চুম্বনের দৃশ্য করতে রাজি হননি, দূরে থাকার কারণ জানালেন নায়িকা

‘আনওয়ার’ সিনেমায় নওহিদ সাইরুসি। আইএমডিবি

বলিউডের ঝলমলে পর্দার আড়ালে যে বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে, সেটাই খোলাখুলি তুলে ধরলেন অভিনেত্রী নওহিদ সাইরুসি। দীর্ঘদিন বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

অনুপস্থিতির আড়ালের গল্প
‘আনওয়ার’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দায় খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। ভক্তদের কাছ থেকে বারবার একই প্রশ্ন—নতুন কোনো সিনেমা বা শো কবে আসছে? সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই নিজের অভিজ্ঞতার কথা খুলে বললেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নওহিদ সাইরুসি জানান, অভিনয়জীবনের নানা অঘোষিত শর্তই তাঁকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

‘অপ্রয়োজনীয়’ অন্তরঙ্গ দৃশ্যের চাপ
নওহিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন অনেক ক্ষেত্রেই অভিনয়ের চুক্তি মানেই ধরে নেওয়া হয়—অভিনেত্রীকে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ থাকতে হবে। তাঁর মতে, এই দৃশ্যগুলো অনেক সময় গল্পের প্রয়োজন ছাড়াই জোর করে ঢোকানো হয়।
নওহিদের কথায়, ‘এখন তো প্রায় অকারণেই চুম্বনের দৃশ্য ঢোকানো হয়। আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। এমনকি না বলার আগেই অনেক কাজ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে।’
এ অবস্থান তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও জানান নওহিদ।

নওহিদ সাইরুসি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ
শুধু অভিনয়ের শর্তই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক প্রযোজক চুক্তি অনুযায়ী পুরো পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন না।

নওহিদের ভাষায়, ‘শুটিং শেষ হওয়ার পর প্রায় ২৫ শতাংশ টাকা আটকে রাখা হয়, যা অনেক সময় আর পাওয়া যায় না। নানা অজুহাতে সেই অর্থ আটকে রাখা হয়, যেমন সিনেমা ভালো ব্যবসা করেনি ইত্যাদি।’
নওহিদ সাইরুসি বলেন, ‘আমি আমার কাজ করেছি, কিন্তু টাকা না পেলে কার কাছে বিচার চাইব?’

আরও পড়ুন

‘ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দুনিয়া’ থেকে দূরে
নওহিদ আরও জানান, তিনি কখনোই ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত ‘ইনার সার্কেল’-এর অংশ ছিলেন না। প্রযোজক-অভিনেতাদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশা না করায় অনেক সময় ভালো সুযোগ পাননি। ফলে তাঁকে প্রায়ই ছোটখাটো চরিত্র—কারও বোন, কারও ভাবি—এই ধরনের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখা হতো, যা করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

ইনস্টাগ্রামেই নতুন ঠিকানা
অভিনয়ের বাইরে এসে নওহিদ খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক পরিচয়—সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে, আর সেটাকেই তিনি নিজের ‘আসল জায়গা’ বলে মনে করছেন।

নওহিদের কথায়, ‘আমি বুঝেছি, ইনস্টাগ্রামই আমার জন্য ঠিক জায়গা। এখানে আমি নিজেকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে পারি।’

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে