৪০ বছর বয়সে ৩৯ বছর বয়সী বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে, বিতর্কের জবাব দিলেন মৌনী

কানে মৌনী রায়। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউডে বয়স নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বয়স যেন সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নায়িকা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা, চরিত্রের ধরন, কিংবা পর্দায় কার বিপরীতে অভিনয় করবেন—এসব প্রশ্ন প্রায়ই তাঁদের তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেত্রী মৌনী রায়। কারণ, তিনি অভিনয় করেছেন এমন এক চরিত্রে, যা দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

ছবির নাম ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। আর বিতর্কের কারণ—৪০ বছর বয়সী মৌনী রায় সেখানে ৩৯ বছর বয়সী বরুণ ধাওয়ানের ‘মা’–এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও গল্পে তিনি প্রকৃত মা নন, বরং ‘ভুয়া মা’। তবু ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। প্রশ্ন ওঠে, প্রায় সমবয়সী দুই শিল্পীকে মা-ছেলের ভূমিকায় দেখানোর প্রয়োজন কী ছিল?
কিন্তু মৌনী রায়ের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। সমালোচনার ঝড়কে তিনি পাত্তাই দেননি।

সমালোচনার ঝড়
ছবির ট্রেলার মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল মৌনী রায়ের চরিত্র। অনেকেই লিখেছিলেন, বাস্তব জীবনে যাঁদের বয়সের পার্থক্য মাত্র এক বছর, তাঁরা কীভাবে মা-ছেলের ভূমিকায় বিশ্বাসযোগ্য হতে পারেন?

বলিউডে এর আগে বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেছে। বহুবার ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সী অভিনেতাদের বিপরীতে ২০-২৫ বছরের অভিনেত্রীদের নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে। তখন সমালোচনা হলেও সেটি যেন শিল্পের অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এবার ঘটনা উল্টো। একজন অভিনেত্রীকে প্রায় সমবয়সী অভিনেতার মা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

তবে মৌনী রায়ের মতে, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে পরিচালক কী চেয়েছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মৌনি রায়। ইনস্টাগ্রাম থেকে

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এসব (সমালোচনা) নিয়ে ভাবিনি। মানুষ কী বলছে, সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা ছিল না। আমি জানতাম ছবিতে আমি কী করেছি। আমার পরিচালক খুশি ছিলেন, সহশিল্পীরাও খুশি ছিলেন। সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট।’

প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়ের
মজার বিষয় হলো, মৌনী নিজেও প্রথমে অবাক হয়েছিলেন। সিনেমাটির কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাব্রা যখন তাঁকে চরিত্রটির কথা বলেন, তখন তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়াও ছিল দর্শকদের মতোই।

মৌনী স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘যখন আমাকে বলা হলো যে আমি বরুণ ধাওয়ানের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করব, তখন আমিও বলেছিলাম, ‘ওর মা?”’
এরপর মৌনী পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান ও সংলাপ লেখক ফরহাদ সামজির কাছ থেকে পুরো গল্প শোনেন। গল্প শুনে তাঁর ধারণা বদলে যায়।
মৌনীর ভাষায়, ‘আমি এত হাসছিলাম যে থামতেই পারছিলাম না। পুরো পরিস্থিতিটাই ছিল কমেডির অংশ। সেখানে “মা” পরিচয়টা আসলে গল্পের একটি মজার উপাদান।’

আরও পড়ুন
‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ সিনেমায় বরুণ ধাওয়ান ও মৌনী রায়। আইএমডিবি

ডেভিড ধাওয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা
মৌনী রায়ের ক্যারিয়ারে এই ছবির আরেকটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বরাবরই ডেভিড ধাওয়ানের সিনেমার ভক্ত। নব্বই দশকে গোবিন্দকে নিয়ে ডেভিড ধাওয়ান যে ধারার কমেডি নির্মাণ করেছিলেন, সিনেমাগুলো এখনো জনপ্রিয়।
মৌনী বলেন, ‘ডেভিড স্যারের সিনেমা দেখতে দারুণ লাগে। মন খারাপ থাকলে তাঁর ছবি দেখতে ভালো লাগে। তিনি যখন আমাকে এই ছবির প্রস্তাব দেন, তখন আমি খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম।’

আরও একটি কারণ ছিল। ডেভিড ধাওয়ান নাকি মৌনীকে জানিয়েছিলেন, এটি তাঁর শেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র হতে পারে। ফলে এমন একটি প্রকল্পের অংশ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি মৌনী।

মৌনি রায়। ইনস্টাগ্রাম থেকে

টেলিভিশনের ‘নাগিন’ থেকে বলিউডের পরিচিত মুখ
আজকের মৌনী রায়কে দেখলে অনেকেই ভুলে যান, তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পর্দা থেকে। একসময় তিনি ছিলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ। ‘নাগিন’ ধারাবাহিক তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। অতিপ্রাকৃত কাহিনির এই ধারাবাহিক শুধু দর্শকপ্রিয়ই হয়নি, বরং মৌনীকে জাতীয় পর্যায়ের তারকায় পরিণত করে।
এরপর ধীরে ধীরে বলিউডে প্রবেশ। ‘গোল্ড’ ছবিতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রজগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। পরে ‘ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান–শিবা’তে তাঁর খলচরিত্র ‘জুনুন’ ব্যাপক প্রশংসা পায়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে