‘গোপন বিয়ে’, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে বিচ্ছেদের আবেদন–প্রত্যাহার, গোবিন্দ–সুনীতার গল্প সিনেমার মতোই
বলিউডের পর্দায় গোবিন্দকে বরাবরই হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং রোমান্টিক নায়ক হিসেবে দেখা গেছে। তবে পর্দার বাইরে তাঁর জগতের দাম্পত্যে কয়েক বছর ধরে ছিল কিছু জটিলতা। একসময় সেই টানাপোড়েন গিয়ে পৌঁছায় বিচ্ছেদের আবেদন পর্যন্ত। তবে এখন সেই গল্পে এসেছে নতুন মোড়। গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা তাঁর করা বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অভিনেতার ম্যানেজার শশী সিনহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তাঁদের মধ্যে এখন আর বিচ্ছেদের প্রশ্ন নেই।
প্রায় চার দশকের এই সম্পর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। কৈশোরের প্রেম, গোপনে বিয়ে, তারকা হয়ে ওঠার দিনগুলো, সংসার, সন্তান, দাম্পত্যের টানাপোড়েন, পরকীয়ার অভিযোগ—এই সবকিছু মিলিয়ে গোবিন্দ ও সুনীতার সম্পর্ক যেন কোনো বলিউডের সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
কৈশোরেই শুরু প্রেম
গোবিন্দ ও সুনীতার পরিচয় হয়েছিল পরিবারের সূত্রে। সুনীতার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এবং এরপর সেই বন্ধুত্ব আস্তে আস্তে প্রেমে পরিণত হয়। সুনীতা পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গোবিন্দর সঙ্গে তাঁর প্রেমের শুরুটা হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই।
তখন অবশ্য গোবিন্দ আজকের তারকা ছিলেন না। অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং সংগ্রাম করতেন। অন্যদিকে সুনীতার পরিবারও চাইত না মেয়ের বিয়ে চলচ্চিত্র জগতের কারও সঙ্গে হোক। কিন্তু প্রেমের কাছে সেই আপত্তি শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ তাঁদের বিয়ে হয়। তখন গোবিন্দ বলিউডে নিজের জায়গা তৈরির লড়াইয়ে ছিলেন। বিয়ের খবর তাঁরা বেশ কিছুদিন গোপন রেখেছিলেন। প্রায় চার বছর নিজেদের দাম্পত্যের কথা প্রকাশ্যে আনেননি। পরে গোবিন্দ নিজেই স্বীকার করেছিলেন, বিয়ের কথা গোপন রাখা তাঁর ভুল ছিল এবং এতে সুনীতা কষ্ট পেয়েছিলেন।
তারকা গোবিন্দ, পাশে সুনীতা
গোবিন্দর ক্যারিয়ার দ্রুত এগোতে শুরু করেছিল, তখন তাঁদের সংসারও বড় হতে থাকে। নব্বইয়ের দশকে গোবিন্দ হয়ে ওঠেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। কমেডি, নাচ এবং রোমান্টিক অভিনয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। সেই সময়ের সাফল্যের পেছনে সুনীতার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
তাঁদের সংসারে যোগ দেয় মেয়ে টিনা আহুজা এবং ছেলে যশবর্ধন আহুজা। তবে তাঁদের আরেকটি কন্যাসন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায়—যে ঘটনা গোবিন্দকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দীর্ঘ দাম্পত্যে সুখের পাশাপাশি মতবিরোধও ছিল। কখনো সেই বিরোধ এসেছে সংবাদমাধ্যমে, কখনো আবার দুজনই তা সামলে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে।
বিচ্ছেদের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়
গোবিন্দ ও সুনীতার বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। তবে দীর্ঘদিন সুনীতা নিজেই এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি একসময় তিনি বলেছিলেন, সত্যিই যদি তাঁদের বিচ্ছেদ হয়, তাহলে তিনিই সেটা প্রকাশ্যে জানাবেন।
২০২৫ সালে অবশ্য পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমে খবর আসে যে সুনীতা গোবিন্দর বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। প্রতিবেদনে তাঁর অভিযোগ হিসেবে পরকীয়া, মানসিক নির্যাতন এবং পরিত্যাগের কথা উঠে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছেদের আবেদনটি ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে পরের বছর।
সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণ কী?
গোবিন্দ ও সুনীতার দাম্পত্যে টানাপোড়েনের কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গোবিন্দর অন্য নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন। সম্প্রতি তরুণ অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে গোবিন্দর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুনীতা। এমনকি তাঁকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলেও মন্তব্য করেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি। গোবিন্দও অভিযোগগুলো সরাসরি মেনে নেননি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্ত্রীর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রীকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সুনীতা তাঁকে ভালোবাসা থেকেই অনেক কথা বলেন এবং তিনি সেগুলো মেনে নেন।
আরেক সাক্ষাৎকারে সুনীতা অবশ্য স্বামীর কথিত সম্পর্কের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, তিনি গোবিন্দকে ভালোবাসেন বলেই সম্পর্কটি ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ দাম্পত্যে ভুলত্রুটি থাকতেই পারে—এমন মনোভাবও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
কখনো আলাদা থেকেছেন, তবু সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি
দাম্পত্যের টানাপোড়েনের মধ্যে দুজনের আলাদা থাকার খবরও প্রকাশ্যে আসে। সুনীতা বিভিন্ন সময়ে তাঁদের জীবনযাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ফলে বিচ্ছেদের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। তবে একই সময়ে তাঁদের সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে ছিল নানা অস্পষ্টতা।
এই অস্পষ্টতার মধ্যেই চলছিল আইনি প্রক্রিয়া। সুনীতা নিয়মিত আদালতে যাচ্ছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আইনি লড়াই আর এগোল না।
আবারও ফিরে এল ‘সংসার’
১৯ আগস্ট ২০২৬ নতুন মোড় আসে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে ছেলে যশবর্ধনের সঙ্গে সুনীতাকে দেখা যায়। এরপর গোবিন্দর ম্যানেজার শশী সিনহা জানান, সুনীতা বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি এটিকে ‘খুশির খবর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গোবিন্দ এবং সুনীতার মধ্যে এখন আর বিচ্ছেদ হচ্ছে না।
তবে কেন আবেদন প্রত্যাহার করলেন সুনীতা, সে বিষয়ে তিনি নিজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের ভেতরের সমস্যাগুলো পুরোপুরি মিটে গেছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ম্যানেজার শশী সিনহা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় ঘরের মধ্যেই সমাধান করা ভালো ছিল। আবেদন করে আবার তা প্রত্যাহার করায় বিষয়টি জনসমক্ষে চলে এসেছে।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে