‘বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে নয় বছরের মেয়েকে বোঝাব’
দিন কয়েক আগেই বাঙালি অভিনেত্রী তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, তিনি চতুর্থ পর্যায়ের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। গত রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে এক দীর্ঘ পোস্টে এ কথা নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে লেখা এক কলামে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। নিজের লেখায় তন্নিষ্ঠা জানিয়েছেন, কীভাবে শাবানা আজমি, দিয়া মির্জা, ঊর্মিলা মাতন্ডকর, কঙ্কনা সেনশর্মারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
প্রায় দেড় বছর আগে বাবাকে হারানোর শোক সামলাতে না সামলাতেই তন্নিষ্ঠা নিজেই পেলেন ভয়াবহ খবর। তন্নিষ্ঠা লিখেছেন, তাঁর বাবার ক্যানসারকে চিকিৎসকেরা অতি গুরুতর বলেছিলেন না। বলেছিলেন, আরও অন্তত ২০ বছর সুস্থ থাকবেন। অথচ মাত্র আড়াই বছরেই বাবাকে হারাতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অচিন্তনীয় ধাক্কা।
শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতার একাধিকবার এসেছেন তাঁর বাড়িতে, মাকে আশ্বস্ত করেছেন। শাবানা আজমি, তানভি আজমি দুজনই তাঁকে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে। রিচা চাড্ডা মাতৃত্বের ব্যস্ততার মধ্যেও পাশে থেকেছেন। দিয়া মির্জা বহুবার তাঁকে নিয়ে গেছেন চিকিৎসকের কাছে। কঙ্কনা সেনশর্মা ও শাহানা গোস্বামী তাঁর মেয়েকে দেখাশোনার প্রস্তাবও দিয়েছেন। চিকিৎসার সময় তাঁর মেয়ে অবশ্য চার মাস নিউইয়র্কে খালার কাছে ছিল।
এদিকে তখনই তিনি ব্যস্ত ছিলেন নিজের দ্বিতীয় পরিচালনার কাজে, ‘ফুল প্লেট’। ছোট বাজেটের স্বাধীন ছবি, যার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। শোক আর আর্থিক চাপে দিন কাটছিল তাঁর। প্রতিদিনই মনে হতো, হয়তো ছবির শুটিং শেষ হবে না। শেষমেশ পোস্ট প্রোডাকশনের সময়ে অর্থ জোগাড় হওয়ায় মনে হয়েছিল, সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে এসেছেন তিনি।
চলতি নববর্ষে পার্টি করেছিলেন। ১৭ জানুয়ারি গিয়েছিলেন জাভেদ আখতার-শাবানা আজমির খন্ডালার বাড়িতে, জাভেদ আখতারের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে। কিন্তু তিন দিন পরই এল ধাক্কা—তাঁর শরীরে ধরা পড়ল স্টেজ-৪ অলিগোমেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার।
‘আমি জানতামই না কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, কীভাবে মাকে বলব; বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে ৯ বছরের মেয়েকে বোঝাব। আমি একাই ডাক্তারের কাছে যেতাম, পরীক্ষা করাতাম।’ লিখেছেন তন্নিষ্ঠা।
একদিন ভেঙে পড়েই ফোন করলেন নিউইয়র্কে থাকা বোন স্যান্তানিকে। বোন তাঁকে বুঝিয়ে বললেন, এমন সময়ে বন্ধুদের পাশে চাই। এরপরই বদলে গেল সবকিছু। তাঁর বন্ধুরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুললেন, পালা করে পাশে থাকার দায়িত্ব নিলেন। এখন তিনি যেকোনো প্রয়োজনে সেখানে লিখে ফেলেন, আর একা লাগে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সেই গ্রুপের ছবিতে আছেন—তানভি আজমি, দিয়া মির্জা, কঙ্কনা সেনশর্মা, সন্ধ্যা মৃদুল, শাবানা আজমি, শাহানা গোস্বামী, বিদ্যা বালান, দিব্যা দত্ত, রিচা চাড্ডা। অনুপস্থিত ছিলেন শুধু ঊর্মিলা মাতন্ডকর, যদিও তিনিও গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
শাবানা আজমি ও জাভেদ আখতার একাধিকবার এসেছেন তাঁর বাড়িতে, মাকে আশ্বস্ত করেছেন। শাবানা আজমি, তানভি আজমি দুজনই তাঁকে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে। রিচা চাড্ডা মাতৃত্বের ব্যস্ততার মধ্যেও পাশে থেকেছেন। দিয়া মির্জা বহুবার তাঁকে নিয়ে গেছেন চিকিৎসকের কাছে। কঙ্কনা সেনশর্মা ও শাহানা গোস্বামী তাঁর মেয়েকে দেখাশোনার প্রস্তাবও দিয়েছেন। চিকিৎসার সময় তাঁর মেয়ে অবশ্য চার মাস নিউইয়র্কে খালার কাছে ছিল।
তন্নিষ্ঠার সহায়তার পরিসর শুধু মেয়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চিত্রগ্রাহক দীপ্তি গুপ্তা, শেফ অনুরাধা শেঠি, অভিনেতা-প্রযোজক সঞ্জয় সূরি ও তাঁর স্ত্রী আম্বিকা, পরিচালক অনির—সবাই দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর পাশে।
এদিকে তাঁর নতুন সিনেমা ‘ফুল প্লেট’-এর কাজ পুরোপুরি শেষ। সিনেমাটি লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি একটি গানও গেয়েছেন তন্নিষ্ঠা। মূলত বাজেট–সংকটে খসড়া সংস্করণে তিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন, পরে সুরকার ও প্রযোজকেরা সেটিই রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ছবির গল্প এক মুসলিম গৃহিণীকে নিয়ে। স্বামী দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে সংসারের দায় এসে পড়ে তাঁর ওপর। বাইরে বেরিয়ে কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যান তিনি, আর এতে অস্থির হয়ে ওঠেন তাঁর স্বামী। মুম্বাইনির্ভর এই গল্পে খাবার, শ্রেণি ও ধর্মের মধ্য দিয়ে সমাজ ও সংস্কারের ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।