তাঁকে শেষ রুপালি পর্দায় দেখা গিয়েছিল তেলেগু ছবি ‘অর্জুন রেড্ডি’র হিন্দি রিমেক ‘কবির সিং’–এ। ‘কবির সিং’–এর পর আবার রিমেক ছবিতে তিনি। এ প্রসঙ্গ উঠতেই শহীদ বলেন, ‘প্রথমে আমার মনেও দ্বিধা ছিল। পরপর রিমেক ছবিতে কাজ করতে চাইছিলাম না। আসলে ‘জার্সি’র গল্প আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। জীবনে হার না মানার গল্প। নিজেকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম এই ছবিতে। তাই ছবিটি করতে রাজি হয়ে গেলাম।’

default-image

সংঘর্ষ, আবেগ, ক্রিকেট, ভালোবাসা ছাড়া বাবা-ছেলের সম্পর্ককে ‘জার্সি’ ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে। ছেলেবেলায় শহীদ কেমন ছিলেন, একটু হেসে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় বাড়িতে আমি খুবই দুষ্টু থাকলেও স্কুলে ছিলাম লাজুক প্রকৃতির। তাই কারোর সঙ্গে মিশতে পারতাম না বলে স্কুলে আমার কোনো বন্ধুও ছিল না।’
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ বন্ধু কে, জবাবে শহীদ বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমার প্রচুর বন্ধু আছে। তবে এখনো বিশেষ বন্ধু হয়ে ওঠেনি কেউ।’

default-image

‘জার্সি’ ছবিতে শহীদ তাঁর বাবা পঙ্কজ কাপুরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। বাবার প্রসঙ্গে শহীদ বলেন, ‘বাবার থেকে আমি সব সময় কিছু না কিছু শিখেছি। তবে এই ছবির শুটিং লকডাউনের সময় হয়েছিল। তাই বাবার থেকে এই সময় আরও বেশি কিছু শিখেছি।’
অভিনেতা শহীদকে পঙ্কজ কাপুর কতটা পছন্দ করেন, জবাবে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘বাবার মতে, আগে আমি মোটেও ভালো অভিনেতা ছিলাম না। তবে সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে। এখন বাবার পরীক্ষায় আমি পাস করে গিয়েছি।’

default-image

বৈশাখী বিকেলে আড্ডার সময় উঠে আসে শহীদ আর মীরার সুখী দাম্পত্যের খুঁটিনাটি কথা। ঝগড়ায় শেষ পর্যন্ত কার জিত হয়? সজোরে হেসে শহীদ বলেন, ‘জানেন, নারী আর পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কী। মেয়েরা সবকিছু মনে রাখতে পারে। আর ছেলেরা সবকিছু ভুলে যায়। আমি মীরার কাছে সব সময় হেরে যাই। মীরা আমায় বলে যে মনে আছে ওমুক দিন আমি ওমুক কথা বলেছিলাম। আমি তখন মীরাকে বলি যে আমার কিছুই মনে নেই। এমনকি সে যদি কোনো নতুন গল্প বানায়, সেটাও আমাকে মেনে নিতে হয়।’

default-image

মীরার অভিনয়ে আসার প্রসঙ্গে শহীদ বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে তার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ আছে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর সে-ই দিতে পারবে। আমি তার সিদ্ধান্ত কি করে নিতে পারি। শোনা গিয়েছিল ‘জার্সি’ ছবি দেখার পর মীরা কেঁদে ফেলেছিল।’
তখন শহীদ বলেন, ‘আসলে এই ছবি মীরাকে আমার সংগ্রামের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল। কারণ, আমাদের বিয়ের পর আমার একাধিক সিনেমা ফ্লপ করেছিল। আর তখন সে দেখেছে, আমি কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই ছবিতে বাবা-ছেলের সুন্দর সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মীরার সঙ্গে তার বাবারও দারুণ বোঝাপড়া। তাই কোথাও সে তার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছিল। তাই সব মিলিয়ে সে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল।’

default-image

লকডাউনের দুই বছর কীভাবে কাটিয়েছেন, জবাবে এই বলিউড সুপারস্টার বলেন, ‘লকডাউনে আমি আমার স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে নিজের শহর পাঞ্জাবে দারুণ সময় কাটিয়েছি। অভিনয় এবং ছবির জগৎ থেকে দূরে এক অন্য দুনিয়ায় ছিলাম আমি। আর এই সময়ে আমি ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে খুশি খোঁজার চেষ্টা করেছি। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য যা জরুরি। লকডাউনে আমি এক অন্য দুনিয়াকে আবিষ্কার করেছিলাম। এই সময়ে আমি নিজের হাতে বাগানের পরিচর্যা করতাম। এ ছাড়া ঘরের ছোটখাটো কাজ করতাম।’

default-image

আড্ডার শেষ প্রান্তে উঠে আসে সফলতা আর অসফলতার কথা। তখন শহীদ বলেন, ‘আমি জীবনে একাধিক সুযোগ পেয়েছি। আমি দর্শকের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমার বাজে ছবি দেখার পরও তাঁরা আমাকে আবার সুযোগ দিয়েছেন। ছবি হিট হলে বলি আমাকে আরও ভালো কাজ করতে হবে। আর ছবি ফ্লপ হলে বলি, আমি-ই সেরা। তবে আগে আমার কাছে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বারবার আসত। এখন নানা স্বাদের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আগের থেকে এখন আমি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’
ছবির সফলতা কীভাবে উদ্‌যাপন করেন, হেসে শহীদ বলেন, ‘কিছু না করে। ছবি হিট হওয়ার পর ঘরে শুয়ে, বসে, আরাম করে সময় কাটাই, যা মনে হয় তাই করি, যা ইচ্ছা হয় তাই খাই।’

default-image
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন