৫০০ লিটার পেট্রল! বিস্ফোরণ ও আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে রণবীর

‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমায় রণবীর। আইএমডিবি

‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির এখনো নানান কারণে বারবার চর্চায় উঠে আসছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য, যেখানে রণবীর সিং এবং অর্জুন রামপালের মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখানো হয়েছে। দৃশ্যটি নিয়েই সম্প্রতি সামনে এসেছে এক বড় তথ্য। ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য নিয়ে এমন এক তথ্য সামনে এসেছে, যা শুনে অবাক হতে হয়। সাধারণত বড় বাজেটের অ্যাকশন দৃশ্যে ‘কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজরি’ বা কম্পিউটার-উৎপন্ন চিত্র (সিজিআই) ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এই ছবির ক্লাইম্যাক্সে নির্মাতারা বাস্তবের ওপরই ভরসা করেছেন।

সম্প্রতি আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর ২’ ছবির এসএফএক্স (স্পেশাল এফেক্টস) সুপারভাইজার বিশাল ত্যাগী জানিয়েছেন, ‘ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটি সম্পূর্ণ বাস্তবে শুট করা হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের ভিএফএক্স বা সিজিআই ব্যবহার করা হয়নি।’
জানা গেছে, প্রথমে প্রোডাকশন টিম ২৫০ লিটার পেট্রল ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পরে দৃশ্যটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে তা বাড়িয়ে ৫০০ লিটার করা হয়।

বিশাল ত্যাগী বলেন, ‘ওই দৃশ্যের জন্য প্রায় ৫০০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিস্ফোরণের জন্য কয়েক কেজি বিস্ফোরকও ব্যবহার করা হয়। শুধু তা–ই নয়, বিস্ফোরণের প্রভাব জোরালো করতে প্রতিটি ট্যাংকারে প্রায় ২৫ কেজি বিস্ফোরকও বসানো হয়েছিল। এই পুরো শুটিং ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ ত্যাগীর কথায়, ‘পুরো দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে দর্শকদের কাছে তা একেবারে বাস্তব মনে হয়। লোকেশন, ট্যাংকার, কনটেইনার—সবই আসল ছিল এবং বিস্ফোরণের প্রতিটি অংশও বাস্তবেই করা হয়েছে।’

বিশাল ত্যাগী আরও জানান, ‘ক্লাইম্যাক্সে একটি বড় ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়। সেই দৃশ্যে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শুটিংয়ের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।’

‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমার ট্রেলারে রণবীর। এক্স থেকে

সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এই বিপজ্জনক দৃশ্যের মধ্যেই ছিলেন রণবীর সিং। আগুন, বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের অংশের অভিনয় করেছেন, তা–ও কোনো বডি ডাবল ছাড়াই। বিশাল রণবীরের প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রণবীরকে নিরাপদ রাখা। আগুনের লেলিহান শিখা যাতে তাঁর কাছে না পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। কারণ, তিনি বিস্ফোরণের একেবারে কাছ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেই অনুযায়ী শটের ব্লকিং এবং তাঁর গতিবেগ পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’ রণবীরকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন বিশাল। তাঁর কথায়, ‘শুটিংয়ের সময় রণবীর সিং-ই ছিলেন সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। অর্জুন রামপালকে বিস্ফোরণের দৃশ্যের আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু রণবীর পুরো দৃশ্যটি কাছ থেকে সম্পন্ন করেছেন’। ত্যাগী আরও বলেন, ‘আমি রণবীরকে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম যে কোথা থেকে এবং কীভাবে হাঁটতে হবে। রণবীর পুরো টিমের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং নির্ভয়ে শটটি দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন

বিশাল জানিয়েছেন যে এই দৃশ্য শুট করতে পুরো টিমকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করতে হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। তিনি জানান, ‘এই ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের সময় পুরো টিমের শ্বাস যেন আটকে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে শুট সম্পন্ন হয় এবং রণবীর সিংয়ের সাহসী পারফরম্যান্স এই দৃশ্যকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।’

ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

‘ধুরন্ধর ২: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসেও ভালো পারফরম্যান্স করছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে। ছবিটি এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৭৮২ কোটি আয় করেছে। ‘ধুরন্ধর ২’-তে রণবীর ছাড়া আছেন সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, রাকেশ বেদি, সারা অর্জুনসহ আরও অনেকে।