটি পরে তাঁর বাবা শচীন দেববর্মন ব্যবহার করেছিলেন ১৯৫৬ সালের ‘মিস্টার ফান্টুস’ ছবিতে।

default-image

মুম্বাইয়ে রাহুল দেববর্মন সরোদ বাজানো শিখেছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খানের কাছে। তবলা বাজানো শিখেছিলেন সমতা প্রসাদের কাছে। এ ছাড়া তিনি খুব ভালো মাউথ অর্গান বাজাতে পারতেন। প্রকাশ্যে অনেকবার তাঁকে মাউথ অর্গান বাজাতে দেখাও গেছে। লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলালের ‘দোস্তি’ ছবির জন্য তিনি নিজে মাউথ অর্গান বাজিয়েছিলেন। হেমন্ত কুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা’ গানেও মাউথ অর্গান বাজিয়েছিলেন তিনি।

রাহুল দেববর্মন এককভাবে প্রথম কোনো চলচ্চিত্রে সুর দেন ১৯৬১ সালে। মেহমুদের ফিল্ম ‘ছোটে নবাব’-এ। তিনি অবশ্য চেয়েছিলেন, এই সিনেমার সুর করুন শচীনকর্তা। কিন্তু শচীন দেববর্মন জানিয়ে দেন, তাঁর হাতে সময় নেই। সেই সময় রাহুল দেববর্মনকে তবলা বাজাতে দেখেন মেহমুদ এবং নিজের ছবির জন্য সুরকার হিসেবে সই করান রাহুল দেববর্মনকে।

default-image

এটা সবারই জানা, রাহুল দেববর্মন আশা ভোঁসলের স্বামী। রাহুল দেববর্মন প্রথমবার বিয়ে করেছিলেন ১৯৬৬ সালে রীতাকে। দুজনের দেখা হয় দার্জিলিংয়ে। বেশ কিছুদিন সংসার করার পর ১৯৭১ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। শোনা যায়, ওই বিচ্ছেদের সময়ই হোটেলের এক ঘরে বসে রাহুল দেববর্মন সুর করেছিলেন সেই বিখ্যাত গান ‘মুসাফির হু ইয়ারো’!

default-image

রাহুল দেববর্মন তাঁর গোটা জীবনে মোট ৩৩১টি ছবিতে গানের সুর দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৯২টিই হিন্দি ছবি। সুরকার হিসেবে তিনি ৩১টি বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন। তিনটি তেলেগু ছবিতে। দুটি করে তামিল ও ওডিশা ছবি এবং একটি মারাঠি ছবিতে সুরকার হিসেবে কাজ করেছিলেন এই সুরের জাদুকর।

শুধু সংগীত পরিচালনা নয়, অভিনয়ও করেছিলেন আর ডি বর্মন। মেহমুদের ‘ভূত বাংলা’ ছবি দিয়ে তাঁর অভিষেক হয়। তারপর ‘প্যায়ার কা মৌসম’-এ অভিনয় করেছিলেন তিনি।

default-image

‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে যো দিলকো’ গানটিতে তিনি চামচ দিয়ে কাচের গ্লাসে সুর তুলেছিলেন। কিতাবের গান ‘মাস্টারজি কিআ গয়ি চিঠঠি’তে তিনি ক্লাসরুম থেকে কয়েকটি ডেস্ক আনিয়েছিলেন। রেকর্ডিংয়ের সময় সেগুলো ব্যবহার করেছিলেন তিনি।

default-image

বৃষ্টির ফোঁটার শব্দের জন্য তিনি সারা রাত নিজের ব্যালকনিতে বসে থাকতেন। প্রাকৃতিক সেই শব্দ রেকর্ড করতেন। এরপর তা ব্যবহার করতেন। ‘খুশবু’ ছবির ‘ও মাঝি রে’ গানে তিনি পানিভর্তি বোতল ব্যবহার করেছিলেন। বিভিন্ন লেভেলে সেখান থেকে শব্দ তুলেছিলেন তিনি। বোতলে ফুঁ দিয়ে একধরনের শব্দ তৈরি করেছিলেন। তাঁর সেই সাউন্ড ইফেক্টগুলো অর্কেস্ট্রার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।

default-image

অনেকেই জানেন না, রাহুল দেববর্মন মরিচ খুব পছন্দ করতেন। মরিচের গাছ লাগাতেন। ম্যারিল্যান্ড অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর বাগানে ২০০ রকমের লঙ্কার চারা ছিল।

default-image

রাহুল দেববর্মনের প্রথম কম্পোজ করা গানটি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সেই গানের কথায় লতার নামও ছিল, ‘আমার মালতি লতা’। পরে এর হিন্দি ভার্সনটি গেয়েছিলেন কিশোর কুমার।

default-image

রাহুল দেববর্মন সুরকার হিসেবে তো বটেই, গায়ক হিসেবেও অনেক অবদান রেখেছেন। ‘শোলে’ ছবির ‘মেহবুবা মেহবুবা’ গানটি তাঁর কণ্ঠে অসামান্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গায়কির ক্ষেত্রে বিখ্যাত মার্কিন জ্যাজ গায়ক লুই আর্মস্ট্রং দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। প্রচলিত প্লেব্যাক আর্টিস্টদের মতো তিনি স্টেরিওটাইপ হতে চাননি। তিনি সব সময় বলতেন, তাঁর কণ্ঠের একটা নিজস্ব পরিচয় থাকা উচিত।

default-image

রাহুল দেববর্মনের শয়নে, স্বপনে ছিল গান আর সুর। তিনি নাকি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে, মানে স্বপ্নের মধ্যেও সুর তুলতেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণ’ ছবির ‘কাঞ্চা রে কাঞ্চা রে’ গানটির সুর তিনি ঘুমের মধ্যে তৈরি করেছিলেন।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন