‘সবাই যেন বাক্সের ভেতর ভরে দিতে চান’

বণিতা সান্ধু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সুজিত সরকারের ‘অক্টোবর’ ছবির সেই মায়াবী চোখ আর নিষ্পাপ মুখের ‘শিউলি’ হয়তো কারও কারও স্মৃতিতে আজও তাজা। ওয়েলসের ক্যার্লিওনে বেড়ে ওঠা বণিতা সান্ধু ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন। ফিল্মফেয়ার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বণিতা জানিয়েছেন, ভিনদেশে বড় হলেও হিন্দি ছবির ভক্ত তিনি ছোটবেলা থেকেই।

বণিতা সান্ধু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মাত্র ১১ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেন বণিতা। বিবিসির এক শো দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু। লন্ডনের কিংস কলেজে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয় চালিয়ে যান। ১৮ বছর বয়স থেকে পেশাদার শিল্পী হিসেবে পুরোদমে কাজ শুরু করেন। অভিনয়ের টানে লন্ডন থেকে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান বণিতা।

তিনি বলেন, ‘ওয়েলসের হোয়াইট টাউনে বড় হলেও পরিবারের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আমি দারুণভাবে যুক্ত ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই ভারতীয় খাবার, গান আর সিনেমার আবহে বেড়ে উঠেছি। মায়ের রান্না করা ভারতীয় খাবার আমার প্রিয়। হিন্দি ও পাঞ্জাবি গান শুনেই বড় হয়েছি। এমনকি পরিবারে ছোটখাটো অনুষ্ঠানে আমি আর আমার বোন বলিউড গানের সঙ্গে নাচতাম।’

বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সূত্র ধরেই প্রথম ভারতে আসা, সুজিত সরকারের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য দিল্লিতে গিয়েছিলেন বণিতা। পাঁচ দিনের সেই অভিজ্ঞতা ছিল দুর্দান্ত। এই তরুণ অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণা, ‘চুইংগামের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলাম। শুটিংয়ের শেষ দিনে সুজিতদা আর প্রযোজক বললেন, আমার কাজ তাঁদের ভালো লেগেছে। তখনই তিনি “অক্টোবর” ছবির কথা বলেন। চিত্রনাট্য শুনে মনে হয়েছিল, চরিত্রটি ছোট হলেও ঠিক যেন কবিতার মতো সুন্দর। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। কারণ, আবারও সুজিতদার সঙ্গে কাজ করতে চাইছিলাম।’

বণিতা সান্ধু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সে সময় ইংরেজির পাশাপাশি ভাঙা ভাঙা পাঞ্জাবিতে কথা বলতে পারলেও হিন্দি পারতেন না বণিতা। অভিনয় করবেন বলে আলাদাভাবে হিন্দির প্রশিক্ষণ নেন, সুজিতের সঙ্গে ভিডিও কলে হিন্দিতে কথা বলার চর্চাও করতেন তিনি।

২০১৮ সালে অক্টোবর দিয়ে হিন্দি সিনেমায় নাম লেখান। রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার এ ছবিতে বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন তিনি। পরে সুজিত সরকারেরই আরেক ছবি “সরদার উধাম”-এ অভিনয় করেন বণিতা। এটিকেই নিজের সবচেয়ে প্রিয় কাজ বলেন।

বণিতা সান্ধু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তিনি বলেন, ‘“সরদার উধাম” ছবির অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। ভিকি কৌশলকে আমি অবাক হয়ে দেখেছি, উনি কাজে সত্যিকারের গুরু। অভিনয়ের সময় মনে হয়েছিল, আমি যেন জন্মই নিয়েছি অভিনেত্রী হওয়ার জন্য। তবে ছবিটি করা খুবই কঠিন ছিল। সংবেদনশীল ও ভয়ংকর এক বিষয় নিয়ে গল্প। শুটিং শেষে হোটেলের রুমে ফিরে আমি কেঁদে ফেলতাম। এটি আমার জন্য ভীষণ বেদনাদায়ক ছিল। এমন একটা ছবিতে যুক্ত করার জন্য সারা জীবন সুজিতদার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।’

সর্বশেষ “ডিটেকটিভ শেরদিল” ছবিতে মূক-বধির চরিত্রে অভিনয় করে দর্শককে চমকে দেন বণিতা। বলেন, ‘এ ছবির কাস্ট দুর্দান্ত। রত্না পাঠক শাহ আর বোমান ইরানির মতো অভিনেতাদের সঙ্গে সেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়।’

আরও পড়ুন

অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে চান বণিতা সান্ধু। ‘সবাই যেন বাক্সের ভেতর ভরে দিতে চান আমাকে। হিন্দি ছবিতে অভিনয় করি, না ইংরেজি ছবিতে, বড় পর্দায়, নাকি ছোট পর্দায়—সব সময় একটা বাক্সে ফেলে দেওয়া। আমি এভাবে কাজ করতে চাই না। ছবির গল্প লিখতে চাই, প্রযোজনা করতে চাই, যাতে নিজের ইচ্ছেমতো চরিত্র তৈরি করতে পারি,’ বললেন বণিতা।