বিপদে বিজয়, মুক্তির আগেই ৫০০ কোটি রুপির ছবির এইচডি প্রিন্ট ফাঁস
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গন’ মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা খেল। দিন দুই আগে সিনেমাটির কিছু দৃশ্য ও গানের অংশ অনলাইনে ফাঁস হয়। এবার পুরো ছবির এইচডি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়েছেন অনলাইনে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, শিগগিরই তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপির বিশাল বাজেটে নির্মিত এই ছবি শুরু থেকেই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে, বিশেষ করে এটি যে বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে—রাজনীতিতে পূর্ণকালীনভাবে যোগ দেওয়ার আগে—এই বিষয়ই ছবির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই আগ্রহের মধ্যেই হঠাৎ দেখা দেয় অপ্রত্যাশিত সংকট।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ছবির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ—শিরোনাম দৃশ্য, পরিচয় পর্ব, এমনকি ক্লাইম্যাক্সের ঝলকও ছিল বলে জানা যায়। নির্মাতারা দ্রুত সেই ক্লিপ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো সিনেমাটি এইচডি প্রিন্টে বিভিন্ন পাইরেসি সাইটে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ফাঁসের উৎস এখনো অজানা, যা নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এত বড় প্রজেক্টে নিরাপত্তাঘাটতির প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই।
ছবিটির পরিচালক এইচ বিনোথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, প্রতিটি দৃশ্যের পেছনে কারও স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে, মুক্তির আগে এমন ফাঁস হওয়া সত্যিই কষ্টের। তিনি দর্শকদের প্রতি অনুরোধ জানান, কেউ যেন এই ফাঁস হওয়া কনটেন্ট শেয়ার না করেন।
এদিকে ভক্তরাও চুপ থাকেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। অনেকে আবার দ্রুত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন, যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।
শুধু দর্শক নয়, ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকেও এসেছে সমর্থন। তামিল অভিনয়শিল্পীরাও পাইরেসির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, একটি চলচ্চিত্রের পেছনে শত শত মানুষের পরিশ্রম, সময় ও আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই এ ধরনের অবৈধ প্রচার সেই শ্রমের প্রতি অবমাননা।
এই সংকটের মধ্যেই ছবিটি আরও একটি জটিলতার মুখে রয়েছে। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় ছবির মুক্তি আগেই অনিশ্চয়তায় ছিল। কিছু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি ওঠায় নির্মাতাদের বারবার সংশোধন করতে হয়েছে। এমনকি দ্রুত অনুমোদনের জন্য আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তাঁরা, যদিও পরে আবেদন প্রত্যাহার করে নতুন করে জমা দেন।
সব মিলিয়ে ‘জন নয়গন’ এখন এক জটিল পরিস্থিতির মুখে। একদিকে পাইরেসির বড় ধাক্কা, অন্যদিকে সেন্সর–জট—এই দুইয়ের মধ্যে ছবির মুক্তির সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিজয়ের এই শেষ সিনেমাকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা কমেনি। বরং এ ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আরও বেশি করে উঠে এসেছে ছবিটি। এখন দেখার বিষয়, সব বাধা পেরিয়ে কবে নাগাদ প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছায় বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্র।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে