ধর্মীয় অবমাননা থেকে প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর, বিজয়ের সিনেমা নিয়ে যত বিতর্ক

থালাপতি বিজয়ইনস্টাগ্রাম থেকে

তামিল তারকা থালাপতি বিজয়ের সিনেমা ‘‘জন নায়গান’’—সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এই তারকার এটিই সবশেষ সিনেমা। তবে ‘জন নায়গান’ এখন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের আইনি জটিলতায় আটকে আছে। তবে বিজয়ের ক্যারিয়ারে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে আর্থিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিক নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তাঁর একাধিক ছবি। জেনে নেওয়া যাক অভিনেতার ক্যারিয়ারে যেসব সিনেমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

‘সুরা’ (২০১০)
বিজয়ের ৫০তম ছবি ছিল ‘সুরা’। শুরুতে ছবির নাম ছিল ‘সুরা—দ্য লিডার’। তবে ট্যাগলাইন নিয়ে আপত্তি ওঠায় নির্মাতারা ট্যাগলাইন বাদ দিয়ে শুধু ‘সুরা’ নামেই ছবি মুক্তি দেন। প্রত্যাশা থাকলেও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এবং নেতিবাচক রিভিউ পায়।

‘কাভালান’ (২০১১)
‘সুরা’র ক্ষতির জেরে আর্থিক জটিলতায় পড়ে বিজয় ও অসিন অভিনীত ‘কাভালান’। প্রযোজক রমেশ বাবু পরিবেশক শক্তি চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সান টিভির স্যাটেলাইট রাইটস–সংক্রান্ত অর্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সে সময় শাসক দল ডিএমকে ও সান নেটওয়ার্কের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগও ওঠে। প্রাথমিক শো বাতিল হলেও পরে ছবি মুক্তি পায়।

থুপ্পাক্কি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘থুপ্পাক্কি’ (২০১২)
এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত এই আলোচিত ছবিটি মুসলিম সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পড়ে। অভিযোগ ছিল, ছবিতে মুসলিম সম্প্রদায়কে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে পরিচালক, প্রযোজক এবং বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর প্রায় ২৩টি মুসলিম সংগঠনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘থালাইভা’ (২০১৩)
এই ছবির মুক্তি এক সপ্তাহ পিছিয়ে যায় রাজনৈতিক কারণে। ছবির ট্যাগলাইন ‘টাইম টু লিড’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার অসন্তোষের কথাও সামনে আসে। বিজয় ভিডিও বার্তায় থিয়েটার মালিকদের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টার কথাও জানান। তামিলনাড়ু ছাড়া অন্য বাজারে ছবি মুক্তি পায়।

‘থালাইভা’ সিনেমার পোস্টার। আইএমডিবি

‘কাথথি’ (২০১৪)
লাইক প্রোডাকশনের প্রযোজনায় নির্মিত হওয়ায় এ ছবিটি নিয়েও প্রতিবাদ হয়। প্রযোজনা সংস্থার শ্রীলঙ্কান সংযোগ নিয়ে আপত্তি তোলে কিছু তামিল সংগঠন। প্রযোজকের রাজনৈতিক সংযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে কিছু প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর হয় এবং লাইক প্রোডাকশনের ব্র্যান্ডিং সরিয়ে নেওয়া হয়।

‘পুলি’ (২০১৫)
‘পুলি’ মুক্তির আগে প্রযোজকদের ওপর আয়কর হানা হয়। ফলে প্রথম দিনের সকালের শো বাতিল হয়। বিকেলে ছবি মুক্তি পেলেও নেতিবাচক রিভিউ পায়। পরে প্রযোজক পি টি সেলভাকুমার দাবি করেন, এই ছবি তাঁর ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়।

‘মার্শাল’ সিনেমার পোস্টার থেকে। আইএমডিবি

‘মার্শাল’ (২০১৭)
দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়া ‘মার্শাল’ জিএসটি ও ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে সংলাপের কারণে বিজেপির আপত্তির মুখে পড়ে। এক বিজেপি নেতা বিজয়ের জন্মনাম টেনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেন। চিকিৎসকদের নেতিবাচকভাবে দেখানোর অভিযোগে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও আপত্তি তোলে। তবু সব বিতর্ক সত্ত্বেও ছবিটি সুপারহিট হয়।

আরও পড়ুন

‘সরকার’ (২০১৮)
‘সরকার’ নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার আপত্তি তোলে। ছবিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে কটাক্ষ করার অভিযোগও ওঠে। শাসক দলের চাপে কিছু বিতর্কিত দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়।

‘জন নায়াগান’ সিনেমার পোস্টারে বিজয়। এক্স থেকে

এবং ‘জন নায়াগান’ 
গত কয়েক বছরে বিজয়ের ছবি নিয়ে সেভাবে বিতর্ক না হলেও এবার গোল বেধেছে তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমাটি নিয়ে। ‘জন নায়গান’-কে ঘিরে সেন্সর জটিলতায় পড়েছেন বিজয়। অনেকের মতে, এ সিনেমা নিয়ে এত বিতর্কের কারণ সিনেম্যাটিক নয় বরং রাজনৈতিক। বিজয় রাজনীতিতে না জড়ালে সিনেমাটি বাধার মুখে পড়ত না, ঠিক সময়েই মুক্তি পেত।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে