বিজ্ঞাপন
default-image

হরিশ ব্যাস পরিচালিত ছবিটি প্রথমে সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ লকডাউনের কারণে নির্মাতারা ছবিটি ওটিটিতে মুক্তি দিয়েছে। তবে এ নিয়ে এতটুকু হতাশ নন জারীন। তিনি ছবির মুক্তির প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই করোনার সময় ছবিটা মুক্তি পেয়েছে, এটাই বড় কথা। আমাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের কাছে যেন ছবিটা পৌঁছায়। ওটিটিতে মুক্তির পর অসংখ্য মানুষের কাছে ছবিটা পৌঁছে গেছে। ব্যস, আর কী চাই।’        

সালমান খানের সঙ্গে ‘বীর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল জারীনের। বলিউডে পা রাখামাত্রই শরীর নিয়ে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ‘মোটা’ বলে জারীনকে নানাভাবে উপহাস করেছেন অনেকে। ‘বডি শেমিং’-এর প্রসঙ্গ উঠতেই স্মিত হেসে তিনি বলেন, ‘ফিল্মে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আমি বডি শেমিংয়ের শিকার। “বীর” মুক্তির পর অনেকে বলেছিল আমি অনেক মোটা। তখন কেউ শরীর নিয়ে কিছু বললে খারাপ লাগত। ক্যারিয়ার শুরুর আগে আমার ওজন ছিল ১০০ কেজি। ৫০ কেজি ঝরানোর পরও আমাকে শুনতে হয়েছে, আমি মোটা। তবে এখন আর এসব খারাপ লাগে না। আমি বলতে চাই, একজন অভিনেত্রীকে তাঁর অভিনয়ক্ষমতা দিয়ে বিচার করা উচিত। তাঁর ওজন, উচ্চতা, বর্ণ—এসব দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এসবই দেখা হয়। ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় বড় মানুষ বডি শেমিং নিয়ে নানা কথা বলেন। কিন্তু তাঁরাই তাঁদের ছবিতে রোগা-পাতলা নায়িকা নেন। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দেখনদারি আর দ্বিচারিতা অনেক বেশি।’

default-image

বলিউডের তথাকথিত রূপসী নায়িকা হিসেবেই জারীনের পরিচয়। তাঁর সৌন্দর্যে কুপোকাত হতো অনেকেই। তবে এই সৌন্দর্য জারিনের ক্যারিয়ারের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি তিনি বেশি সুন্দর বলে ছবি থেকে বাদও পড়েছেন। এ নিয়ে হতাশার সুরে জারিন বলেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরু থেকে প্রত্যাখ্যানকে মাথা পেতে নিয়েছি। তাই এসব এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, আমি বেশি সুন্দর, এই অজুহাতে আমাকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি নাকি কোনো সিরিয়াস ধরনের চরিত্রের সঙ্গে মানানসই নই।’

‘হাম ভি অ্যাকেলে তুম ভি অ্যাকেলে’ ছবিতে মজার রোড ট্রিপ আছে। এ প্রসঙ্গে জারীন বলেন, ‘জানেন, আমি রোড ট্রিপ দারুণ ভালোবাসি। একটু সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিপে বেরিয়ে যাই। মুম্বাই থেকে গোয়া বা চণ্ডীগড় থেকে মানালি। আমি রোড ট্রিপের ওপর একটা শো করতাম। জিপ নিয়ে সারা ভারত ঘুরে বেরিয়েছি তখন।’

default-image

লকডাউনের কারণে এখন ঘরবন্দী জারীন। গত বছর লকডাউনের শুরুতে মজার সব ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। এমনকি এক ভিডিওতে তাঁকে ঘর মুছতে পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে এবারের লকডাউন নিয়ে বেশ বিরক্ত জারিন। তাঁর একাধিক প্রকল্পের কাজ বন্ধ। তিনি বলেন, ‘দুটো পাঞ্জাবি, একটা হিন্দি ছবি, আর একটা সিরিজের শুটিং লন্ডনে হওয়ার কথা ছিল। গত বছর থেকে আমরা অপেক্ষা করছি। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। কবে যে আবার কাজ শুরু করতে পারব। এরই মধ্যে “পাতাল পানি” নামের এক ভৌতিক-হাসির সিরিজের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু করোনার কারণে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বন্ধ আছে।’

করোনাকালে নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছেন জারীন। তারই মধ্যে নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেছেন এই বলিউড নায়িকা। এ প্রসঙ্গে জারীন বলেন, ‘আমি খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। লকডাউনের মধ্যে আমার নানা মারা গেছেন। মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। তারই মধ্যে নিজেকে পজিটিভ রাখার চেষ্টা করছি। আমরা প্রত্যেকে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবাই নিজেদের নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবসাদ ঘিরে ধরছে প্রায় সবাইকে। তাই এই সময়ে সবাই একে অপরের পাশে থাকার চেষ্টা করুন। আর ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে আনন্দ খোঁজার প্রয়াস চালান।’

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন