‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ গান, নোরা–সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সমন জারি
দিন কয়েক ধরেই কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর আইটেম গান নিয়ে তোলপাড়! যে গানের দৃশ্যে ‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ অঙ্গভঙ্গির জেরে বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফতেহি, সঞ্জয় দত্তও। শ্রোতামহলের একাংশের অভিযোগ, ‘সারকে চুনার’ গানের লিরিকস অশ্লীল-চটুল শব্দে ঠাসা। গত বুধবারই কন্নড় সিনেমার ওই ‘যৌন ইঙ্গিতমূলক’ আইটেম নম্বর নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল সংসদে। সেখানেই তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব চটুল গানটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেন। আগেই নির্মাতাদের নোটিশ ধরিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এবার ‘সারকে চুনার’ গানের দৃশ্যে যৌন ইঙ্গিতমূলক অঙ্গভঙ্গির জন্য নোরা ফতেহি ও সঞ্জয় দত্তকে তলব করল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন।
‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর আইটেম গান নিয়ে বিতর্ক ক্রমে বাড়ছে। আসলে সংশ্লিষ্ট গানে ব্যবহৃত ‘অশালীন’ শব্দ নিয়েই নিন্দার ঝড়। এমন বিষয়বস্তুর প্রচার করায় এবার স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর তাদের দাবি, ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ গানের বিষয়বস্তু আদতে যৌন উত্তেজক এবং আপত্তিকর। তা ছাড়া এটি ‘ভারতীয় ন্যায়সংহিতা’, ‘তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০’ এবং ‘পকসো’র মতো একাধিক আইন লঙ্ঘন করছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই ২৪ মার্চ নোরা ফতেহি ও সঞ্জয় দত্তকে তলব করেছে জাতীয় নারী কমিশন।
দুই বলিউড তারকার সঙ্গে গীতিকার রাকিব আলম, প্রযোজক ভেঙ্কট কে নারায়ণ ও পরিচালক কিরণ কুমারকেও তলব করা হয়েছে। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় কমিশনে সশরীর হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেককে। তবে তার অন্যথা হলে যে তারকাদের চরম পরিণতি ভুগতে হবে, এ বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
আবার গানের কথার পাশাপাশি নোরা ফতেহির নাচের চটুল অঙ্গভঙ্গি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। অনেকের দাবি, এমন অঙ্গভঙ্গি ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে। একাংশ আবার ‘আবর্জনা’ বলেও কটাক্ষ করলেন নোরা-সঞ্জয়ের আইটেম গানকে। কটাক্ষ করে কঙ্গনা রনৌতও বলেছেন, ‘বলিউড অশ্লীলতার সব মাত্রা ছাড়িয়েছে।’ যদিও বিতর্কে জড়িয়ে গীতিকার রাকিব আলম বলছেন, তিনি কন্নড় ভাষা থেকে হিন্দিতে গানের লিরিকস অনুবাদ করেছেন মাত্র।
অন্যদিকে গতকাল তুমুল বিতর্কের মুখে গানটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান নোরাও। নোরা জানান, গানটির কথা ও উপস্থাপনা সম্পর্কে তাঁকে আগেভাগে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, তাঁকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগটি এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। নোরার দাবি, গানটির কিছু অংশে এআই ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাঁর অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই নির্মাতাদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গানটি সেভাবেই প্রকাশ করা হয়।
ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনে