রাজনীতির কারণেই কি থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমার মুক্তি আটকে যাবে
পরশু মুক্তি পাওয়ার কথা দক্ষিণ ভারতের তারকা থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’। অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও দারুণ সাড়া পড়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে দুঃসংবাদ, ছবিটি নিয়ে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখনো তাই ছাড়পত্র পায়নি ছবিটি। এর ফলে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ছবিটি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনে (সিবিএফসি) জমা পড়লে কয়েকটি দৃশ্য কাটছাঁটের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ শর্তে সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু হঠাৎ সার্টিফিকেশনের প্রক্রিয়া থামিয়ে নতুন করে গঠিত কমিটির কাছে ছবিটি রিভিউর জন্য পাঠানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে থালাপতি বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত ছবিটি শেষ মুহূর্তে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আদালতের দ্বারস্থ প্রযোজকেরা
সেন্সরের জটিলতা নিয়ে প্রযোজকেরা মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, এক মাসের বেশি আগে ছবি জমা দেওয়া হলেও অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। আজকের শুনানিতে বিচারপতি পি টি আশা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। সিবিএফসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল (এএসজি)।
এএসজি আদালতকে জানান, সার্টিফিকেশন দেওয়ার আগে যেকোনো পর্যায়ে সিবিএফসির চেয়ারম্যানের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে ছবিটি রিভিউর নির্দেশ দেওয়ার, বিশেষ করে যদি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বা অমীমাংসিত আপত্তি থাকে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষণ কমিটির এক সদস্য অভিযোগ তুলেছেন যে তাঁর আপত্তিগুলো নথিভুক্ত করা হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সার্টিফিকেশন স্থগিত রেখে নতুন করে রিভিউর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের আচরণ নিয়ে আদালতের প্রশ্ন
তবে আদালত এ যুক্তির সমালোচনা করেন। বিচারপতি পি টি আশা প্রশ্ন তোলেন, কেন নির্মাতাদের আগে জানানো হয়নি যে নতুন করে রিভিউ করা হবে?
বিচারপতি পি টি আশা আরও প্রশ্ন তোলেন, কাটছাঁট সাপেক্ষে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হওয়ার পর বোর্ড কীভাবে হঠাৎ নিজের অবস্থান বদলাতে পারে। এ ধরনের অভিযোগকে তিনি ‘স্বাস্থ্যকর নয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং প্রযোজকদের আগে কোনো নোটিশ না দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিপুল আর্থিক ঝুঁকি
প্রযোজনা সংস্থার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সতীশ পরাসরন জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরীক্ষণ কমিটির পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ছবির সার্টিফিকেশনের পক্ষে ছিলেন। একজন সদস্যের পরবর্তী আপত্তি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে খারিজ করতে পারে না।
সতীশ পরাসরন আরও জানান, আজকের শুনানিতেই প্রথম জানা গেছে, অভিযোগটি এসেছে পরীক্ষণ কমিটির এক সদস্যের কাছ থেকেই। মুক্তির তারিখ ঘোষিত হয়ে যাওয়ার পর ছবিটি আটকে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ কোটি রুপি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সিবিএফসি সিনেমাটোগ্রাফ রুলস ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুক্তির দিনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা
এএসজি আদালতে আবারও বলেন, চেয়ারম্যানের ক্ষমতার আওতায় এই রিভিউ বৈধ এবং আদালতের এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। সর্বোচ্চ আদালত চাইলে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন, যাতে প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি পি টি আশা রায় সংরক্ষিত রাখেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ৯ জানুয়ারি সকালে, অর্থাৎ ছবির নির্ধারিত মুক্তির দিনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।
এ ছবিতে থালাপতি বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মমিতা বাইজু, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রকাশ রাজ, নারাইন, প্রিয়ামণি, সুনীলসহ অনেকে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া