আবারো ক্ষেপেছেন কঙ্গনা

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে কঙ্গনার ‘তুই-তোকারি’

কঙ্গনা রনৌত
কঙ্গনা রনৌত কোলাজ: আমিনুল ইসলাম
বিজ্ঞাপন

দুটি দৃশ্যই ভাইরাল হয়েছে। প্রথমটা মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে। চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক, অস্ত্রসহ। ব্যারিকেড করে এগিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যে শাড়ি পরে বীরের মতো হেঁটে যাচ্ছেন বলিউডের ‘কুইন’ কঙ্গনা রনৌত। দ্বিতীয় দৃশ্য রাস্তায়, কঙ্গনা রনৌতের বাংলোর সামনে। শত শত মিডিয়া কর্মীর দৌড়ঝাঁপ। ক্লিক, ক্লিক আওয়াজ। শেষ কবে কঙ্গনাকে নিয়ে এমন উৎসাহ দেখা গেছে?

default-image

উত্তর ভারতের হিমাচলের মেয়ে মুম্বাই গিয়েছিলেন বড় পর্দার রানি হওয়ার জন্য। সংগ্রামের দিনগুলোতে আচার–রুটি খেয়েও দিন কেটেছিল তাঁর। সেই কঙ্গনা মুম্বাইতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, শক্ত অবস্থান তৈরি করেই ক্ষান্ত দেননি। এগিয়েছেন সাম্রাজ্য তৈরির দিকে। নিজের মতো করেই চলেন তিনি, বলেন নিজের ইচ্ছেমতো। তিনি যা মনে করেন তা। নিজের ‘কথার বাণ’ নিয়েই সম্মুখসমরে কঙ্গনা রনৌত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহারাষ্ট্রের শাসক শিবসেনার সঙ্গে সরাসরি বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ‘কুইন’ খ্যাত এই নায়িকা। বিষয়টা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে কঙ্গনার বাংলোয় হানা দিয়েছেন মুম্বাই সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। আর জবাবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরেকে রীতিমতো ‘তুই-তোকারি’ সম্বোধন করেছেন। কঙ্গনা বলেছেন, ‘উদ্ভব ঠাকরে, তুই কী ভেবেছিস রে? সিনেমার মাফিয়াদের সঙ্গে মিলে তুই আমার বাড়ি ভাঙবি, প্রতিশোধ নিবি? আজ আমার ঘর ভেঙেছে, কাল তোর অহংকার ভাঙবে। বলে দিলাম।’ এখানেই শেষ নয়, কঙ্গনা আরও বলেন, ‘মনে রেখো, কোনো দিন সময় এক জায়গায় থেমে থাকে না।’

default-image

গতকাল বুধবার সকাল থেকেই কঙ্গনা রনৌতের পালি হিলসের অফিস ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক শুরু হয়। যদিও পরে কঙ্গনার অফিস ভাঙার ওপর স্থগিতাদেশ দেন সেখানকার উচ্চ আদালত। অর্থাৎ বুধবার দুপুর থেকে পালি হিলসে কঙ্গনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মণিকর্ণিকা ফিল্মস’–এর দপ্তর ভাঙার যে কাজ শুরু করেছিল মুম্বাই সিটি করপোরেশন, সে কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে তাদের, এসেছে হাইকোর্টের নির্দেশ। সেই সঙ্গে মুম্বাই সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এদিন আদালতে যে আবেদন জমা দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী, তারও জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image
কড়া নিরাপত্তার ভেতর বেলা ২টা ৫৬ মিনিটেই বিমানবন্দরে নামেন কঙ্গনা। রানওয়ে থেকেই কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় গাড়িতে উঠতে দেখা যায় তাঁকে। বিমানবন্দরের বাইরে তাঁর বিরোধিতায় তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শিবসেনার সমর্থকেরা। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৯ সেপ্টেম্বর মুম্বাই ফিরবেন। এর আগের শুক্রবার টুইটে কঙ্গনা রনৌত লিখেছেন, ‘দেখলাম, আমাকে মুম্বাইয়ে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আচ্ছা, এ সপ্তাহেই ৯ সেপ্টেম্বর আমি মুম্বাই আসছি। মুম্বাই এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর ছবিসহ জানিয়ে দেব। কারও বাবার সাহস থাকলে আটকাও।’

মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যেই গতকাল মুম্বাইয়ে ফিরেছেন কঙ্গনা রনৌত। কড়া নিরাপত্তার ভেতর বেলা ২টা ৫৬ মিনিটেই বিমানবন্দরে নামেন কঙ্গনা। রানওয়ে থেকেই কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় গাড়িতে উঠতে দেখা যায় তাঁকে। বিমানবন্দরের বাইরে তাঁর বিরোধিতায় তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শিবসেনার সমর্থকেরা। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

default-image
‘আমি যে কোনো ভুল কথা বলি না, আমার শত্রুরা তা বারবার দেখিয়ে দিচ্ছেন। সত্যিই মুম্বাই এখন পাকিস্তান হয়ে গেছে।’
কঙ্গনা রনৌত

বুধবার সকাল থেকেই মুম্বাইয়ে তাঁর বাড়ি ভাঙার কাজে হাত দেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। বুধবার সকাল পর্যন্ত তা এসে না পৌঁছাতেই এদিন দুপুরে বুলডোজার নিয়ে অফিস ভাঙার কাজ শুরু করে দেয় বিএমসি। অফিসের বাইরে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনীও।

এরপর কঙ্গনা টুইট করেন, ‘আমি যে কোনো ভুল কথা বলি না, আমার শত্রুরা তা বারবার দেখিয়ে দিচ্ছেন। সত্যিই মুম্বাই এখন পাকিস্তান হয়ে গেছে। আমার বাড়িতে কোনো বেআইনি কিছু নেই। মহারাষ্ট্র সরকার তো আগেই বলেছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করোনার জন্য কোথাও কোনো রকম ভাঙচুর করা যাবে না।’

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
‘কঙ্গনা মহারাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে, মুম্বাই পুলিশকে হুমকি দিয়েছে, মুম্বাই শহরকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেছে। বাবরের সেনারা তার বাড়ি ভাঙছে বলে উল্লেখ করেছে। সে তো নিজেই নিজের শত্রু তৈরি করেছে।’
কিশোরী পেড়নেকর, মুম্বাইয়ের মেয়র

এ প্রসঙ্গে মুম্বাইয়ের মেয়র কিশোরী পেড়নেকর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে বলছিলেন, ‘কঙ্গনা মহারাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছে, মুম্বাই পুলিশকে হুমকি দিয়েছে, মুম্বাই শহরকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করেছে। বাবরের সেনারা তার বাড়ি ভাঙছে বলে উল্লেখ করেছে। সে তো নিজেই নিজের শত্রু তৈরি করেছে।’ পেড়নেকর আরও বলেন, ওই বেআইনি নির্মাণ সম্পর্কে করপোরেশনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল—খতিয়ে দেখে তারপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।

আগের দিন মঙ্গলবারই মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ কঙ্গনাকে মাদক সেবন নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। মুম্বাই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, ‘কঙ্গনা মাদকাসক্ত। নিয়মিত মাদক নেন এই অভিনেত্রী।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে কঙ্গনা টুইটের সব দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি মাদক নেন—এটা প্রমাণ করা গেলে মুম্বাই ছেড়ে যাবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

default-image
কঙ্গনাকে নিয়ে মুম্বাইয়ের স্থানীয় প্রশাসনের টানাপোড়েন তীব্র হয়। যেখানে বারবার উঠে এসেছে কাশ্মীর, পাকিস্তান, গণতন্ত্র, অযোধ্যা, রামমন্দির, বাবর, মুম্বাই সিটি করপোরেশন, রাজনীতি—এমন শব্দগুলো।

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যু যেমন নাড়া দিয়েছে ভক্তদের, তেমনি তোলপাড় করে দিয়েছে পুরো বলিউডকে। রহস্যময় মৃত্যুর পর থেকে বলিউডে স্বজনপোষণ ও মাফিয়ারাজ নিয়ে সরব ছিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা। চলেছে তর্কবিতর্ক। কখনো বার্তা দিয়ে, কখনো ভিডিও বার্তায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছোড়াছুড়ি চলে। সর্বশেষ কঙ্গনাকে নিয়ে মুম্বাইয়ের স্থানীয় প্রশাসনের টানাপোড়েন তীব্র হয়। যেখানে বারবার উঠে এসেছে কাশ্মীর, পাকিস্তান, গণতন্ত্র, অযোধ্যা, রামমন্দির, বাবর, মুম্বাই সিটি করপোরেশন, রাজনীতি—এমন শব্দগুলো।

default-image

ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্গনা রনৌত আর মহারাষ্ট্রের শিবসেনা সরকারের বিরোধের পেছনে শুধু বক্তব্য বিনিময় নয়, বরং বৃহত্তর কোনো রাজনীতি কাজ করছে। মুম্বাই তথা ভারত থেকে প্রকাশিত স্থানীয় গণমাধ্যমে বিশ্লেষকেরা এমনটাই বলছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন