অতি আত্মবিশ্বাসই কাল হয়েছিল, অকপট স্বীকারোক্তি আমিরের
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান এখনো ভুলতে পারেননি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা’র বক্স অফিস ব্যর্থতা। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তিনি অকপট স্বীকার করেছেন, এ ব্যর্থতার পেছনে তাঁর নিজের ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ই বড় কারণ।
‘ওভারকনফিডেন্ট’ ছিলেন আমির
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নে আমির বলেন, ‘পরপর অনেক সাফল্যের পর আমি একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ছবিটি সহজেই ৩০০ কোটি রুপি আয় করবে।’
প্রায় ২০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ছবিটি বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩০ কোটি, যা নির্মাণব্যয়ের তুলনায় হতাশাজনক।
‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ বনাম ‘লাল সিং চাড্ডা’
এর আগে ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’-এর ব্যর্থতা নিয়ে আমিরের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ওই ছবি ভালো হয়নি, এটা আমি নিজেও বুঝেছিলাম। তাই দর্শক আর আমি একই জায়গায় ছিলাম।’ কিন্তু ‘লাল সিং চাড্ডা’র ক্ষেত্রে তাঁর বিশ্বাস ছিল, এটি একটি ভালো ছবি। তাই ব্যর্থতা তাঁকে বেশি নাড়া দিয়েছে।
ভেঙে পড়া, তারপর ঘুরে দাঁড়ানো
ছবির ব্যর্থতা আমিরকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দেয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি যেন শোকের মধ্যে ছিলাম। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম, ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম।’
আমির খান এমনও বলেন, ছবিটির ব্যর্থতা তাঁর কাছে ‘সন্তান হারানোর মতো’ অনুভূতি তৈরি করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে সামলে নেন, ‘আমি আমার অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখি না। যা অনুভব করি, মনকে তা পুরোপুরি অনুভব করতে দিই।’
ব্যর্থতার মধ্যেও প্রাপ্তি
এই কঠিন সময়ে পাশে ছিল আমির খানের পরিবার। মা, সন্তান, দুই সাবেক স্ত্রী—সবাই নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। স্বভাবসুলভ রসিকতা মিশিয়ে আমির বলেন, ‘এত যত্ন আমি জীবনে কখনো পাইনি! যদি জানতাম, ফ্লপের পর এত ভালোবাসা পাব, তাহলে আরও দু-একটা ফ্লপ দিতাম!’
‘লাল সিং চাড্ডা’ ছিল হলিউডের ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর অফিশিয়াল হিন্দি রিমেক। মুক্তির সময় প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু দর্শকের সঙ্গে সেই সংযোগ তৈরি হয়নি
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে