মাধুরীর সঙ্গে নাচতে কেউ রাজি ছিলেন না! কারণ জানালেন কারিশমা

‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার দৃশ্যে মাধুরী ও কারিশমা। আইএমডিবি

বলিউডের ইতিহাসে ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ শুধু একটি সফল প্রেমের ছবি নয়, এটি নব্বইয়ের দশকের পপ কালচারেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও কারিশমা কাপুর অভিনীত ছবিটি আজও দর্শকের আবেগের জায়গা দখল করে আছে। তবে ছবিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘নিশা’ করতে একসময় নাকি কেউই আগ্রহী ছিলেন না। সম্প্রতি এমনই এক অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন কারিশমা কাপুর।
এক সাক্ষাৎকারে কারিশমা বলেন, ছবিটি নির্মাণের সময় বলিউডের অনেক অভিনেত্রীই নিশার চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি। কারণ, তাঁদের মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে পর্দায় নাচের প্রতিযোগিতায় নামতে হতো।

কারিশমার ভাষায়, ‘তখন কেউই মাধুরীর বিপরীতে ওই চরিত্র করতে চাইছিল না। তাঁর সঙ্গে নাচতে হবে, একই ফ্রেমে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করতে হবে—এটাই অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’

কিন্তু করিশমা সেই ঝুঁকিই নিয়েছিলেন; আর সেটিই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে। ছবিতে নিশা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতেছিলেন।

কারিশমার মতে, নিশা চরিত্রটি সেই সময়ের বলিউড নায়িকাদের প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়েছিল। সাধারণত নায়িকার প্রেমেই নায়ক পড়েন, গল্পের শেষে তাঁদের মিলন ঘটে; কিন্তু নিশার গল্প ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

কারিশমা বলেন, ‘নিশা ছিল নায়িকা; কিন্তু প্রচলিত অর্থে নয়। সে সেই মেয়ে, যাকে নায়ক ভালোবাসে না; বরং নায়ক তাকে প্রত্যাখ্যান করে। দর্শক তার কষ্ট অনুভব করতে পারে। এটা তখনকার বলিউডে খুব বিরল ছিল।’

কারিশমার কাছে চরিত্রটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তার আবেগের গভীরতা। তিনি বলেন, ‘আজও ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়। কারণ, সাধারণত নায়ক-নায়িকার প্রেমই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়; কিন্তু এখানে এক মেয়ের হৃদয় ভাঙার গল্প ছিল। সে ভাবছে, আমি তো ওকে এত ভালোবাসি, তাহলে কেন সে আমাকে ভালোবাসছে না? এই যন্ত্রণা প্রকাশ করা ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।’

‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার পোস্টার থেকে। আইএমডিবি

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ পরিচালনা করেছিলেন যশ চোপড়া। ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতের ‘পূজা’ এবং কারিশমা কাপুরের ‘নিশা’—দুই নারী চরিত্রই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত শাহরুখ খানের চরিত্র রাহুলের ভালোবাসা জোটে পূজার ভাগ্যে, আর নিশাকে মেনে নিতে হয় হৃদয়ভাঙার বাস্তবতা।

আরও পড়ুন

কারিশমা মনে করেন, সেই অসমাপ্ত প্রেমই নিশাকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবন পেরিয়ে আসা কারিশমা এখনো নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান। তাঁর কথায়, ‘আমি কখনো খুব বেশি পরিকল্পনা করে চলিনি। কখনো দীর্ঘ সময় কাজ করিনি, আবার কখনো খুব ব্যস্ত থেকেছি। জীবনের এই ওঠা–নামাগুলো আমি উপভোগ করি।’

বর্তমানে ওয়েব সিরিজ ‘ব্রাউন’-এ অভিনয় করছেন তিনি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও নতুন ধরনের চরিত্র খুঁজে নিতে আগ্রহী কারিশমা। তবে তাঁর বিশ্বাস, কোনো সাফল্যের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অতিরিক্ত হিসাব-নিকাশ করার চেয়ে মুহূর্তটাকে উপভোগ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে