ইউটিউবের প্রভাব
দক্ষিণি সিনেমা মুক্তির পর জনপ্রিয় হলে কিছুদিন পর সেটির হিন্দি ডাব করে ইউটিউবে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যেসব দর্শক ছবিটি ভাষার কারণে দেখেননি, তাঁদেরও সুবিধা হয়। আগেই হিন্দি ডাবে দেখে ফেলার কারণে নতুন করে আর হিন্দি রিমেক দেখতে দর্শকেরা আগ্রহী হন না।

হিন্দি রিমেক আসতে দেরি
চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘জার্সি’ ও ‘বিক্রম বেদা’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ‘জার্সি’ ওটিটিতে মুক্তির পর ভালো সাড়া পেয়েছে। দুটি ছবিই সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে বক্স অফিসে কেন ব্যর্থ হলো? অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, কোভিডসহ নানা কারণে ছবি দুটি পূর্বনির্ধারিত তারিখের চেয়ে অনেক পরে মুক্তি পেয়েছে। এত দেরিতে এসেছে যে তত দিনে মূল ছবিটি দর্শকের প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে। নতুন করে একই ছবির হিন্দি রিমেক কেন দেখবেন তাঁরা? সিনেমা–বাণিজ্য বিশ্লেষক কমল মেহতা মনে করেন, যখন ওটিটির কল্যাণে নানা ধরনের দক্ষিণি সিনেমা দর্শকের হাতের মুঠোয়, তখন কেন তিনি একই ছবি আবার হিন্দিতে দেখতে যাবেন?

চিত্রনাট্য বদলে সমস্যা
অনেক ছবির হিন্দি রিমেকে মূল ছবির প্রেক্ষাপট বদলে ফেলা হয়। মূলত সর্বভারতীয় দর্শকের কথা চিন্তা করেই এটা করা হয়। যেমন কোনো তামিল ছবি যদি চেন্নাইয়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়, হিন্দি রিমেকের সময় সেটি বদলে নিয়ে আসা হয় লক্ষ্ণৌ বা কানপুরে। এটি করতে গিয়ে সেই শহরের সঙ্গে যুক্ত নানা বিষয় যোগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এসব বদল করতে গিয়ে মূল সিনেমার যে সুরটা ছিল, সেটা কোথাও কেটে যায়।

বলিউড তারকাদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি
কিছুদিন আগে খোদ সালমান খান বলেছেন, হিন্দি সিনেমা থেকে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যাপারটি হারিয়ে যাচ্ছে। হিন্দি ছবিতে নায়ককে আর নায়োকাচিতভাবে দেখানো হয় না। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের অনেক সিনেমায় এখনো ব্যাপারটি ঘটে। এ জন্যই আল্লু অর্জুন, রাম চরণ থেকে শুরু করে বড় তারকাদের আলাদা একটি ভক্তগোষ্ঠী আছে। এই ভক্তগোষ্ঠীর কারণে দক্ষিণি কোনো সিনেমা মুক্তির প্রথম দিনেই বড় অঙ্কের ব্যবসা করে।

ওটিটির উত্থান
ওটিটির উত্থানের কারণে ভারতের মানুষ এখন ভারত ছাড়াও বিদেশি বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজ দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট দেখতে অর্থ খরচ করছেন। এর ফলে হিন্দি রিমেকের পেছনে তাঁরা অর্থ খরচ করতে রাজি নন।

পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি
অনেক সমালোচক মনে করেন দক্ষিণি ছবির পরিচালকেরা যেভাবে ছবিতে বাণিজ্যিক সিনেমার বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আসতে পারেন, বলিউড পরিচালকেরা সেটি করতে পারেন না। অনেক সময় আবার মূল ছবিটির হুবহু রিমেক করবেন নাকি মূল ছবিটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানাবেন—পরিচালকের এই দ্বন্দ্বও ছবিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সমালোচক অনুপমা চোপড়া মনে করেন, বড়সংখ্যক দর্শকের জন্য হিন্দি রিমেক এখনো কাজ করতে পারে। কিন্তু পরিচালকেরাই তাঁদের উপযোগী করে সিনেমাটি বানাতে পারছেন না। রিমেক মানেই কেবল কপি-পেস্ট নয়।

দক্ষিণ ভারতে ব্যবসা করতে না পারা
দক্ষিণি ছবির হিন্দি রিমেকের বড় বাজার উত্তর ভারত। কিন্তু তা সত্ত্বেও আগে দক্ষিণ ভারতেও হিন্দি রিমেকগুলো মোটামুটি হলেও ব্যবসা করেছে, কিন্তু ইদানীং সেটিও হচ্ছে না। এর ফলে এখানেও ব্যবসায় কিছুটা মার খাচ্ছে সিনেমাগুলো।

হিন্দি সিনেমার পিছিয়ে পড়া
চলতি বছর হিন্দি সিনেমার ব্যবসায় এমনিতেই মন্দা। হাতে গোনা কয়েকটি ছবি ছাড়া বেশির ভাগই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই রিমেক ছবিও মার খেয়েছে।

অভিনেতা নির্বাচনে ভুল
চলতি বছর বক্স অফিস অক্ষয়ের বেশির ভাগ ছবিই দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে, যার মধ্যে ছিল দক্ষিণি ছবির রিমেক ‘বচ্চন পান্ডে’ও। আরেকটি রিমেক ‘কাঠপুতলি’ ওটিটতে মুক্তি পেলেও দর্শক-সমালোচকদের মন ভরাতে পারেনি। অনেক সমালোচক মনে করেন, হিন্দি রিমেকের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই চরিত্র অনুযায়ী অভিনেতা নির্বাচন না করে কেবল বড় নাম দেখেই তারকাকে নেওয়া হচ্ছে। এতে ছবিটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।