দিল্লি থেকে ফোন এল, বলিউডের বাবুলকে রাজনীতিতে আনেন রামদেব

যোগগুরু রামদেবের সুপারিশে রাজনীতিতে আসেন বাবুল সুপ্রিয়। কোলাজ

গান দিয়ে পরিচিতি, তারপর বলিউডে সাফল্য, এরপর রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় উপস্থিতি—বহুমুখী পরিচয়ের অধিকারী বাবুল সুপ্রিয়। গায়ক থেকে রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠার গল্পটিই আসলে বেশ নাটকীয়। তাঁর রাজনীতিতে আসার সূত্রপাত হয়েছিল এক আকস্মিক ঘটনার মধ্য দিয়ে। আর সেই ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন যোগগুরু রামদেব। সম্প্রতি অভিনেতা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালিত টাইম অ্যান্ড টাইড পডকাস্টে সেই গল্পই তুলে ধরলেন বাবুল। তাঁদের এই আলাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে বিজেপির যে সরকার গঠিত হয়েছিল, সেখানে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। সে সময় পশ্চিমবঙ্গে হাতে গোনা যে কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তি বিজেপিতে ছিলেন, তাঁদের একজন ছিলেন তিনি। ওই সরকারে বাবুল সুপ্রিয়কে প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

বিমানে আলাপ থেকে শুরু
বাবুল জানান, একবার বাবা রামদেবের সঙ্গে একই বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। মাঝের সিটে বসা বাবুলের ডান দিকে ছিলেন রামদেবের সচিব সিদ্ধার্থ আর বাঁ দিকে ছিলেন রামদেব নিজে। যোগগুরু ফোনে কারও নাম ধরে ধরে সুপারিশ করছিলেন। তখনই সিদ্ধার্থ বাবুলের সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে দেন। বাবুল বলেন, ‘আমরা খুব মজা করছিলাম। একপর্যায়ে আমি কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করি, আপনার হাতে যে লিস্ট, সেটা কিসের? উনি বলেন, বিজেপির অনেক আসনে প্রার্থী দরকার, তাই সুপারিশ করছেন।’

যোগগুরু রামদেবের সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয়। এক্স থেকে

এই কথোপকথনের মধ্যেই বাবুল মজা করে বলেন, ‘আপনি আমার নামটা লিখে রাখুন। কলকাতার কোথাও একটা টিকিট দিন। আমি দাঁড়ালে গ্যারান্টি দিচ্ছি, সবাই হারলেও আমি জিতব।’ এরপর তিনি বিষয়টা ভুলে যান।

ফোন এল দিল্লি থেকে
বেশ কিছুদিন পর এক রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাবুলের কাছে আসে ফোন। মুম্বাইতে বসে তিনি ধরতেই ওপাশে শোনা যায় রামদেবের গলা। কিছুক্ষণ পর ফোনটি হাতে নেন তৎকালীন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং। বাবুলের ভাষায়, ‘তিনি বললেন, আপনার আত্মবিশ্বাসের কথা শুনেছি। আপনাকে আমরা প্রার্থী করব।’ সেখান থেকেই গায়ক হয়ে ওঠেন রাজনীতিবিদ।

বাবুল সুপ্রিয়
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

প্লেব্যাক ও রাজনীতির টানাপোড়েন
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবুল জানান, এখনো তিনি বাংলায় প্লেব্যাক করছেন। তবে মুম্বাইয়ে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ‘অনেক ভালো গায়ক মারা পড়ছে এই কম্পিউটারনির্ভর গানের কারণে। একটি গান অনেকজনকে দিয়ে গাওয়ানো হয়, শেষ পর্যন্ত কারটা রাখা হবে আগে থেকে বলা যায় না,’ বলেন তিনি।
কেন তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এলেন, সেই প্রসঙ্গেও খোলামেলা হয়েছেন বাবুল। তাঁর কথায়, ‘রাজনীতি নিয়ে আমার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। চাই না গানের জন্য পাওয়া ভালোবাসা চলে যাক। ২০২১ সালে রাজনীতি ছাড়ি মূলত গানের জন্যই। বিদেশে শো করতে দিতেন না, গাইতে দিতেন না। এতে সংঘাত তৈরি হয়। উল্টো মুখ্যমন্ত্রী এখন উৎসাহ দেন। উনি বোঝেন, গান থাকলে আমি রাজনৈতিক কাজও ভালোভাবে করতে পারব।’ গান ও রাজনীতির মধ্যে বেছে নিতে হলে গানকেই প্রাধান্য দেবেন জানিয়ে বাবুল বলেন, ‘রাজনীতি পরে করব, কিন্তু গলা সারা জীবন থাকবে না।’
আবার পর্দায়

গান ও রাজনীতির পাশাপাশি বাবুল সম্প্রতি অভিনয়েও ফিরেছেন। তাঁকে দেখা গেছে অরিন্দম শীলের একটি ওয়েব সিরিজে। তবে এ নিয়ে খানিক ক্ষোভও আছে তাঁর, ‘অভিনয় করতে ভালোবাসি। কিন্তু পরিচালকেরা আজকাল কেন আমার কথা ভাবেন না, জানি না।’
সব মিলিয়ে বাবুল সুপ্রিয় এখন রাজনীতি, গান ও অভিনয়ের দুনিয়া—তিন অঙ্গনেই সক্রিয়। তবে নিজের কাছে গানই তাঁর প্রথম ভালোবাসা।