চার বছরেই ভেঙে গেল জনপ্রিয় নায়িকার সংসার

হানসিকা মোতওয়ানি ও সোহেল কাঠুরিয়া। ইনস্টাগ্রাম থেকে

উদয়পুরের মুন্ডোটা ফোর্ট অ্যান্ড প্যালেসে বসেছিল রাজকীয় বিয়ের আসর। ২০২২ সালের সেই ডিসেম্বরে সোহেল কাঠুরিয়ার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন হানসিকা মোতওয়ানি। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক বছরের মাথায়ই বেজে গেল বিচ্ছেদের সুর। সম্প্রতি আদালত তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আরজি মঞ্জুর করেছেন। আর এর সঙ্গেই প্রকাশ্যে এসেছে কেন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এই চর্চিত দম্পতি।
আদালতে পেশ করা পিটিশন বা আরজিতে হনসিকা ও সোহেল তাঁদের সম্পর্কের অবনতির বেশ কিছু দিক তুলে ধরেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের চিন্তাধারা ও জীবনযাত্রার মধ্যে বিস্তর ফারাক ধরা পড়ে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে বাড়তে তা চরমে পৌঁছায়।

দীর্ঘদিনের বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের মধ্যে সেই মানসিক সংযোগ আর অবশিষ্ট নেই। তিক্ততা বাড়িয়ে না রেখে দুজনেই সম্মতির ভিত্তিতে আইনিভাবে আলাদা হওয়ার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।
হনসিকার সঙ্গে সোহেলের বিয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। কারণ, সোহেল ছিলেন হানসিকার খুব কাছের বন্ধু রিংকি বাজাজের প্রাক্তন স্বামী। এমনকি সোহেল-রিংকির প্রথম বিয়েতে হানসিকাকে উপস্থিত থাকতেও দেখা গিয়েছিল। সেই সময় অনেকেই হনসিকার দিকে আঙুল তুলেছিলেন। তবে অভিনেত্রী সব সময়ই দাবি করেছিলেন যে সোহেলের প্রথম বিয়ে ভাঙার পেছনে তাঁর কোনো হাত নেই। মাত্র তিন বছরে হনসিকার বিয়ে ভাঙতেই অনেকেই এটাকে ‘কর্মফল’ বলে নায়িকাকে কটাক্ষ করছেন।

হানসিকা মোতওয়ানি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে হানসিকা সোহেলের কাছ থেকে কোনো খোরপোশ দাবি করেননি। হানসিকা দীর্ঘদিন ধরে বিনোদনজগতের প্রথম সারির অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা হানসিকা আর্থিকভাবে যথেষ্ট সফল ও স্বাধীন। তাই তিনি প্রাক্তন স্বামীর ওপর আর্থিক নির্ভরতা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিয়ের ভিডিও সিরিজের আকারে এক নামী ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে বেচেছিলেন নায়িকা। ডিজনি প্লাস হটস্টারে আজও স্ট্রিম হচ্ছে হনসিকা-সোয়েলের বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান। কিন্তু সম্পর্কই টিকল না!

বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও হানসিকা আপাতত নিজের ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করতে চান। দক্ষিণি সিনেমা এবং বেশ কিছু বড় প্রজেক্ট এখন তাঁর হাতে। অন্যদিকে সোহেলও তাঁর ব্যবসায়িক জীবন নিয়ে ব্যস্ত।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে