বাংলো কিনতে বিনা পারিশ্রমিকেই ছবি করতে রাজি হয়েছিলেন সালমান

সালমান খানছবি: ইনস্টাগ্রাম

ভারতের ‘প্রথম সুপারস্টার’ রাজেশ খান্না ছিলেন বিলাসী জীবনের প্রতীক। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২—এই সময়ের মধ্যে টানা ১৫টি একক হিট ছবির রেকর্ড, যা আজও অক্ষত। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে তিনি বিপুল সম্পদ ও সম্পত্তির মালিক হন। মুম্বাইয়ের কার্টার রোডে সমুদ্রমুখী একটি বাংলো কিনে তার নাম দেন ‘আশীর্বাদ’। খুব দ্রুতই এই বাংলো হয়ে ওঠে তাঁর অতুলনীয় তারকাখ্যাতির প্রতীক। এই বাংলো একবার কিনতে চেয়েছিলেন সালমান খান।

‘প্রযোজকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন’
গৌতম চিন্তামণির বই ‘ডার্ক স্টার: দ্য লনলিনেস অব বিয়িং রাজেশ খান্না’ বইয়ে বলা হয়েছে, আশীর্বাদে উঠে আসার পর রাজেশ খান্নার ‘রাজা সেজে থাকার আবরণ সম্পূর্ণ হয়’।

এই বইয়ে উল্লেখ আছে, বাংলোর ভেতরে নিজের তথাকথিত ‘দরবারে’ বসে রাজেশ খান্না প্রযোজকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাতেন। অতিথিদের চেয়ে খানিকটা উঁচুতে রাখা চেয়ারে বসে তিনি রাজকীয় ভঙ্গিতে দর্শন দিতেন।

লেখক লিখেছেন, ‘অনেক প্রযোজক তাঁর বিখ্যাত দরবারের বাইরে অনন্তকাল অপেক্ষা করতেন। সময় কাটানোর পরেই কেবল সাক্ষাৎ মিলত। তিনি তাঁর পরিচিত সিল্কের লুঙ্গি-কুর্তা পরে আসতেন এবং অন্যদের চেয়ে একটু উঁচুতে রাখা চেয়ারে বসতেন-রাজা ও প্রজার পার্থক্য বোঝাতে।’

সালমান খান। ফেসবুক থেকে

সীমিত প্রবেশাধিকার
গৌতম আরও লিখেছেন, আশীর্বাদের ভেতরের অংশে প্রবেশাধিকার ছিল হাতে গোনা কয়েকজনেরই। যাঁরা অভিনেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁরা রাতভর উৎসব-উল্লাসে মেতে থাকতেন। ‘শুধু নির্বাচিত কয়েকজনই ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেত। ভেতরে রাতভর সবাই আকণ্ঠ পান করতেন।’

সমালোচনার প্রতি রাজেশ খান্নার অসহিষ্ণুতা
লেখক জানান, সমালোচনা বা ভিন্নমত রাজেশ খান্না একেবারেই সহ্য করতেন না। কেউ তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে বা বিপরীত মত দিলে অনেক সময়ই তাঁকে দরবার ছাড়তে বলা হতো। নাটকীয় ভঙ্গিতে তিনি বলতেন, ‘আপনাকে আমাদের দরবার ছেড়ে যেতে হবে।’

রাজেশ খান্না
ফেসবুক থেকে

রাজেশ খান্নার আর্থিক অবস্থার অবনতি
রাজেশ খান্নার উত্থানের মতোই পতনও ছিল দ্রুত। ১৯৭৩ সালে ‘জঞ্জির’ মুক্তির পর অমিতাভ বচ্চনের উত্থানে রাজেশ খান্নার তারকাখ্যাতি ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে। ‘শোলে’ ও ‘দিওয়ার’–এর পর অমিতাভ তাঁকে ছাড়িয়ে যান। রাজেশ খান্না ফেরার চেষ্টা করলেও আগের সাফল্য আর ফিরে পাননি।

পরবর্তী সময়ে রাজেশ খান্নার আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গুজব ছড়ায় যে তিনি আশীর্বাদ বিক্রি করতে চাইছেন। ঠিক এই সময়েই সালমান খানের ভাই সোহেল খান নাকি বাংলোটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা রাজেশ খান্না একেবারেই মেনে নিতে পারেননি।

বইয়ে আরও উল্লেখ আছে, আয়কর বিভাগ থেকে রাজেশ খান্নার কাছে দেড় কোটিরও বেশি টাকার বকেয়া দাবিতে নোটিশ আসে, যা তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করে দেয়

আরও পড়ুন

সোহেল খান বাংলো কিনতে চেয়েছিলেন, সালমান খান বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার প্রস্তাব দেন

গৌতম চিন্তামণির বই থেকে আরও জানা যায়, সালমান খান চিত্রনাট্যকার রুমি জাফেরিকে ফোন করে জানান যে তাঁর ভাই সোহেল আশীর্বাদ কিনতে আগ্রহী। খান পরিবার নাকি একাধিক আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেয়, এমনকি রাজেশ খান্নার আয়কর বকেয়া মেটানোর কথাও বলে। সালমান খান চুক্তিটি সম্পন্ন করতে মরিয়া ছিলেন এবং রাজেশ খান্নার প্রযোজনায় বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করার প্রস্তাবও দেন।

‘তুই আমাকে রাস্তায় নামাতে চাস’
কিন্তু এই প্রস্তাব শোনার পর রাজেশ খান্নার প্রতিক্রিয়া ছিল আহত সিংহের মতো। রুমি জাফেরি বইয়ে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, “আমি তোকে জামাইয়ের মতো ভাবি, আর তুই আমার বাড়ি বিক্রি করাতে চাস? আমাকে রাস্তায় নামাতে চাস!”-আমি বোঝাতে হিমশিম খেয়েছিলাম যে আমি কেবল বার্তাবাহক।’
বইয়ে আরও বলা হয়েছে, বহু বছর পর দেখা হলে রাজেশ খান্না সোহেল খানকেও এ বিষয়ে বকাঝকা করেছিলেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে