পর্দায় প্রথমবার চুম্বন দৃশ্য, শুনে কী বলেছিলেন ক্যাটরিনা
২০১১ সালে মুক্তির পর ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ শুধু বক্স অফিসেই সাড়া ফেলেনি, সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় রোড ট্রিপ ছবি। সম্প্রতি ছবিটির বহুল আলোচিত একটি দৃশ্যের নেপথ্যের গল্প জানিয়েছেন পরিচালক জোয়া আখতার। বিশেষ করে ক্যাটরিনা কাইফের লায়লা ও হৃতিক রোশনের অর্জুনের চুম্বন দৃশ্যটি কীভাবে গল্পে এসেছে, সেটিই উঠে এসেছে তাঁর কথায়।
১৭ আগস্ট মুনসুন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জোয়া এই দৃশ্য নিয়ে কথা বলেন। দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার অনুপমা চোপড়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, লায়লা চরিত্রটি শুরু থেকেই এমন একজন তরুণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যে মুহূর্তকে উপভোগ করে, নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু চিত্রনাট্যে তাঁর এই স্বভাবের যথেষ্ট প্রকাশ ঘটছিল না।
জোয়ার ভাষায়, লায়লা এমন একজন মানুষ, ‘যে মুহূর্তের মধ্যে বাঁচে এবং নিজের মতো করে কাজ করে।’ অথচ পুরো ছবিতে তাঁকে সেভাবে কোনো তাৎক্ষণিক বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি। তাই বিদায়ের মুহূর্তে এমন কিছু দরকার ছিল, যা চরিত্রটির এই বৈশিষ্ট্যকে স্পষ্ট করে দেবে।
আর সেখান থেকেই আসে সেই চুম্বন। ছবিতে দেখা যায়, অর্জুন তখন লায়লার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। লায়লা বুঝতে পারে, হয়তো আর কখনো অর্জুনের সঙ্গে দেখা হবে না। সেই মুহূর্তে কোনো দীর্ঘ পরিকল্পনা নয়, বরং হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়েই সে অর্জুনকে চুমু খেতে ছুটে যায়।
জোয়া আখতারের ব্যাখ্যায় দৃশ্যটির মধ্যে রূপকথার একটি মজার উল্টে দেওয়া ধারণা রয়েছে। সাধারণ রূপকথায় রাজপুত্র চুমু দিয়ে ঘুমন্ত সুন্দরীকে জাগিয়ে তোলে। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো।
জোয়া বলেন, অর্জুন আসলে ‘স্লিপিং বিউটি’—অর্থাৎ ঘুমন্ত সুন্দরী। আর লায়লা হলো রাজপুত্র। কারণ, অর্জুন তখন নিজের কাজ, সাফল্য আর অর্থ উপার্জনের দৌড়ে এতটাই ডুবে আছে যে জীবনের আসল আনন্দ থেকে দূরে সরে গেছে। লায়লার চুমুই তাকে সেই ঘোর থেকে জাগিয়ে তোলার প্রতীক।
চরিত্র দুটির এই পার্থক্যই দৃশ্যটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। অর্জুন যেখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেখানে লায়লা বাঁচে মুহূর্তের আনন্দে। ফলে বিদায়ের আগে লায়লার হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তটি তার চরিত্রেরই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।
ক্যাটরিনার প্রথম অন-স্ক্রিন চুম্বন
এই দৃশ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি বিশেষ তথ্য। জোয়া জানান, ছবিতে অভিনয়ের সময় ক্যাটরিনা কাইফের আগে কোনো অন-স্ক্রিন চুম্বনের অভিজ্ঞতা ছিল না।
ক্যাটরিনা যখন চিত্রনাট্যটি পড়েন, তখন জোয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। পরিচালক জানান, দৃশ্যটি চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই রাখা হয়েছে। ক্যাটরিনার প্রতিক্রিয়াও ছিল যথেষ্ট পেশাদার। জোয়ার কথায়, ক্যাটরিনা বলেছিলেন, তিনি বুঝতে পারছেন, চিত্রনাট্যের জন্য দৃশ্যটি প্রয়োজন।
ফলে দৃশ্যটি কেবল রোমান্টিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, লায়লার চরিত্র নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই জায়গা করে নেয়।
যে দৃশ্য বদলে দিয়েছিল অর্জুনকে
হৃতিক রোশন অভিনীত অর্জুন চরিত্রটি ছবির শুরুতে একজন সফল কিন্তু কাজপাগল তরুণ। অর্থ, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুর হিসাব তার জীবনে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে বর্তমানকে উপভোগ করার সময় নেই।
অন্যদিকে ক্যাটরিনার লায়লা সম্পূর্ণ বিপরীত। সে স্বাধীনচেতা, প্রাণবন্ত এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চায়। তাই অর্জুনকে বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে লায়লার ভূমিকা শুধু প্রেমের নয়; বরং জীবনের প্রতি অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্বও করে সে।
চুম্বন দৃশ্যটি সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। লায়লা যেন অর্জুনকে বলে দেয়—জীবনকে শুধু ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখলে চলবে না, বর্তমানকেও বাঁচতে হবে।
ক্যাটরিনা কাইফ, হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার, অভয় দেওল ও কালকি কোচলিন অভিনীত ছবিটি তিন বন্ধু কবির, অর্জুন ও ইমরানের স্পেন ভ্রমণের গল্প। রিতেশ সিধওয়ানি ও ফারহান আখতার প্রযোজিত ছবিটি পরিচালনা করেন জোয়া আখতার।
মুক্তির ১৫ বছর পরও ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো—ছবিটি বন্ধুত্ব, প্রেম, ভয়, জীবনকে উপভোগ করা এবং নিজের ভেতরের পরিবর্তনকে একই গল্পে মিলিয়ে দিয়েছিল। আর লায়লা-অর্জুনের সেই আকস্মিক চুম্বন হয়ে আছে ছবিটির দর্শকপ্রিয় মুহূর্তগুলোর একটি।