আগ্রহের অভাব
হিন্দি ছবি নিয়ে দর্শক আগ্রহ কম—২০২২ সালের প্রায় পুরোটাজুড়েই এমন চিত্র দেখে গেছে। ক্যাটরিনা কাইফের ‘ফোন ভূত’-এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। অনেক সমালোচক মনে করেন, হিন্দি সিনেমা নিয়ে দর্শকের যে ধারাবাহিক অনাগ্রহ, সেটা এ ছবিকেও প্রভাবিত করেছ।

দক্ষিণের ছবি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ
চলতি বছর হিন্দি সিনেমা দর্শকের আগ্রহ কমেছে, উল্টো বেড়েছে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ। ‘ফোন ভূত’ যে সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে, একই সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে তামিল ছবি ‘লাভ টুডে’। ‘ফোন ভূত’ নিয়ে দর্শকের তেমন আগ্রহ না থাকলেও তামিল ছবিটি ঠিকই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছে।

ক্যাট ছাড়া বড় তারকা না থাকা
‘ফোন ভূত’-এ বড় তারকা বলতে আছেন ক্যাটরিনা কাইফ। বাকি দুই অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও ঈষান খাট্টার এখনো ততটা জনপ্রিয় নন। হিন্দি ছবি এখনো মোটাদাগে বড় তারকানির্ভর। বড় তারকা না থাকা ছবিতে কম দর্শক হওয়ার বড় কারণ।

চিত্রনাট্যে গন্ডগোল
চলতি বছর হরর-কমেডি ধাঁচের ছবি ‘ভুল ভুলাইয়া ২’ সুপারহিট হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, সুপার ন্যাচারাল কমেডি ঘরানার ‘ফোন ভূত’ও একই পথে হাঁটবে। কিন্তু সেটা বাস্তবে হয়নি। অনেক সমালোচক মনে করেন, ছবিটির চিত্রনাট্যে দর্শক টানার মতো উপাদান খুব বেশি ছিল না। গল্প কোথাও ভালোভাবে এগিয়েছে, কোথাও আবার খাপছাড়া হয়ে গেছে।

প্রচারের অভাব
কোভিডের পর বলিউড তারকারা ছবি প্রচারে ব্যাপক মনোযোগী হয়েছেন। মুম্বাই তো বটেই, ছবির প্রচারে ভারতজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু ‘ফোন ভূত’ নিয়ে সেভাবে প্রচার করতে দেখা যায়নি।

অভিনয়ে দুর্বলতা
ক্যাটরিনা কাইফ নাচ ও গ্লামারাস উপস্থিতির জন্য যতটা প্রশংসিত হন, অভিনয়ের জন্য ততটা নন। এ ছবিতেও কয়েকটি দৃশ্যে ভালো অভিনয় করলেও পুরো ছবিতে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব ছিল মনে করেন সমালোচকেরা।

দর্শকের নেতিবাচক রিভিউ
ভারতীয় উপমহাদেশে এখনো ছবি দেখতে আসা দর্শকের মুখে শুনে আরেক দর্শক ছবিটি দেখতে আগ্রহী হন। কিন্তু ‘ফোন ভূত’-এর ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

এক্স ফ্যাক্টরের অভাব
গল্প, অভিনয়সহ নানা দুর্বলতা থাকলেও অনেক ভারতীয় ছবি হিট হয়ে যায়। কোনো ক্ষেত্রে গান, কোনো ক্ষেত্রে ছবির অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নানা বিতর্ক কাজ করে। এ ছাড়া ছবিতে কেউ দুর্দান্ত পারফর্ম করে একাই টেনে নেন। কিন্তু এ ছবির ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

সাধারণ দর্শকের আগ্রহের অভাব
‘ফোন ভূত’ ঠিক বলিউডের প্রচলিত মাসালা ছবি নয়। ছবিটিতে সাধারণ দর্শক পছন্দ করে এমন ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যাপার নেই। এটা সাধারণ দর্শকের কাছে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ কম হওয়ার আরেকটি কারণ। ছবিতে অনেক কিছু নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই সাধারণ দর্শক বুঝতে পারেননি।

বাজে সমাপ্তি
অনেক সমালোচক ছবিটিতে কম নম্বর দিয়েছেন শুধু বাজে সমাপ্তির কারণে। তাঁদের মতে, পুরো ছবিটি গড়পড়তা মানের হলেও শেষটা একেবারেই জমেনি। এটাও ‘ফোন ভূত’ নিয়ে এত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ।