দীর্ঘ অপেক্ষার পর...

আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’-এর দ্বিতীয় মৌসুমও দর্শকের ভালোবাসা কুড়াচ্ছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তবতা, মানবিক সম্পর্ক আর হাস্যরসের মিশেলে নির্মিত এই সিরিজে চিকিৎসক গার্গীর চরিত্রে আবারও দেখা গেছে আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুরকে। ‘গিলটি’, ‘রে ও মনিকা’, ও ‘মাই ডার্লিং’–এর মতো কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে নতুন অধ্যায়। সম্প্রতি চলচ্চিত্র পরিচালক শরণ শর্মার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারের আগে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর পক্ষ থেকে স্পষ্ট অনুরোধ ছিল, তাঁর বিয়ে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।

নতুন সংসার আর ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’–এর দ্বিতীয় মৌসুমের সাফল্য—দুই মিলিয়ে সময়টা তাই আকাঙ্ক্ষার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। মুম্বাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আলাপচারিতায় তিনি কথা বলেছেন সিরিজটির নতুন মৌসুম, দীর্ঘ অভিনয়সংগ্রাম, ‘ইনসাইডার-আউটসাইডার’ বিতর্ক, ছোট পর্দা এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে।

আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

দর্শকের ভালোবাসাই বড় শক্তি
প্রথম মৌসুমের জনপ্রিয়তাই দ্বিতীয় মৌসুমের পথ সহজ করে দিয়েছে, মনে করেন আকাঙ্ক্ষা। তাঁর ভাষায়, দর্শক আগেই চরিত্রগুলোর সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক গড়ে ফেলেছিলেন। তাই এবার নির্মাতারা চরিত্রগুলোর ভেতরের দিক আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম মৌসুম নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া লেখকেরা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিলেন। আমার বিশ্বাস ছিল, সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দ্বিতীয় মৌসুমে দেখা যাবে।’

সিরিজটির সাফল্যে আকাঙ্ক্ষা বিস্মিত নন। শুরু থেকেই গল্পের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল। চিত্রনাট্য পড়ার পরই মনে হয়েছিল, এটি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে। টিভিএফের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করাও সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছিল। ‘আমি যখনই কোনো কাজ করি, বিশ্বাস নিয়েই করি। তা না হলে সেই কাজের জন্য স্বাক্ষর করি না। শুটিংয়ের সময় পুরো ইউনিটের নিষ্ঠা দেখে মনে হয়েছিল, ভালো কিছু তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের রায়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাত বছরের অপেক্ষা
বলিউডে ‘ইনসাইডার’ ও ‘আউটসাইডার’ বিতর্ক নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না আকাঙ্ক্ষা। তাঁর মতে, জন্মপরিচয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একজন শিল্পীর অধ্যবসায়। তিনি বলেন, ‘মাত্র এক শতাংশ অভিনেতার জন্য হয়তো পথটা সহজ হয়। বাকি ৯৯ শতাংশকেই অডিশন দিতে হয়, প্রত্যাখ্যাত হতে হয়, আবার নতুন করে শুরু করতে হয়।’ নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে জানান, ১৯ বছর বয়সে কলেজে পড়ার সময় থেকেই অডিশন দেওয়া শুরু করেছিলেন। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া সেই পথচলায় প্রথম বড় সুযোগ ২০১৯ সালের ছবি ‘গিলটি’। ‘সাত বছর ধরে আমি শুধু অডিশনই দিয়ে গেছি,’ বলেন তিনি।

এই দীর্ঘ সময়ে সংসারের ওপর নির্ভর না করে নিজের খরচ নিজেই চালিয়েছেন। একটি জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, পাশাপাশি ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও কাজ করেছেন। আকাঙ্ক্ষার ভাষায়, কঠিন সেই সময়ই তাঁকে ধৈর্যশীল ও পরিণত হতে শিখিয়েছে।

আরও পড়ুন

খুঁজেছেন শক্তিশালী চরিত্র
পরিবারের অনেকেই টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত হলেও অভিনয়জীবনের শুরুতে ছোট পর্দাকে আলাদা লক্ষ্য হিসেবে দেখেননি আকাঙ্ক্ষা। তাঁর আকর্ষণ ছিল এমন চরিত্র, যেখানে নারীকে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় সিনেমাতেই এমন সুযোগ বেশি ছিল বলে মনে করেছেন তিনি। তবে ছোটবেলার টেলিভিশন স্মৃতি এখনো তাঁকে আলোড়িত করে। নীনা গুপ্তার সাঁস এবং দিব্যা দত্ত অভিনীত কদম–এর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এমন একটা চরিত্র যদি করতে পারতাম!’ তাঁর বিশ্বাস, আগের সময়ের টেলিভিশনে গল্প ও চরিত্রের বৈচিত্র্য অনেক বেশি ছিল।
অনেকের ধারণা, শহুরে চরিত্রেই তিনি বেশি মানানসই। তবে এ ধারণার সঙ্গে একমত নন আকাঙ্ক্ষা, ‘চরিত্রটা কোথাকার, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো তার আবেগ, উদ্দেশ্য আর গল্পে তার ভূমিকা।’ ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’ তাঁকে সেই সুযোগই দিয়েছে। ছোট শহর ও গ্রামের এক চিকিৎসকের জীবনকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পেরে তিনি বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছেন।

আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘গ্রাম চিকিৎসালয়’–এর মূল বিষয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে আকাঙ্ক্ষার বিশ্বাস, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা শহর-গ্রামনির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, ‘এক দিনে মানুষ, সমাজ বা পৃথিবী—কোনোটাই বদলে যায় না। ইতিবাচক পরিবর্তন সময় নিয়েই আসে।’

এই বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে আকাঙ্ক্ষার নিজের অভিজ্ঞতাও। মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে শুটিং করতে গিয়ে কয়েকবার স্থানীয় হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ‘প্রত্যন্ত এলাকায় এমন সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক স্বাস্থ্যসেবা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, দেশের নানা প্রান্তে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনই ভবিষ্যতের জন্য আশার কথা,’ বলেন আকাঙ্ক্ষা।