নতুনদের দাপট, আন্তর্জাতিক ছোঁয়া—ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে বৈচিত্র্যের মেলা

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে রাধিকা মদন। এএফপি

মহাসমারোহে শুরু হয়েছে ল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২৬। মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে ১৯ মার্চ শুরু হওয়া চার দিনের এই আয়োজন চলবে ২২ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের নানা প্রান্তের নামী-অনামী ডিজাইনাররা তাঁদের নতুন ভাবনা, নকশা ও বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন-ভাষা নিয়ে হাজির হয়েছেন এ আসরে। আন্তর্জাতিক নানা সংস্কৃতির ছাপ থাকলেও আয়োজনজুড়ে উজ্জ্বলভাবে উঠে এসেছে ভারতীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিকতাও।

উদ্বোধনী দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন দক্ষিণি অভিনেতা সিদ্ধার্থ। ডিজাইনার বিবেক করুণাকরণের শোস্টপার হয়ে তিনি র‌্যাম্পে ওঠেন বাদামি সিল্ক কোট ও মাটির রঙের ড্রেপড ধুতি প্যান্টে। তাঁর উপস্থিতিতে ছিল একাধারে দৃঢ়তা ও প্রশান্তির ছাপ, যা শোর সূচনাতেই আলাদা মাত্রা যোগ করে।

উদ্বোধনী দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন দক্ষিণি অভিনেতা সিদ্ধার্থ। ল্যাকমের ফেসবুক থেকে

বিবেক করুণাকরণের ‘দ্য থাঙ্গাম’ শীর্ষক সংগ্রহে দক্ষিণ ভারতের সোনার সঙ্গে গভীর কিন্তু সংযত সম্পর্ককে আধুনিক আনুষ্ঠানিক পুরুষ পোশাকের ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়েছে কাঁচা সিল্ক, তসর, কাঞ্জিভরম ও সিল্ক অর্গানজা। রঙের প্যালেটে ছিল সোনালি, এক্রু আর মাটির আভা।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সিদ্ধার্থ বলেন, ‘উনি যা-ই ডিজাইন করেন, আমার মনে হয়, সেটা আমি রাজপ্রাসাদেও পরতে পারি, আবার বাড়িতেও।’

প্রথম দিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল ‘দ্য বয়’স ক্লাব’, যেখানে সুশান্ত অ্যাবরলের ‘কান্ট্রিমেড’, ধ্রুব বৈশ এবং সাহিল আনেজার নকশা উপস্থাপিত হয়।
‘কান্ট্রিমেড’ সংগ্রহটি অনুপ্রাণিত স্মৃতিস্তম্ভের স্থাপত্য থেকে। এতে ফিকে জলপাই, পোড়া বাদামি, অক্সিডাইজড ব্রোঞ্জ, সাদা ও কালোর ব্যবহার দেখা গেছে। নকশায় ছিল মাড-রেজিস্ট প্রিন্টিং, কোল্ড পিগমেন্ট ডাইং, ব্রোঞ্জ প্যাটিনা, কাঁথা ও কাঁচা প্রান্তের অ্যাপ্লিকের ব্যবহার।

ধ্রুব বৈশ তাঁর সংগ্রহে সমকালীন পুরুষ পোশাকে নীরব নগরজীবনের প্রতিফলন তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর নকশায় লিনেন, সুতি, ডেনিম ও প্রিন্টেড সিল্ক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে সংযত কিন্তু আধুনিক এক ভাষা।
অন্যদিকে সাহিল আনেজার ‘স্ট্রাটা’ সংগ্রহ অনুপ্রাণিত পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক ভূখণ্ড এবং গলিত পাথরের তরলতা থেকে। বিভিন্ন টেক্সচার ও স্তরবিন্যাসের মাধ্যমে তিনি পোশাকে তৈরি করেছেন আলোছায়ার নাটকীয় বৈপরীত্য।

আরও পড়ুন

প্রথম দিনের শেষভাগে অনামিকা খান্না তাঁর একে ওকে কালেকশন নিয়ে হাজির হন এক ভিন্ন স্বাদের উপস্থাপনায়। এটি তাঁর আগের যেকোনো শোর তুলনায় আলাদা বলেই মনে হয়েছে। অনামিকার সম্ভারে ছিল ঢোলা ধুতি প্যান্ট, অসমমিত রাফল টপ, রিল্যাক্সড কো-অর্ড সেট ও ফ্লোর-লেন্থ গাউন। সবকিছুই এমনভাবে নির্মিত, যাতে তা একই সঙ্গে অনুষ্ঠান ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মানানসই হয়।
নিজের ভাবনা প্রসঙ্গে অনামিকা বলেন, ‘মূল ভাবনাটা ছিল অসম্পূর্ণতা। সবকিছু নিখুঁত না হলেও সেটাকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই সৌন্দর্য আছে।’

প্রথম দিনের শোয়ে দর্শকসারিতেও ছিল তারকাদের উপস্থিতি। আরমান মালিক, আশনা শ্রফ, নেহা ধুপিয়া, অঙ্গদ বেদি, জনিতা গান্ধী ও বনি কাপুরকে দেখা গেছে বিভিন্ন আয়োজনে।

অনামিকা খান্নার ওকে কালেকশন নিয়ে হাজির হন এক ভিন্ন স্বাদের উপস্থাপনায় এক মডেল। ল্যাকমের ইনস্টাগ্রাম থেকে

দ্বিতীয় দিনের শুরু হয় একঝাঁক নবীন প্রতিভাবান ডিজাইনারের বৈচিত্র্যময় সম্ভার দিয়ে। এনআইএফ গ্লোবাল ‘জেন নেক্সট’ আয়োজনের মাধ্যমে ফ্যাশন–দুনিয়ায় অভিষেক হয়েছে তরুণ ডিজাইনারদের। তাঁদের সৃষ্টিতে ভারতীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি উঠে এসেছে জাপান, কোরিয়া ও প্যারিসের নান্দনিক ছোঁয়া। তবে বহির্বিশ্বের এই রেফারেন্সের ভিড়েও ভারতীয় উপাদান ও শিকড়ের উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট।
এদিন এক নবীন ডিজাইনারের পোশাক পরে র‌্যাম্প আলোকিত করেন অভিনেত্রী রাধিকা মাদান।

ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (এফডিসিআই) সহযোগিতায় আয়োজিত ল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২৬-এ আগামী কয়েক দিনজুড়ে আরও নানা চমক নিয়ে হাজির হবেন প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান ডিজাইনাররা।

ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে রাধিকা মদন। এএফপি