অমিতাভ বচ্চন থেকে রাজেশ খান্না, দেব আনন্দ কিংবা তিন খান—সবার ঠোঁটেই সাবলীল উদিত। পর্দায় দেখে মনে হয়, যেন গানটা ওই নায়কেরাই গাইছেন। বিহারে না নেপালে—উদিত নারায়ণের জন্মস্থান কোথায়?

default-image

এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুটি মত দেখা গেছে। উদিতের বাবা নেপালের নাগরিক। মা বিহারের। উদিতের দাবি, তাঁর জন্ম বিহারের সুপাউল জেলায় বৈশী গ্রামে, মামার বাড়িতে। এ নিয়ে প্রথম কথা ওঠে ২০০৯ সালে। তাঁকে যখন পদ্মশ্রী পুরস্কার দেওয়া হয়, তখন তাঁর জন্মস্থান আর নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। অনেকের মতে, তাঁর জন্মস্থান নেপাল। জন্মস্থান যেখানেই হোক, উদিত নারায়ণ বড় হয়েছেন বিহারে, এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। পড়াশোনা বিহারের স্কুলে।

default-image

ভারতের জি বাংলা চ্যানেলে ‘মীরাক্কেল’-এ অতিথি হয়ে এসে কথা প্রসঙ্গে ছেলেবেলা নিয়ে উদিত বলছেন, ‘আমার কণ্ঠস্বর হয়তো ভগবানের দান, কিন্তু জীবনের পথ ছিল কঠিন। বাড়িতে কোনো রেডিও ছিল না। প্রতিবেশীর রেডিও সেট থেকে মোহাম্মদ রফির গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যাই। গানটা ভেতরে ঢুকে যায়।’

default-image

সেই থেকে গানের প্রতি ভালোবাসা। মোহাম্মদ রফির ভক্ত উদিত ছেলেবেলায় গ্রামে একবার গেয়ে ২৫ পয়সা পেয়েছিলেন, সেটাই ছিল প্রথম সম্মানী। একসময় নেপালে পড়াশোনা শুরু করেন উদিত নারায়ণ। সেখানে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রত্ন রাজ্য লক্ষ্মী ক্যাম্পাস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৭০ সালে প্রথম গান নেপালের বেতারে। ওই সময়ে তিনি নেপালি ও মৈথিলি ভাষার লোকগান গাইতেন। মূলত লোকগানই করতেন। তারপর লোকগান থেকে নেপালের আধুনিক গান। আট বছর গান করার পর ভারতীয় দূতাবাসের একটা বৃত্তি পান। সেই বৃত্তি নিয়ে ধ্রুপদি সংগীতের পাঠ নিতে তিনি মুম্বাই যান।

default-image

১৯৮০ সালে উদিত নারায়ণকে সুযোগ দেন সংগীত পরিচালক রাজেশ রোশন, তাঁর ‘উনিশ–বিশ’ ছবিতে গান গাওয়ার জন্য। ক্যারিয়ারের শুরুতেই লতা মঙ্গেশকরসহ তখনকার নামী শিল্পীদের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়ার সুযোগ পেয়েও খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেননি। ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবিতে উদিত নারায়ণকে সুযোগ দেন আনন্দ মিলিন্দ। উদিতের কণ্ঠে আমির খানের ঠোঁটে ‘পাপা ক্যাহতে হ্যায়’

default-image

সারা ভারতে সাড়া ফেলে দেয়, জয় করে বাংলাদেশের দর্শক-শ্রোতার মনও। শুরুতেই অবশ্যএমনটি হয়নি। নবীন নায়ক আমির খানের ছবি গোড়ার দিকে তেমন চলছিল না। ব্যাগ গুছিয়ে বিহারে ফিরে চাষবাস শুরু করবেন বলে ঠিক করেন উদিত। তৃতীয় সপ্তাহের পর উদিত বুঝে যান, এই ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার জন্যই এসেছেন তিনি। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘প্যাহলা নেশা’ সুপারহিট হয়। উদিতের এর পর শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। উদিত নারায়ণের জনপ্রিয় গানের তালিকা দীর্ঘ। আলাদা করে বলতে গেলে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘আয়ে হো মেরি জিন্দেগি মে’, ‘ইয়ে তারা ও তারা’, ‘মিতুয়া, ‘চান্দ ছুপা বাদাল মে’, ‘ক্যাহানো পেয়ার হে’, ‘জাদু তেরে নজর’ ‘প্যায়ার কি কিসতিমে’ ইত্যাদি। বাংলাদেশেও একাধিক চলচ্চিত্র এবং অডিও মাধ্যমে গান গেয়েছেন উদিত নারায়ণ। আঁখি আলমগীরের সঙ্গে তাঁর একটি দ্বৈত গানের অ্যালবাম সাড়া ফেলে অডিও বাজারে।

default-image

সুবীর নন্দীর গাওয়া ‘তোমারই পরশে জীবন আমার’ গানটি নিজের মতো করে গেয়েছিলেন তিনি। ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন উদিত। দেড় হাজার ছবিতে তাঁর গান আছে। ২৫ হাজারের ওপর গান গেয়েছেন। পেয়েছেন পাঁচবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণও মিলেছে।

default-image

বিবিসির সেরা ৪০ বলিউডের গানের মধ্যে উদিতের রয়েছে ২১টি গান। তিন দশক দাপট দেখানোর পর এখন কেন তাঁর কণ্ঠ থেকে বঞ্চিত ভক্তরা। উদিত বলছেন, ‘এখন কোথায় যেন সততার অভাব। প্রযুক্তির বাগাড়ম্বরে কণ্ঠ হারিয়ে গেছে।’ সমালোচকেরাও বলছেন একই কথা। এখন গান ও ছবির ধরন বদলে গেছে। নতুন প্রজন্ম এসেছে। শ্রোতাদের চাহিদাও বদলে গেছে।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন