৫৩ বছর বয়সেই চলে গেলেন ‘গ্রেস অ্যানাটমি’ অভিনেতা
হলিউড অভিনেতা এরিক ডেন মারা গেছেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ৫৩ বছর বয়সী অভিনেতার মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
টেলিভিশন দর্শকের কাছে তিনি চিরকাল ‘ম্যাকস্টিমি’ নামেই পরিচিত—মেডিক্যাল ড্রামা ‘গ্রেস অ্যানাটমি’-তে ডা. মার্ক স্লোন চরিত্রে অভিনয় করে যে খ্যাতি তিনি পেয়েছিলেন, তা তাঁকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। সাম্প্রতিক প্রজন্ম তাঁকে নতুন করে চিনেছে এইচবিওর বহুল আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’-তে জটিল, দ্বিধাগ্রস্ত পিতা ক্যাল জেকবস চরিত্রে।
পরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে তাঁর অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস)—যা লু গেরিগস ডিজিজ নামেও পরিচিত—ধরা পড়ে। শেষ সময়টুকু তিনি কাটিয়েছেন প্রিয় বন্ধু, স্ত্রী ও দুই কন্যা—বিলি ও জর্জিয়ার সান্নিধ্যে। পরিবার জানিয়েছে, অসুস্থতার সময়টাতে তিনি এএলএস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি ও গবেষণায় সহায়তার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। অন্য রোগীদের জন্য কিছু করে যাওয়ার ইচ্ছাই ছিল তাঁর শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের শক্তি।
১৯৭২ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া ডেন বে এরিয়াতেই বড় হয়েছেন। স্কুলজীবন শেষে অভিনয়ের টানে পাড়ি জমান লস অ্যাঞ্জেলেসে। নব্বইয়ের দশকে ছোট ছোট চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে—‘সেভড বাই দ্য বেল’, ‘দ্য ওয়ান্ডার ইয়ার্স’, ‘রোজ্যান’, ‘ম্যারিড… উইথ চিলড্রেন’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে। ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন। ২০০০ সালে ‘গিডিয়ন্স ক্রসিং’ ধারাবাহিকে ডা. ওয়ায়াট কুপার চরিত্রে অভিনয় তাঁকে বড় পরিসরে পরিচিতি দেয়।
তবে মোড় ঘুরে যায় ২০০৫ সালে। ‘গ্রেস অ্যানাটমি’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে অতিথি চরিত্র হিসেবে হাজির হন ডা. মার্ক স্লোন হয়ে। দর্শকপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ওঠে যে পরের মৌসুম থেকেই তিনি নিয়মিত চরিত্রে পরিণত হন। হাসপাতালের করিডরে তাঁর আত্মবিশ্বাসী হাঁটা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার গল্প—সব মিলিয়ে ‘ম্যাকস্টিমি’ হয়ে ওঠে টিভি সংস্কৃতির এক অংশ। অষ্টম মৌসুমে চরিত্রটির বিদায় হলেও পরে বিশেষ পর্বে আবারও ফিরেছিলেন তিনি।
টেলিভিশনের বাইরে বড় পর্দাতেও ছিল তাঁর উপস্থিতি। ‘এক্স-মেন: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’, ‘মার্লে অ্যান্ড মি’, ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’—বিভিন্ন ঘরানার ছবিতে কাজ করেছেন। মাইকেল বেয়ের প্রযোজনায় ‘দ্য লাস্ট শিপ’ সিরিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে নতুন দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করেন। আর ২০১৯ সালে ‘ইউফোরিয়া’-তে ক্যাল জেকবস চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে, বয়স বাড়লেও অভিনয়ের গভীরতা আরও শাণিত হয়েছে।
এএলএস রোগ নির্ণয়ের পর তিনি খোলাখুলি নিজের লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, মানুষ কী ভাববে তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ নেই; বরং তিনি জানতে চান—কীভাবে অন্যদের সাহায্য করা যায়। আইন প্রণয়ন ও তহবিল সংগ্রহে কাজ করা সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছেন। নিজের অসুস্থতাকে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি না বানিয়ে সামাজিক বার্তায় রূপ দেওয়ার এই মনোভাবই তাঁকে আলাদা করে।
এবিসি ও ‘গ্রেস অ্যানাটমি’র প্রযোজনা সংস্থা ২০তম টেলিভিশন এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁর প্রতিভা ও উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। এএলএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর সাহস অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে।
ডেনের জীবন ছিল সাফল্য, বিতর্ক, পুনরুত্থান আর ভালোবাসার মিশেলে গড়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন অভিনেতা হিসেবে, যিনি টেলিভিশনের পর্দায় চিকিৎসকের সাদা কোট পরে যেমন দর্শককে মুগ্ধ করেছেন, তেমনি বাস্তব জীবনে অসুখের সঙ্গে লড়াই করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে