সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর নিজের প্রতি বিশ্বাস—বিদ্যার গল্পটা যেমন
‘পরিণীতা’—বিদ্যা বালানের ভাগ্য রাতারাতি বদলে দিয়েছিল ছবিটি। অভিষেক ছবিই দিয়েই দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর ‘ডার্টি পিকচার’ তারকাখ্যাতি দিয়েছিল তাঁকে। যেসব নারী শিল্পীর নামেই ভারতে সিনেমা চলে, বিদ্যা তাঁদের একজন। অভিনয়দক্ষতার প্রমাণ বারবার দিলেও সিনেমায় বিদ্যার যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। আজ ১ জানুয়ারি ৪৭ বছরে পা দিয়েছেন অভিনেত্রী। এদিন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সংগ্রামের কিছু গল্প।
অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন টেলিভিশনে, পরে ভাগ্য পরীক্ষা করেন সিনেমায়। কিন্তু কোনো ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিতে বিদ্যার সময় লেগেছে অনেক। সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মুম্বাই মিররকে বিদ্যা বলেছিলেন, ‘নন-ফিল্মি পরিবার থেকে এসেছি। অভিনেত্রী হওয়ার পথটা কীভাবে এগোতে হয়, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। তবু আমি অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম। এতে পরিবার দুশ্চিন্তায় ছিল, যদিও তারা সব সময় আমাকে সমর্থন করেছে। আমার প্রথম টিভি শো “লা বেলা” কয়েক মাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা নিশ্চয়ই স্বস্তি পেয়েছিল। হয়তো ভেবেছিল, “চলো, এবার বুঝি ভূতটা নামবে।”’
বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি বিদ্যা। অভিনেত্রী জানান, প্রাথমিক কয়েকটি প্রজেক্ট ভেস্তে যাওয়ায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে তিনি মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। আরও জানান, শুরুতে তাঁকে অসংখ্য প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হয়েছে। তবু প্রতিটি সুযোগেই নিজেকে প্রমাণ করতে দৃঢ় ছিলেন তিনি।
বিদ্যা বলেন, ‘দক্ষিণ ভারতে টানা তিন বছর শুধু প্রত্যাখ্যানই পেয়েছি। এমন দিনও গিয়েছে, যখন কান্না করতে করতে ঘুমাতে গিয়েছি। কিন্তু পরদিন সকালে আবার হাসিমুখে উঠতাম এই আশায় যে ভালো কিছু ঘটবেই। আর সেটাই হয়েছিল “পরিণীতা”র মাধ্যমে।’
‘পরিণীতা’ মুক্তির পর বিদ্যাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয়েছিল প্রয়াত বাঙালি পরিচালক প্রদীপ সরকারের। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পরিণীতা’-কে ঘিরে আজও দর্শকের ভালোবাসা অটুট।