ওই ছবিতে ‘নায়েন দিভানি এক নাহি মানে’ গানের সুর পুরোপুরি ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’ গানের অনুকরণে করেছেন। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ছবিতে ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ গানটি রূপান্তর করেন ‘যায়ে তো যায়ে কাহা’ শিরোনামে। তালাত মাহমুদের কণ্ঠে গানটি দেবানন্দের ঠোঁটে ছিল।
অমিতাভ-জয়া জুটির ‘অভিমান’ ছবিটি দেখেননি, গত শতকের সত্তর-আশি দশকে নিয়মিত ছবি দেখতেন, এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ ছবির সব কটি গানই জনপ্রিয় হয়। ছবিতে অমিতাভ ও জয়া—দুজনই সংগীতশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। এ ছবিতে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে র‌্যায়না’ গানটি পুরোপুরি ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ গানের অনুকরণে। গানটির সুর নিলেও নতুন কথায় বেঁধেছিলেন শচীন দেববর্মন। কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিশোর কুমার ও লতা। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৩ সালে।

একসময় বাপ্পি লাহিড়ীরাও শচীনের পথ ধরেন। রাজেশ রোশন, হেমন্ত কুমার, পঙ্কজ মল্লিকরাও তাঁদের পর্দায় রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহার করেন। ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’, ‘মনে রবে কিনা’ কিংবা ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি’র মতো রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গানগুলো অনুকরণের প্রচেষ্টা ছিল বলিউডে।
‘মনে রবে কিনা’ থেকে ‘বাচপান কে দিন’
‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’র স্রষ্টা নওশাদ আলীকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা সংগীত পরিচালক বলা হয়ে থাকে। বলিউডের সবচেয়ে হিট বেশ কিছু ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। মেলোডি সুরকার হিসেবে তিনি অতুলনীয়। এ সুরকার রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন তাঁর অন্যতম আলোচিত গান ‘বাচপান কে দিন ভোলা না দেনা’ গানটিতে। ১৯৫১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিদার’ ছবির গানটি পুরোপুরি কবিগুরুর ‘মনে রবে কিনা রবে আমারে’ গানের অনুকরণ।
‘ওরে গৃহবাসী’ থেকে ‘রহি মাতওয়ালি’
একই বছর সুরকার অনিল বিশ্বাস বিখ্যাত ‘ওয়ারিশ’ ছবিতে ‘রাহি মাতওয়ালি’ গানটি পুরোপুরি করেছেন রবীন্দ্রনাথের ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানের অনুকরণে। এ গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন দুজন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী তালাত মাহমুদ ও সুরাইয়া জামাল শেখ।

‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি’ থেকে ‘নানহা সা পাঞ্চি’
১৯৭৭ সালে ‘টটি খিলানে’ মুক্তি পায়। এ ছবিতে বাপ্পি লাহিড়ী রবীন্দ্রনাথের ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি’ অনুকরণে করেন ‘নানহা সা পাঞ্চি রে তু’ গানটি। এ গানে কণ্ঠ দেন কিশোর কুমার।
‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’ যখন ‘ছুঁ কার মেরে মান কো’
‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’ গানটি বহুশ্রুত রবীন্দ্রসংগীত। এ গানের সুরের অনুকরণে করা ‘ছুঁ কার মেরে মান কো’ বলিউডে রবীন্দ্রসংগীত ব্যবহারে আরেক মাইলফলক। ১৯৮১ সালে রাজেশ রোশনের সংগীতায়োজনে ‘ইয়ারানা’ ছবির এই গানে কণ্ঠ দেন কিশোর কুমার। অমিতাভ ঠোঁট মিলিয়েছেন রোমান্টিক এ গানের সঙ্গে।

default-image

‘যুগপুরুষ’ ছবির বেশির ভাগ গান রবীন্দ্রসংগীতের আশ্রয়ে
‘যুগপুরুষ’ ছবির ওই গানটি কি শুনেছেন? ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবির ‘বন্ধন খুলা পানছি উড়া’ গানের সঙ্গে মনীষা কৈরালা নাচ যেকোনো দর্শকের মনে থাকবে বহুদিন।। গানটির পুরাটাই রবীন্দ্রনাথের খুব পরিচিতি ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’র সুরের ওপর করা। শুধু এই গান নয়, এ ছবির প্রায় সব গানই রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন গানের সুরের ওপর করা। ছবিটা শুরুই হয়েছে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সুরের ওপর তৈরি একটি হিন্দি গান দিয়ে। আশা ভোসলের ‘কোয়ি য্যায়সি মেরে দিলকা দ্বার খাটকায়ে’ গানটি ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী’ গানের ওপর করা।

‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ থেকে ‘বান্ধান খুলা পানছি উড়া’
এই তো সেদিনের কথা। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালা অভিনীত ‘যুগপুরুষ’ ছবিটি দারুণ হিট হয়। ওই ছবিতে ‘বান্ধান খুলা পানছি উড়া’ গানের সঙ্গে মনীষার নাচ ভীষণ আনন্দ দিয়েছিল দর্শকদের। রাজেশ রোশনের ‘বান্ধান খুলা পানছি উড়া’ সুর নেওয়া হয় ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ থেকে। মূল কথার সঙ্গে কোনো মিল না থাকলে, ভিডিওটি দেখলে মনে হয় রবীন্দ্রনাথের কথার সঙ্গে মিল আছে দৃশ্যায়নে।

default-image

‘যদি তারে নাই চিনি’ যখন ‘তেরে মেরে মিলন কি’
অমিতাভ-জয়া জুটির ‘অভিমান’ ছবিটি দেখেননি, বয়স্কদের ভেতর এ রকম দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ ছবির সব কটি গানই জনপ্রিয় হয়েছিল। অমিতাভ ও জয়া—দুজনই ছবিতে কণ্ঠশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এ ছবিতে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘তেরে মেরে মিলন কি ইয়ে র‌্যায়না’ গানটি পুরোপুরিই ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ গানের অনুকরণে। গানটির সুর গ্রহণ করলেও নতুন কথায় বেঁধেছিলেন শচীন দেববর্মন। কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিশোর কুমার ও লতা মঙ্গেশকর। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৩ সালে।
আজ বাইশে শ্রাবণ। বাংলা ক্যালেন্ডারের মুখস্থ করা দিন, বাইশে শ্রাবণ, কবির প্রয়াণতিথি। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি ব্যক্তিমননে আবদ্ধ থাকেন, বিশেষ করে আবদ্ধ থাকেন এই দিনে। তাঁকে স্মরণ করে ইউটিউব বা সাধ্যমতো অন্য কোনো মাধ্যমে বলিউডে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব দেখে নিতে পারেন।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন