সায়রা বানুকে বিয়ের ১৬ বছর পর গোপনে আসমাকে বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার

দিলীপ কুমার ও আসমা। কোলাজ

দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর প্রেমকাহিনি বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। কিন্তু তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এমন এক অধ্যায় এসেছিল, যা আজও ভক্তদের বিস্মিত করে। বিয়ের ১৬ বছর পর গোপনে আরেক নারীকে বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। পরে সেই সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে স্বীকার করেন।

১৯৬৬ সালে ৪৪ বছর বয়সে দিলীপ কুমার বিয়ে করেন ২২ বছর বয়সী সায়রা বানুকে। বয়সের ব্যবধান নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তাঁদের সংসার সুখেই চলছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে দিলীপ কুমার দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। তাঁর নতুন স্ত্রীর নাম ছিল আসমা রেহমান।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল, এ খবর প্রথমে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন সায়রা বানু। শুরুতে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাননি। কারণ, স্বামীর প্রতি তাঁর আস্থা ছিল অটুট। কিন্তু পরে সত্য সামনে এলে ভেঙে পড়েন তিনি।

নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য সাবস্ট্যান্স অ্যান্ড দ্য শ্যাডো’-তে দিলীপ কুমার এ ঘটনার বিস্তারিত লিখেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদে একটি ক্রিকেট ম্যাচে প্রথম পরিচয় হয়েছিল আসমার সঙ্গে। আসমাকে তাঁর বোনেরা পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আসমা বিবাহিত এবং তিন সন্তানের মা।

দিলীপ কুমার লিখেছেন, পরে তিনি লক্ষ করেন, আসমা ও তাঁর স্বামী প্রায় সব জায়গাতেই উপস্থিত থাকছেন, এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত সময়সূচিও যেন আগে থেকেই জানতেন। অভিনেতার দাবি, ধীরে ধীরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তিনি সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে বাধ্য হন।
তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর শিগগিরই দিলীপ বুঝতে পারেন, এটি ছিল একটি ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্ত।

আত্মজীবনীতে দিলীপ লিখেছেন, ‘সায়রাকে যে কষ্ট দিয়েছি, তার আমার প্রতি যে অটুট বিশ্বাস ছিল, তা ভেঙে দিয়েছি—এ অপরাধ আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না, নিজেকেও ক্ষমা করতে পারব না।’

সায়রা বানু ও দিলীপ কুমার। ইনস্টাগ্রাম থেকে

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে দিলীপ কুমার সায়রা বানুর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি সায়রাকে অনুরোধ করেন কিছু সময় দিতে, যাতে আইনগত প্রক্রিয়ায় আসমার সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে আবার তাঁদের সংসারকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।
সায়রা বানুও সেই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে দাঁড়ান। দিলীপ কুমারের ভাষায়, তিনি নিজের ভুল মেনে নেওয়ার পর সায়রা তাঁকে সময় দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য সম্পর্ককে রক্ষা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে আসমা রেহমানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন দিলীপ কুমার। এমনকি তিনি লিখিতভাবে সায়রাকে প্রতিশ্রুতিও দেন যে আর কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করবেন না। এটি ছিল সেই প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি, যা একসময় তিনি সায়রার মা–বাবা-মার কাছেও করেছিলেন।

আরও পড়ুন

পরে এ পুরো ঘটনাকে দিলীপ জীবনের এক গভীর সংকট হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই কঠিন অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি লিখেছেন, এই ঝড় তাঁদের পরস্পরের প্রতি আবেগগত নির্ভরতা ও ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সব ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন দিলীপ কুমার ও সায়রা বানু। ২০২১ সালে দিলীপ কুমারের মৃত্যুর আগপর্যন্ত সায়রাই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা ও সঙ্গী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে