কী আছে এই মানুষটার মধ্যে? যিনি ১৯৬৫ সালের এই দিন অর্থাৎ ২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বলিউডে যাঁর অভিষেক ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়ক হিসেবে এই বলিউড সুপারস্টারকে শেষ পর্দায় দেখা গেছে ২০১৮ সালে জিরো ছবিতে। সে অর্থে টানা চার বছর বড় পর্দা থেকে দূরে। শেষ কবে হিট ছবি দিয়েছিলেন তা নিয়ে আছে বিতর্ক। এতকিছুর পরও এই তারকার খ্যাতি সমান উজ্জ্বল। ছবি হিট-ফ্লপের কোনো প্রভাব পড়ে না তাঁর স্টারডমে। তিনি তারকাদের তারকা। যশপ্রার্থী নবীন তারকা থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরাও প্রিয় বা আদর্শের তালিকায় তাঁর নামটি উচ্চারণ করেন। রাজনীতিবিদ থেকে ব্যবসায়ী, সবার পছন্দের নায়কের তালিকায় নামটি থাকে। নায়িকাদের পছন্দের অভিনেতা শাহরুখ। তাঁর সঙ্গে রোমান্সের সঙ্গী হতে চান, যেতে চান ভ্রমণে।

শেষ কবে হিট ছবি দিয়েছিলেন তা নিয়ে আছে বিতর্ক। এতকিছুর পরও এই তারকার খ্যাতি সমান উজ্জ্বল। ছবি হিট-ফ্লপের কোনো প্রভাব পড়ে না তাঁর স্টারডমে। তিনি তারকাদের তারকা। যশপ্রার্থী নবীন তারকা থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরাও প্রিয় বা আদর্শের তালিকায় তাঁর নামটি উচ্চারণ করেন।

যেমনটা হয়, জন্মদিনের আগের রাত থেকেই শত শত মানুষ ভিড় করেন মান্নাতের সামনে। শুধু ক্ষণিকের দেখার আশায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। কাঠফাটা রোদ্দুর, আরব সাগরের উষ্ণ দমকা হাওয়া, পুলিশের লাঠিপেটা—সবকিছু অগ্রাহ্য করে এদিন যেন তাঁরা বাধাহীন। বলাবাহুল্য আজও এমনটিই হবে। শাহরুখের এক ভক্ত প্রতিবছর এই বিশেষ দিনে রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মান্নাতে ছুটে আসেন। চল্লিশোর্ধ্ব পঙ্কজ ক্ষত্রি জানান, ‘আমি বাদশাহর জন্মদিনে তাঁর নামে পূজা দিই। তাই প্রসাদ পৌঁছে দিতে এখানে আসি।’

এদিকে উত্তর প্রদেশের আব্বাস শেখ শুধু জন্মদিনে নয়, ঈদের দিনেও মান্নাতের সামনে যান। আব্বাস বলেন, ‘শাহরুখের ছবি চলুক বা না চলুক, এতে আমাদের কোনো যায় আসে না। আমাদের হৃদয়জুড়ে তিনি থাকবেন। আমার ৮০ বছরের মা-ও তাঁর ভক্ত।’

বাংলাদেশ থেকে তরুণী ডেইজি রহমান বলেন, মুম্বাই এলে আর কোথাও না গেলেও শাহরুখের বাড়ির সামনে একবার আসবই। ভাবি যদি কোনো একদিন স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়ে যায়। নায়ক বলতে তো আমি শাহরুখকেই বুঝি।’
শাহরুখ নিজেও তাঁর ভক্তদের ব্যাপারে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। এক সাক্ষাৎকারে কাজল বলেছিলেন, ‘বিদেশে একবার শুটিংয়ের সময় শাহরুখের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। তবু সে তাঁর ভক্তদের সঙ্গে দেখা করে সময় কাটিয়েছিল।’
উচ্চতা মাঝারি, গায়ের রং সে অর্থে উপমহাদেশের নায়কোচিত নয়, আর তিনি নিজেই নিজের নাক নিয়ে মজা করেন। তাই সব মিলিয়ে দেখতে তিনি মোটেও আহামরি নন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পর্দায় বা পর্দার বাইরে তাঁর উপস্থিতি হাজার হাজার তরুণীর হৃদয় আজও চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। তাই শাহরুখের নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে ‘কিং অব রোমান্স’-এর তকমা।

উচ্চতা মাঝারি, গায়ের রং সে অর্থে উপমহাদেশের নায়কোচিত নয়, আর তিনি নিজেই নিজের নাক নিয়ে মজা করেন। তাই সব মিলিয়ে দেখতে তিনি মোটেও আহামরি নন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পর্দায় বা পর্দার বাইরে তাঁর উপস্থিতি হাজার হাজার তরুণীর হৃদয় আজও চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়।

সাতান্নতে দাঁড়িয়ে আজও তারুণ্যের প্রতীক তিনি। বয়স নিয়ে মোটেও মাথা ঘামান না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘এতগুলো বছর যা ছিলাম, তা-ই আছি। শরীরে অনেক ব্যথা-যন্ত্রণা আছে, তবু নিজেকে সুস্থ মনে করি।’

জন্মদিনে ভারতজুড়ে মানুষ শাহরুখের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। কিন্তু বিশেষ দিনে তিনি নিজে কী চান? হেসে শাহরুখ জবাব দিয়েছিলেন, ‘জীবনের নানা পর্যায়ে একেক রকম চাওয়া থাকে। তবে একটা জিনিস সব সময় চাই, যেন সুস্থ থাকি। আমার সন্তানেরা যেন সুস্থ থাকে।’

কয়েক বছর আগের কথা। সেবার জন্মদিনের আগের রাতে আলীবাগে নিজের বাগানবাড়িতে বলিউডের বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করেছিলেন তিনি। জন্মদিনে সকাল থেকে মান্নাতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের আনাগোনা। গোধূলিবেলায় মান্নাতের বারান্দায় এসে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলিউড বাদশাহ। এরপর আবার তাঁর বাংলো থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পাঁচতারা হোটেল তাজল্যান্ডে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে বেশ কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছিলেন শাহরুখ। প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি একগুচ্ছ লাল গোলাপ তুলে দিয়েছিলেন বলিউড বাদশাহর হাতে। গোলাপের তোড়া হাতে নিয়ে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশের ভক্তদের উদ্দেশে। এক সাংবাদিক বন্ধু তাঁকে ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন। সেই ঘড়ি শাহরুখ পরম যত্নে নিজের হাতে পরে নিয়েছিলেন।
কিং খান জানান, ছোটবেলায় বাবা তাঁর জন্মদিনে উপহার হিসেবে পুরোনো টেপরেকর্ডার, টাইপরাইটার, ক্যামেরাসহ পুরোনো অনেক জিনিস দিতেন। আজও তিনি সযত্নে আগলে রেখেছেন তাঁর বাবার দেওয়া সেসব উপহার।

উপহারের প্রসঙ্গে মজার ছলে বলেছিলেন, ‘কেউ এখন উপহার দিতে চান না। সবাই বলে একে কী দেব, এর তো সবকিছুই আছে। এক ভক্ত তাবিজ উপহার দিয়েছিলেন। আমার কাছে সেটা খুব মূল্যবান। তবে সবার ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা এসবই সেরা উপহার।’ এদিন রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার পর শাহরুখ ছুটে যান তাজল্যান্ডের অপর এক কক্ষে। সেখানে ছিলেন নানা বয়সী অ্যাসিডে দগ্ধ নারী।

শাহরুখের জন্মদিনের আসরে শামিল হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাসিড হামলার শিকার নারীরা। তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। এভাবে ঘড়িতে তখন রাত ১১টা বেজে গেছে। কিন্তু তখন তিনি যেন ২৫ বছরের তরুণ তুর্কি। সারা দিনের ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে। এই রাতে কেক কেটে, নাচ–গান করে শাহরুখ তাঁর ফ্যান ক্লাবের ভক্তদের সঙ্গে খুশিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। অগণিত দর্শক–ভক্তকে যেমন খুশিতে রেখেছেন, বছরের পর বছর।

গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহরুখের ব্যবস্থাপক আজকের কোনো কর্মসূচি জানাননি। তবে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সাগরপাড়ের মায়ানগরীতে উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। জন্মদিন সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মান্নাত। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মদিনেই বহুপ্রতীক্ষিত  ‘পাঠান’ ছবির টিজ়ার প্রকাশ্যে আসবে।

এমনিতে মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে নিয়মিত শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবিটি দেখানো হয়।

আজ জন্মদিনে সেই ছবি আবার দেখানো হবে মুম্বাইসহ ভারতের পিভিআর, সিনেপলিস এবং আইনক্সসহ বেশ কিছু মাল্টিপ্লেক্সে।  শাহরুখের জন্মদিনের আনন্দে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে গমগম করে চলবে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’।আজ বুধবার সকাল সকাল ভক্তরা মান্নাতের সামনে ভিড় করবেন। পিছিয়ে নেই বিদেশও। নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড থেকেও শাহরুখের ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা মুম্বাইতে হাজির হয়েছেন। নেট–দুনিয়ায় ভক্তরা তাঁদের বাদশাহের জন্মদিন উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন।