২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার প্রতারণা মামলায় আবার বিপাকে জ্যাকুলিন

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে তিনি ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচার মামলার একজন ভুক্তভোগী। কিন্তু দিল্লির একটি আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই দাবিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। আদালত মনে করছেন, প্রাথমিকভাবে এমন যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা যায় যে প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও জ্যাকলিন তাঁর কাছ থেকে কোটি কোটি রুপির বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছিলেন।

গত শনিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন বিচারক প্রশান্ত শর্মা ২০০ কোটি রুপির অর্থ পাচার ও চাঁদাবাজি মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখরসহ সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজও।

আদালতের ভাষায় ‘যোগসাজশ’
অভিযোগ গঠনের সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ অপরাধলব্ধ অর্থের ব্যবহার গোপন করার ক্ষেত্রে সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে ‘যোগসাজশে’ ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জ্যাকুলিন প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ রুপির বিভিন্ন উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তিনি অভিযুক্ত পিঙ্কি ইরানি ও লীপাক্ষি এলাওডির মাধ্যমে সুকেশের অপরাধমূলক অতীত সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সুকেশ জ্যাকুলিনের বোন জেরাল্ডিন জে ওয়াকারের বিদেশি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার এবং ভাই ওয়ারেন জে ফার্নান্দেজের হিসাবে প্রায় ২৬ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পাঠিয়েছিলেন।

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কেন জ্যাকুলিনকে ভুক্তভোগী হিসেবে দেখছেন না আদালত? জ্যাকুলিনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছিল, সুকেশ নিজেকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিন্তু আদালত বলেছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিচারক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী সন্দেহ’ তৈরি হয়েছে, যা অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট।

আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় জ্যাকুলিন স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর বাবা-মায়ের জন্য কেনা গাড়িগুলো তিনি পেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই গাড়িগুলোও অপরাধলব্ধ অর্থ ব্যবহার করে কেনা হয়েছিল। আদালতের মতে, বিষয়টি অপরাধলব্ধ অর্থের ব্যবহার গোপন করার ক্ষেত্রে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
আগে থেকেই সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন?

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জ্যাকুলিনকে সুকেশের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছিল। সেসব প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জালিয়াতি, ঘুষ ও ব্যাংক প্রতারণার অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল।
তদন্ত সংস্থার দাবি, সেসব তথ্য জানার পরও জ্যাকুলিন সুকেশের কাছ থেকে দামি উপহার, পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য বিলাসবহুল সামগ্রী গ্রহণ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলা ২০০ কোটি রুপির এই মামলা কয়েক বছর ধরে ভারতের অন্যতম আলোচিত অর্থ পাচার কাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুকেশ চন্দ্রশেখর বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করেছিলেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল উপহার, গাড়ি, গয়না ও বিদেশি লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।
এখন আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের আইনি লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যদিও অভিযোগ গঠন মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়, তবে আদালত যে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রাথমিক ভিত্তি পেয়েছেন, সেটিই এই মামলার নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে