১ লাখ বিনিয়োগে ১০০ কোটির সমান মুনাফা হয়েছিল কীভাবে

জ্যাকি শ্রফ ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা শ্রফ। ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউড অভিনেতা জ্যাকি শ্রফকে দর্শক চেনে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, ভরাট কণ্ঠস্বর আর পর্দার বিচিত্র সব চরিত্রে রূপদানের জন্য। কিন্তু অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধিও কম নয়। তিনি ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা শ্রফ এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা তাঁদের জীবন পাল্টে দিয়েছিল পুরোপুরি। মাত্র ১ লাখ রুপির বিনিয়োগ তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি রুপির সমান মুনাফা।
কী হয়েছিল
সময়টা ১৯৯৫। ভারতে যাত্রা শুরু করল সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন। ঠিক তখনই জ্যাকি শ্রফ আর আয়েশা শ্রফ সাহসী এক পদক্ষেপ নিলেন—চ্যানেলটিতে বিনিয়োগ করলেন। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল জিরো ওয়ান হ্যাসেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা বলছিলেন, কীভাবে এই বিনিয়োগ তাঁদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

আয়েশা বললেন, ‘আমাদের জন্য সেটা ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। প্রথমবার কোনো করপোরেট কাঠামোর মধ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম, আর সেটাও আবার সনি! আমরা ছিলাম সাতজনের একটি দল। জ্যাকি এনেছিল তাঁর জনপ্রিয়তা ও ইমেজ, আর বাকি সদস্যদের মধ্যে ছিলেন একজন ব্যাংকার, একজন টেলিভিশন বিশেষজ্ঞ, আরেকজন কম্পিউটার টেকনোলজিতে দক্ষ। একেবারে বহুমুখী একটি দল ছিল। পুরো এক বছর ধরে আমরা সনির সঙ্গে মিটিং, দর–কষাকষি, নথিপত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছি।’

এক পার্টিতেই ভাগ্যবদল
আয়েশা শোনালেন সেই টার্নিং পয়েন্টের গল্পও। সনির বিদেশি কর্তাদের মনে দ্বিধা ছিল। তখনই আয়েশার মাথায় আসে নতুন বুদ্ধি—‘আমি জ্যাকিকে বললাম, একটা পার্টি দিই। আমরা তো খুব একটা পার্টি দিই না, কিন্তু ওই দিন বলিউডের সব তারকা হাজির হয়েছিলেন। পার্টি হয়েছিল মেরিন ড্রাইভের আরজিস ক্লাবে। সারা রাত মেতে থাকার পর ভোর ৬টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আসা সনির কর্তা বললেন, “এবার চুক্তি সাইন করতেই হবে।” পরদিনই আমরা সই করলাম।’

জ্যাকি শ্রফ ও আয়েশা শ্রুফ। ইনস্টাগ্রাম থেকে

মুনাফা আর অভিজ্ঞতা
চুক্তি থেকে কী পরিমাণ লাভ হয়েছিল? এ প্রশ্নে আয়েশা সপ্রতিভ উত্তর দিলেন এভাবে, ‘বিনোদন মানে কেবল কাগজপত্র নয়, এখানে মানুষই আসল। আমরা সেটা দিয়েছিলাম সনিকে। আমাদের জন্য এটা ছিল সেরা বিনিয়োগ। তবে আমরা শর্ত দিয়েছিলাম—সাতজন মিলে থাকব, নয়তো কেউ থাকবে না। কিছু সদস্য যখন বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন, আমরাও বেরিয়ে এলাম। সেটা ছিল সঠিক সময়।’

প্রশ্নকর্তা এরপর সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘যদি ১০০ রুপি বিনিয়োগ করতেন, কত ফিরে পেয়েছিলেন?’ আয়েশা মৃদু হেসে বলেছিলেন, ‘১ লাখ থেকে ১০০ কোটির মতো। সত্যি বলতে, সময়টা ঠিক ছিল, আমরাও বেরিয়ে এলাম।’

আরও পড়ুন

বলিউডের অন্যতম ধনী তারকা
সেই সফল বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আজ জ্যাকি শ্রফ হয়ে উঠেছেন বলিউডের অন্যতম ধনী তারকা। তাঁর বর্তমান নেট ওর্থ প্রায় ৪০০ কোটি রুপি। শুধু সিনেমা নয়, বিনিয়োগ করেছেন স্পোর্টস লিগ ও হসপিটালিটি ব্যবসায়ও। তাঁদের পরিবার পরিচালনা করছে একটি জিম চেইন ও একটি এমএমএ প্রমোশন কোম্পানি, যা সামলাচ্ছেন ছেলে টাইগার শ্রফ ও মেয়ে কৃষ্ণা শ্রফ।

তথ্যসূত্র: ডিএনএ