কিছুদিন ধরে কৃষ্ণা ঘট্টামনেনি শ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাঁকে হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, রাত সোয়া একটার দিকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। এরপর অবস্থার অবনতি হলে ভেন্টিলেটরে রাখা হয় কৃষ্ণাকে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও চিকিৎসকেরা শেষ রক্ষা করতে পারেননি। আজ ভোর চারটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই প্রবীণ তারকা।

বছরটা ভালো যাচ্ছে না মহেশ বাবুর। বছরের শুরুতেই হারিয়েছেন বড় দাদা রমেশ বাবুকে। এরপর সেপ্টেম্বরে মা ইন্দিরা দেবীকে হারান এই দক্ষিণি তারকা। মায়ের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার এক বড় ধাক্কা খেলেন মহেশ বাবু। জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছেন এই দক্ষিণি তারকা। প্রায়শ মহেশ বাবু তাঁর বাবার সঙ্গে নানান ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।

মহেশ বাবুর বাবা কৃষ্ণা তেলেগু ছবির জনপ্রিয় তারকা ছিলেন। ভক্তরা তাঁর নামের আগে ‘সুপারস্টার’ তকমা জুড়ে দিয়েছিলেন। কৃষ্ণার আসল নাম ঘট্টামনেনি শিবা রামা কৃষ্ণা মূর্তি। শুধু ছবির কারণে নিজের নাম সংক্ষেপে ‘কৃষ্ণা’ রাখেন। অভিনেতার পাশাপাশি প্রযোজক, পরিচালক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রায় ৩৫০ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৯ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শুধু অভিনয় নয়, রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মহেশ বাবুর বাবা। রাজনীতিবিদ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন তেলেঙ্গেনার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও। কৃষ্ণা ঘট্টামেনানির মৃত্যুর খবরে তাঁর ভক্তরা শোকাহত।