জেলে রাজপাল, সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন সালমান, অজয়রা

সালমান খান, রাজপাল যাদব ও অজয় দেবগনছবি: কোলাজ

চেক বাউন্স মামলায় কিছুদিন আগেই তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব। এর আগে ৯ কোটি রুপি চেক বাউন্স-সংক্রান্ত মামলায় তাঁর অর্থ পরিশোধের সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ করেন দিল্লি হাইকোর্ট। প্রায় ১৫ বছর আগে নেওয়া একটি ঋণকে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা শেষ পর্যন্ত গড়ায় তিহার জেলে আত্মসমর্পণ পর্যন্ত। এবার অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের বড় বড় তারকা। সালমান খান, অজয় দেবগন থেকে বরুণরা তাঁর পাশে থাকার কথা দিয়েছেন।

রাজপাল যাদব। অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনেতার ম্যানেজার গোল্ডি জানান, অনেকেই রাজপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। সোনু সুদ, সালমান খান, অজয় দেবগণসহ অনেকেই তাঁর পাশে আছেন। আমি সম্প্রতি ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি, তিনিও সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। রতন নাইন, বরুণ ধাওয়ান—অনেকেই এগিয়ে এসেছেন, তাঁদের কাছে রাজপাল কৃতজ্ঞ।
যদিও রাজপাল আগে কোনো সাহায্য চেয়েছিলেন কি না সে বিষয়ে গোল্ডি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, যখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছিল তখনই শিল্পমহল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। সবাই পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে এ ধরনের লেনদেন রাতারাতি হয় না।’

আরও পড়ুন

ম্যানেজার আরও জানান, রাজপাল খুব শিগগিরই জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। ফেব্রুয়ারিতে পরিবারের কিছু অনুষ্ঠানও আছে। সবাই চায় রাজপাল তখন পর্যন্ত মুক্ত থাকুক। আশা করা যায়, তিনি আগামীকাল জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।
এর আগে সোনু সুদ, গুরু রন্ধাওয়া, গুরমীত চৌধুরী, কেআরকে ও সংগীত পরিচালক রাও ইন্দ্রজিৎ যাদবও রাজপালের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাও ইন্দ্রজিৎ ১ কোটি ১১ লাখ রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়ে রাজপালের ব্যাংক ডিটেইল শেয়ার করেছিলেন, যা অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। এরপর রাজনীতিবিদ তেজপ্রতাপ যাদব ১১ লাখ রুপি, আর কেআরকে ১০ লাখ রুপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
২০১০ সালে রাজপাল যাদব তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এর ফলে ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয় এবং শুরু হয় আইনি লড়াই।

রাজপাল যাদব। অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে

ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হওয়ার পর, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজপাল যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখেন।
পরবর্তীকালে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর, ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করেন এবং স্পষ্টভাবে জানান যে বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি রুপিতে।

২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ রাজপাল যাদব দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি মোট দায়ের তুলনায় খুবই সামান্য। এরপর গত ডিসেম্বরে ৪০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। তিনি জানান যে ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি টাকা শোধ করে দেবেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই পূরণ করা হয়নি।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজপাল যাদবের করা এক সপ্তাহের সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি।

৫ ফেব্রুয়ারি শেষবার আদালতে হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির চেক এবং নতুন পরিশোধসূচি প্রস্তাব করেন। কিন্তু আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। সেদিনই বিকাল ৪টায় রাজপাল যাদব তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে