‘একই ভুল আবারও করতে রাজি আছি’

কুশা কাপিলাশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উঠে এসে অভিনয়ে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। সেটাই করে দেখিয়েছেন কুশা কাপিলা। ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর কামিং ও সুখী’র মতো ছবিতে অভিনয়ের পর এখন ওয়েব সিরিজ ‘মামলা লিগ্যাল হ্যায় ২’–এ কাজ করছেন তিনি। এই সিরিজে তাঁকে দিল্লির পাতপড়গঞ্জ কোর্টের এক আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনকে ঘিরে কিছু কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
দিল্লি থেকে মুম্বাই, এই যাত্রাপথ কুশার ব্যক্তিত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে, ‘দুই শহরেরই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, তবে মন থেকে আমি দিল্লির মেয়ে। দিল্লিতেই থিয়েটার আর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। মুম্বাইয়ে এসে সবচেয়ে বেশি মিস করি দিল্লির খাবার। এখানে যতই খোঁজ করুন, সেই উত্তর ভারতীয় স্বাদ পাওয়া যায় না।’

কুশা কাপিলা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

কুশা আরও বলেন, ‘তবে আমি মুম্বাইয়ের খাবারও ধীরে ধীরে গ্রহণ করেছি। এখন আমার রান্নায় কারিপাতাও থাকে। আমি এই শহরকে নিজের করে নিচ্ছি। আমার মধ্যে কোনো “দিল্লিওয়ালি অ্যাটিটিউড” নেই। আমি মাথা নিচু করে চলি, নিজের কাজ নিয়েই থাকি এবং জীবনকে খুব সিরিয়াসলি নিই না। এ জিনিসটাই মুম্বাই আমাকে শিখিয়েছে।’

মুম্বাইয়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও কুশাকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে আমি প্রায় একই ধরনের মানুষের মধ্যে বড় হয়েছি। স্কুলে সবার পদবিও প্রায় একরকম ছিল। কলেজে গিয়ে প্রথমবার বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। কিন্তু মুম্বাই একেবারেই আলাদা, এখানে নানা সংস্কৃতির সহাবস্থান আছে, যা আমাকে খুব টানে।’

কুশা কাপিলা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

একজন সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যক্তিগত জীবন অনেকটাই জনসমক্ষে চলে আসে। এর ফলে ট্রোলিং ও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কুশা বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবন কতটা ব্যক্তিগত রাখবেন, সেটা কাজ করতে করতেই শিখতে হয়। মানুষ অনেক সময় ভুলে যায় যে ক্রিয়েটররাও তাদেরই মতো সাধারণ জায়গা থেকে এসেছে। শুরুতে আমরা অনেক কিছু শেয়ার করে ফেলি, কিন্তু সেটা আমি ভুল বলব না। প্রত্যেক শিল্পীই ক্যারিয়ারের শুরুতে নির্ভীক থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি বুঝতে পারেন কী বলা উচিত, কী নয়। কিন্তু আমি আমার জীবন যেভাবে কাটিয়েছি, সেভাবেই কাটাতে চাই। একই ভুল আবারও করতে রাজি আছি। কারণ, সেই যাত্রাটাই আমার নিজের।’

কুশা কাপিলা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বর্তমানে চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় দক্ষতার বদলে সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার দেখে কাস্টিং করা হচ্ছে—এ বিতর্কে অভিনেতাদের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন কুশা। তিনি বলেন, ‘অভিনেতাদের এই রাগ একেবারেই যুক্তিসংগত, যদি শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য কোনো ইনফ্লুয়েন্সারকে নেওয়া হয়। এই জায়গায় আমি অভিনেতাদের সঙ্গেই আছি।’
তবে একই সঙ্গে কুশা ক্রিয়েটরদের আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘অনেক ক্রিয়েটরই অভিনয়ে আসতে চান। পাঁচ-দশ সেকেন্ডের রিলের বাইরে আরও কিছু করতে চান। আমরা আসলে প্রথম প্রজন্মের ক্রিয়েটর, তাই আমাদেরও বুঝতে হচ্ছে পরবর্তী ধাপ কী হবে।’

কুশা কাপিলা
শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

এ প্রসঙ্গে নতুনদের জন্য কুশার পরামর্শ, ‘একটু থামুন, শিখুন, ওয়ার্কশপ করুন, অডিশন দিন, ব্যর্থ হন। আমি মুম্বাইয়ে এসে তিন বছর ধরে খুব ধীরে ধীরে শিখছি। এই প্রক্রিয়ায় ২০-২৫ বছরও লেগে যেতে পারে।’

সব মিলিয়ে কুশা কাপিলার বক্তব্যে যেমন রয়েছে আত্মসমালোচনা, তেমনি রয়েছে বাস্তবতার স্বীকৃতি। সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা এবং অভিনয়ের দক্ষতা—দুটিকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজনীয়তাই তিনি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবেন সেই শিল্পী, যিনি নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান এবং শেখার প্রক্রিয়ায় অবিচল।