গায়িকা হতে এসে নায়িকা

মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান শেখা শুরু করেছিলেন লিসা মিশ্রা। মার্কিন মুলুকে বেড়ে ওঠা লিসা মুম্বাইতেও গায়িকা হতেই এসেছিলেন। তবে গানের পাশাপাশি এখন অভিনয়ের খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন তিনি। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সিরিজ ‘কল মি বে’ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু। এরপর নেটফ্লিক্সের ‘দ্য রয়্যালস’-এ নজর কেড়েছেন লিসা। মুম্বাইয়ের সান অ্যান্ড স্যান্ড হোটেলে লিসার সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য

লিসা মিশ্রাশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আড্ডার শুরুতে লিসা বলেন, ‘১৩ বছর বয়সে নিজের ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেছিলাম। আমার ভিডিও দেখে এক প্রযোজক আমাকে মুম্বাই আসতে বলেন। সাত বছর আগে মুম্বাইতে আসি। ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ ছবিতে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ দেন সোনম কাপুর। কাপুর পরিবার আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল। তবে পরের যাত্রাটা একদমই আমার নিজের ছিল। আমাকে এই পথ একলা চলতে হয়েছিল। আমাকে তখন নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।’ কিছুটা দম নিয়ে আবারও বলেন, ‘বুঝতে পারছিলাম বিনোদন দুনিয়ার অসংখ্য দরজা এখানে খোলা। মুম্বাইতে আসার পর থেকেই অডিশন দিতে শুরু করেছিলাম। “কল মি বে”-তে সুযোগ পাওয়ার আগে ৫০টির মতো অডিশন দিয়েছিলাম। অডিশন দেওয়া আমার জন্য চাকরির ইন্টারভিউয়ের মতো ছিল। তবে ‘প্রত্যাখ্যান’কে আমি সহজভাবেই নিতাম। মনে করতাম, চরিত্রটার জন্য উপযুক্ত নই বলে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

লিসা মিশ্রা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বুঝতেই পারছেন, আর দশজন নবীনের মতো লিসার মুম্বাইয়ের শুরুটা কতটা কঠিন ছিল। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘সাত বছর আগে আমি হিন্দি ভালো জানতাম না। তাই হিন্দি শেখা শুরু করি। ইন্ডাস্ট্রির ধরন–ধারণ কিছুই বুঝতাম না। আমাকে সেসব শিখতে হয়েছিল। বুঝেছিলাম এটা আমার একার লড়াই। আমাকে একাই লড়তে হবে। তবে আজ যে জায়গায় আমি পৌঁছেছি, তাতে আমি খুব খুশি। গান আমার শ্বাসপ্রশ্বাস আর অভিনয়কে আমি আরও আবিষ্কার করতে চাই, বুঝতে চাই। চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। আমাকে খুব টানে অভিনয়।’গান, অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও দুর্দান্ত ছিলেন লিসা। অর্থনীতি নিয়ে স্নাতক, ফলাফলও ভালো। তবে অভিনয় ও গানের ক্ষেত্রে সব সময় পরিবারের সমর্থন পেয়ে এসেছেন লিসা। অভিনেত্রী-গায়িকা বলেন, ‘মা–বাবা আমার কোনো কিছুতে বাধা দিতেন না। তাঁরা খালি বলতেন, যা-ই করি না কেন, পড়াশোনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।’আমেরিকাতে বড় হলেও বলিউড ছায়াছবি দ্বারা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত লিসা। শাহরুখ খান তাঁর প্রিয় তারকা।

লিসা মিশ্রা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তিনি বলেন, ‘আমরা এনআরআইরা (অনাবাসী ভারতীয়) শাহরুখের অনেক বড় ভক্ত। এ ছাড়া আলিয়া ভাট ও দীপিকা পাড়ুকোনের সিনেমা মন ভরে দেখি।’ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা লিসা ‘স্বজনপ্রীতি’-র শিকার হয়েছেন কি না, তা জানতে চাইলে, তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে স্বজনপ্রীতি আছে নিশ্চয়। তবে সরাসরি এর শিকার আমি হইনি। তবে আমার বিশ্বাস আলিয়া ভাট, ফারহান আখতার ফিল্মি পরিবারের হয়েও নিজেদের প্রতিভার জোরে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন। তাঁদের শুরুটা হয়তো সহজ ছিল, কিন্তু বাকিটা তাঁদের নিজেদের করতে হয়েছে। নইলে এখানে টিকতে পারতেন না।’ লিসা মনে করেন যে সিনেমার জগতের চেয়ে সংগীত দুনিয়ায় বেশি লিঙ্গবৈষম্য আছে। তাঁর কথায়, ‘সংগীত দুনিয়ায় পুরুষদের আধিপত্য বেশি। তবে গত সাত বছরে মিউজিক দুনিয়ায় আমি কিছুটা বদল দেখছি।

লিসা মিশ্রা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সংগীতের নানা বিভাগে এখন মেয়েদের দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, সামনে আরও বদলাবে।’‘দ্য রয়্যালস’-এর মতো সিরিজে কাজ করে দারুণ খুশি লিসা। তিনি এই সিরিজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই সিরিজে কাজ করা আমার জন্য রাজকীয় অভিজ্ঞতা ছিল। ঈশান (খট্টর) বা ভূমি পেড়নেকরের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করে দারুণ লেগেছে। আর জিনাত (আমান) ম্যাম অত্যন্ত জ্ঞানী, বুদ্ধিমতী আর আন্তরিক। ওনার সান্নিধ্যে অল্প সময়ের জন্য এসে আমি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি।’