তাঁর কথায় বাবাও এল, ‘মনে আছে, বাবা পত্রিকায় রিভিউ পড়ে আমাকে ছবি দেখাতে নিয়ে যেতেন। কত ছবি যে বাবার সঙ্গে দেখেছি।’
বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সমর্থনও পেয়ে এসেছেন বলে জানান মাধুরী, ‘শাশুড়িমা আর শ্রীরামকে (স্বামী) সব সময় পাশে পেয়েছি। স্বামী যেহেতু পেশাজীবী মানুষ, তাই আমার কাজের দিকটা ভালোই বোঝে। আমার শাশুড়িমাও আজ পর্যন্ত পেশাগত কাজে ব্যস্ত। তিনিও আমাকে খুবই সাপোর্ট করেন। তাই আমার সংসার আর কাজ, দুই দিক বজায় রেখে চলতে কখনো অসুবিধা হয়নি।’
এই আড্ডায় স্বামী সম্পর্কে একটা তথ্য ফাঁস করেছেন মাধুরী, ‘হরহামেশাই আমাকে নানা সারপ্রাইজ দেয় শ্রীরাম। এ ব্যাপারে সে খুব ওস্তাদ। তবে আমি এ ব্যাপারে খুবই কাঁচা। শ্রীরামকে কোনো সারপ্রাইজই দিতে পারি না। আগেই সে ধরে ফেলে।’

সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনে অগ্রাধিকার বদলে যায়, মনে করেন মাধুরী। তিনি বলেন, বিয়ের আগের জীবন অন্য রকম ছিল। বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গেছে। মা হওয়ার পরও অগ্রাধিকার বদলেছে। এখন পরিবার আর দুই সন্তানকে কেন্দ্র করেই জীবন। মাধুরীর দুই পুত্র আরিন আর রয়ান এখন তারুণ্যের পথে। টিনএজ দুই সন্তানকে মানুষ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং, জানতে চাইলে বলেন, ‘অভিভাবক হিসেবে সময়টা খুবই সাবধানে সামাল দিতে হয়। ওদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হয়। অনেক বিষয় নিয়ে মতানৈক্য হয় নিশ্চয়। তবে বেশ কিছু জিনিস আবার মেনেও নিই। পেরেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে চেষ্টা করি সমতা বজায় রেখে চলতে। কখনো কখনো ওদের চোখ দিয়ে দুনিয়াটা দেখা প্রয়োজন।’

মায়ের শেখানো মূল্যবোধ আর শিক্ষা আজও আঁকড়ে ধরে আছেন মাধুরী, ‘ছোটবেলায় আমি মায়ের বাধ্য মেয়ে ছিলাম। আজও মায়ের দেখানো পথে হাঁটি। আমার দুই ছেলেকেও মায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি। সব সময় মানুষকে তাঁর যোগ্য সম্মান দিতে বলতেন মা। আর অসফলতাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা বলতেন তিনি। মা বলতেন যে পরিশ্রমের ফল সব সময় ভালো হয়। ছোট থেকে প্রচুর পরিশ্রম করতাম। আমার কাজকে ছোট থেকেই ভালোবাসতাম। মনে আনন্দে আর একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করে যেতাম,’ বললেন মাধুরী।