একটা স্বপ্ন পূরণ, লক্ষ্যে আরেকটা
ওয়ামিকা গাব্বির কাছে ‘ভূত বাংলা’ শুধু একটি নতুন ছবি নয়, বরং এমন একটি সুযোগ, যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। প্রিয়দর্শন এবং অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কাজ করাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন এই বলিউড অভিনেত্রী। ‘ভূত বাংলা’ বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার। এই ছবির মাধ্যমে ১৬ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরেছেন অক্ষয় কুমার–প্রিয়দর্শন। এই জুটি যখনই পর্দায় এসেছে, হাসি, মজা, বিনোদন নিয়ে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা দিয়েছেন। তাই ‘ভূত বাংলা’কে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা এক উত্তেজনা। অমর উজালার সঙ্গে কথোপকথনে ওয়ামিকা এই ছবিকে ঘিরে তাঁর অভিজ্ঞতা, অক্ষয় ও প্রিয়দর্শনের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সেটে শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।
ওয়ামিকা জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরেই তাঁর ভরপুর কমেডি ছবিতে অভিনয়ের ইচ্ছা। অভিনেত্রী বলেছেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই বলছিলাম যে আমাকে এমনই একটি ছবি করতে হবে। আমি গরম মসলা, ভুলভুলাইয়া, হালচাল এবং ভাগাম ভাগ-এর মতো ছবি দেখে বড় হয়েছি। সব সময় ভাবতাম, ইশ! আমিও যদি এমন একটি ছবির অংশ হতে পারতাম। যখন জানতে পারলাম যে প্রিয়দর্শন স্যার এবং অক্ষয় স্যার একসঙ্গে ছবি করছেন, তখন আমার জন্য সেটাই অনেক বড় ব্যাপার ছিল।’
ওয়ামিকা কথোপকথনের সময় এটাও জানান যে আগেও একবার এই কমেডি দুনিয়ার অংশ হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘যখন “ভুলভুলাইয়া ২” তৈরি হচ্ছিল, তখন আমিও সেই ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। অডিশনের পর ছবিটি করার খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো কারণে তা হতে হতে হয়ে ওঠেনি। এখন দেখুন, আমি ভূত বাংলা করছি। এত বছরের যে স্বপ্ন ছিল, সেটা অবশেষে পূরণ হয়েছে।’
পুরোনো বন্ধু
চিত্রপরিচালক প্রিয়দর্শন এবং অভিনেতা অক্ষয় কুমার একসঙ্গে একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। ‘হেরাফেরি, ‘ভাগাম ভাগ’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘খাট্টা মিঠা’র মতো ছবির জন্য বিখ্যাত এই জুটি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেটে অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়দর্শনের পারস্পরিক বোঝাপড়া কেমন ছিল—এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ামিকা বলেন, ‘তাঁদের দেখে কখনো কখনো আমার মনে হতো যেন দুই পুরোনো বন্ধু একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, যাঁরা একে অপরের সঙ্গে মজা করছেন। আবার কখনো মনে হতো যেন গুরু ও শিষ্যের মধ্যে কোনো নীরব বোঝাপড়া চলছে। প্রিয়দর্শন স্যার কিছু বলতেন আর অক্ষয় স্যার সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যেতেন। ছবির সেটে তাদের এই বোঝাপড়া সামনে থেকে দেখা আমার জন্য খুবই অনন্য অভিজ্ঞতা।’
অক্ষয় কুমারের শৃঙ্খলার কথা কারও অজানা নেই। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ামিকা বলেন, ‘সেটে সময়মতো পৌঁছানোর একটা চাপ তো থাকেই। যখন আপনি জানেন যে অক্ষয় স্যার সেটে সময়মতো আসেন, শৃঙ্খলানিষ্ঠ, তখন আপনি আরাম করে বা দেরি করে আসতে পারবেনই না। কিন্তু এই চাপটা কখনোই নেতিবাচক নয়। এটা আপনাকে আরও পেশাদার করে তোলে।’
ওয়ামিকার ঝুলিতে একটা স্বপ্ন ইতিমধ্যে চলে এসেছে। কথোপকথনের শেষে ওয়ামিকা বলেন, ‘ভূত বাংলার পর এখন আমার অক্ষয় কুমারের সঙ্গে একটি অ্যাকশন ছবিতেও কাজ করার ইচ্ছে। আশা করি এই ইচ্ছাটাও আমার পূরণ হবে।’