বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান মারা গেছেন
নামটি শুনে হয়তো অনেক দর্শককে একটু ভাবতে হবে। কিন্তু ছবিটি দেখামাত্রই চিনে ফেলবেন—হিন্দি সিনেমার সেই চেনা মুখ। কখনো কয়েক মিনিটের চরিত্র, কখনো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র; আবার কখনো ছোট্ট একটি দৃশ্যেই হাসিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ‘ওয়েলকাম’-এ তাঁর বলা একটি সংলাপ তো বছর পেরিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম হয়ে ঘুরে বেড়ায়। সেই অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা গেছেন হিন্দি সিনেমার পরিচিত এই চরিত্রাভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) সভাপতি বি এন তিওয়ারি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
মুশতাকের ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিনেতার মৃত্যু হয়। তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। চিকিৎসার পর একসময় সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তবে আট দিন আগে ক্যানসার আবার ফিরে আসে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ক্যানসার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। শুক্রবার তাঁর দাফন হওয়ার কথা।
ছোট চরিত্র, বড় পরিচিতি
চার দশকের বেশি সময় ধরে হিন্দি সিনেমায় কাজ করেছেন মুশতাক খান। নায়ক ছিলেন না; অধিকাংশ ছবিতে তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু স্বাভাবিক অভিনয় আর কমিক টাইমিং দিয়ে বহুবার তারকাদের ভিড়েও আলাদা করে নজর কেড়েছেন। অল্প সময়ের উপস্থিতিকেও স্মরণীয় করে তোলার ক্ষমতা তাঁকে হিন্দি সিনেমার পরিচিত চরিত্রাভিনেতাদের একজন করে তুলেছিল।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন মুশতাক। এরপর ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’,
‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘ও মাই গড!’সহ অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন।
প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু মুশতাকের অভিনয় থামেনি। নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘স্ত্রী’, ‘বাধাই দো’, ‘গদর ২’ ও ‘স্ত্রী ২’-এর মতো ছবির মাধ্যমে। পরের দিকে তাঁর কাজের তালিকায় যুক্ত হয় ‘বনবাস’, ‘বেবি জন’, ‘ধুম ধাম’ ও ‘জাত’।
বড় পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনেও নিয়মিত কাজ করেছেন মুশতাক। ‘কুছ রং প্যায়ার কে অ্যায়সে ভি’সহ বিভিন্ন ধারাবাহিকে দেখা গেছে তাঁকে। ওয়েবের কাজেও যুক্ত হয়েছিলেন। সিনেমা থেকে টেলিভিশন, পরে ওটিটি—বিনোদনের মাধ্যম বদলালেও অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
‘মেরি এক টাং নকলি হ্যায়…’
মুশতাক খানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে। আনিস বাজমি পরিচালিত ২০০৭ সালের ছবিতে অক্ষয় কুমার, নানা পাটেকর, অনিল কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকাদের ভিড়েও অল্প সময়ের উপস্থিতিতে দর্শকের মনে দাগ কাটেন তিনি।
ছবিতে নানা পাটেকরের উদয় শেট্টির দলের এক সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেন মুশতাক। নিজের নকল পায়ের গল্প বলতে গিয়ে তাঁর চরিত্রটি জানায়, একসময় সে বড় হকি খেলোয়াড় ছিল। ‘মেরি এক টাং নকলি হ্যায়…’ দিয়ে শুরু হওয়া সেই গল্প এরপর গড়ায় ‘উদয় ভাই’-এর প্রসঙ্গে।
মুশতাকের সংলাপ বলার ভঙ্গি ও অভিব্যক্তিই দৃশ্যটিকে স্মরণীয় করে তোলে। সময়ের সঙ্গে দৃশ্যটি যেন ছবিকেও ছাড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মিম ও ভিডিওতে ব্যবহৃত হয়েছে তাঁর সেই সংলাপ। ‘ওয়েলকাম’ মুক্তির প্রায় দুই দশক পরও নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে এই দৃশ্য দিয়েই পরিচিত মুশতাক খান।
‘গদর’-এর গুল খান
মুশতাকের আরেকটি পরিচিত চরিত্র ‘গদর: এক প্রেম কথা’র গুল খান। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া সানি দেওল ও আমিশা প্যাটেল অভিনীত ছবিতে এই চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। দুই দশকের বেশি সময় পর ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গদর ২’-তেও ফিরে আসেন তিনি।
আশির দশক থেকে সাম্প্রতিক সময়—দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা প্রজন্মের তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন মুশতাক খান। কমেডি থেকে সিরিয়াস চরিত্র, বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে টেলিভিশন—বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। ছোট চরিত্রকেও আলাদা বৈশিষ্ট্য দেওয়ার দক্ষতাই তাঁকে দর্শকের কাছে এত পরিচিত করে তুলেছিল।