default-image

সিরিজের অলিখিত নিয়ম হলো প্রথম সিজন তুমুল হিট করলে পরের সিজনে যত যা কিছুই করা হোক না কেন, ম্লান মনে হয়। দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ থাকে অনেক উঁচুতে। তাই পরের সিজন দিয়ে দর্শকদের মন জোগানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই সিরিজ যদি হয় গ্যাংস্টার ড্রামা, তাহলে তো কথাই নেই। চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ‘মির্জাপুর’ প্রথম সিরিজেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিয়ে মাত করেছে। বিশেষ করে প্রথম সিরিজের নবম অ্যাপিসোড দেখার পর দর্শক হাঁ করে অপেক্ষা করেছে পরের সিজনের জন্য। দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে আবারও দর্শক টান টান উত্তেজনাকে সঙ্গী করে দেখে ফেলেছে ‘মির্জাপুর টু’।
‘মির্জাপুর’ মানেই নিজের অজান্তেই দম আটকে রেখে সিরিজটার মার মার কাট কাট উত্তেজনার অংশ হওয়া। সাড়া জাগিয়ে মুক্তি পেল ‘মির্জাপুর টু’। ‘মির্জাপুর’-এর সেই সাফল্যের ধারা কিঞ্চিৎ ম্লান হয়ে অব্যাহত নতুন সিজনেও। এই সফল সিরিজের মূল চরিত্রকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।


আমি চরিত্রদের দুঃখ–কষ্ট অনুভব করি, পঙ্কজ ত্রিপাঠি (কালিন ভাই)
অনেক আশা নিয়ে মুম্বাই শহরে এসেছিলাম। শুধু একটাই ইচ্ছা ছিল—সিনেমায় অভিনয় করব। আমার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এই লকডাউনেই ‘গুঞ্জন স্যাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল’-এর মতো ছবি মুক্তি পেল। মুক্তি পেল ‘মির্জাপুর টু’। আর অনুরাগ বসুর ছবি ‘লুডো’ মুক্তি পাবে ১২ নভেম্বর। তিনটা কাজই আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

default-image

তবে এসবের ভেতরেও ‘মির্জাপুর’কে ঘিরে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা আমাকে অবাক করে। ‘মির্জাপুর টু’-এর সঙ্গে দর্শক একইভাবে একাত্ম। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দর্শক আমার ‘কালিন ভাই’ চরিত্রের জন্য ভরপুর ভালোবাসা জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর আমার অভিনয়ের রহস্য ফাঁস করতে বলেছে। সিরিজটির সফলতার মূলমন্ত্রও বাতলে দিতে বলেছে। সত্যি বলতে, এই সফলতার রেসিপি আমার ঠিক করে জানা নেই। কারণ, একবার রেসিপি জানা গেলে তো আর ছবি আর ফ্লপ হবে না। আসলে সিনেমা বা সিরিজ হিট হয় আপনাদের ভালোবাসায়। তা ছাড়া আমার মনে হয় ‘মির্জাপুর’-এর গল্প, এর প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে মানুষের সত্যিকারের জীবনের চোখাচোখি হয়।

default-image

মানুষকে একাত্ম করে তোলে। একজন অভিনেতা তাঁর সফরের মাধ্যমে শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও নিজেকে সমৃদ্ধ করে। কারণ যে চরিত্রে আমরা অভিনয় করি, সেই চরিত্রের দুঃখ, কষ্ট, অনুভূতি আমরা অনুভব করতে পারি। আর এ সবকিছু আমাদের ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে। এই সিরিজের মাধ্যমে আমি ‘কালিন ভাই’-এর যন্ত্রণা, তার জীবনের এক অন্ধকার দিককে স্পর্শ করতে পেরেছি। তাই প্রতিটি চরিত্র থেকে আমরা মানুষ হিসেবে নিজেদের আরও উন্নত করতে পারি।

default-image

মনে হলো আমাদের পরিবার আবার এক হলো, রসিকা দুজ্ঞল (বীণা ত্রিপাঠি)
‘মির্জাপুর টু’ আমার জন্য দুর্দান্ত আর নতুন এক সফর ছিল। অভিনেত্রী হিসেবে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। কারণ, এই সিরিজের মাধ্যমে আমি নিজেকে প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করতে পেরেছি। আমার ব্যক্তিত্বের থেকে একদম ভিন্ন আমার অভিনীত ‘বীণা’ চরিত্রটি।

আমরা দুজন দুই মেরুর মানুষ। তাই শারীরিক ভাষা থেকে সবকিছুই আমাকে বদলে ফেলতে হয়েছিল। ‘মির্জাপুর টু’-র শুটিংয়ের প্রথম দিন মনে হয়েছিল আমাদের পরিবার আবার এক হলো।

default-image

তবে এই সিরিজের বাইরেও প্রত্যেকের সঙ্গে আমার আলাদা সম্পর্ক আছে। আমরা অনেকেই নিয়মিত নাটক করি। আমি আর বিজয় (ভর্মা) একই ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেছি। দিব্যেন্দু (শর্মা) আর আমি এফটিআইআইয়ে একসঙ্গে পড়তাম। পঙ্কজজির সঙ্গে আগে ‘পাওডার’ বলে একটা ছবি করেছিলাম। শ্বেতা ত্রিপাঠীর সঙ্গে আমি নাটক করি। অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন যে এই সিরিজের সফলতার মূল উপাদান কী। আমার মনে হয় ‘মির্জাপুর’-এর টান টান গল্প তো আছেই। অনেক ছবিতে দেখা যায় গল্পকার চরিত্রগুলো আঁকতে গিয়ে গল্পের সঙ্গে সমঝোতা করে। কিন্তু এখানে তা হয়নি।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0