ভাইরাল সার্টিফিকেটটি ভুয়া! ‘জন নায়াগন’ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা

‘জন নায়গন’–এর বিজয়। এক্স থেকে

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমার মুক্তি নিয়ে জটিলতা কাটছেই না। গত সপ্তাহেই শোনা গিয়েছিল, চলতি মাসের শেষের দিকে মুক্তি পেতে পারে ‘জন নায়াগন’। তবে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডের নতুন নির্দেশনা আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ভাইরাল সার্টিফিকেটটি ছিল ভুয়া
আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সেন্সর বোর্ডের সার্টিফিকেট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, বহু প্রতীক্ষিত ছবিটি ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশন জানায়, ভাইরাল হওয়া সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্সর বোর্ড ছবিটি পর্যালোচনা শেষ করলেও এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয়নি।

সেন্সর বোর্ডের নতুন নির্দেশনা
প্রযোজকদের তথ্য অনুযায়ী, সার্টিফিকেশন বোর্ড  ছবিটি দেখে নির্মাতাদের কাছে আরও কিছু পরিবর্তনের তালিকা পাঠিয়েছে। সেই সংশোধনগুলো সম্পন্ন করে পুনরায় জমা দেওয়ার পরই চূড়ান্ত সেন্সর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
অর্থাৎ ছবিটি এখন মুক্তির একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে। কিন্তু এখনো সার্টিফিকেশন সনদ না পাওয়ায় ‘জন নায়াগন’ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

‘জন নায়গন’–এর বিজয়। এক্স থেকে

কবে মুক্তি পেতে পারে?
কেভিএন প্রোডাকশনের বিজনেস প্রধান সুপ্রিথ মোহন জানিয়েছেন, নির্মাতাদের লক্ষ্য জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি দেওয়া।
তামিলনাড়ুর বিভিন্ন সিনেমা হলও আগাম বুকিং চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে সেন্সর ছাড়পত্র পেলেই মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

পরিচালক এইচ বিনোধের রাজনৈতিক ড্রামা সিনেমা ‘জন নায়গন’ প্রথমে ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি, পোঙ্গল উৎসব উপলক্ষে মুক্তির কথা ছিল। তামিল সিনেমার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এটি। কারণ, এতে অভিনয় করেছেন তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা বিজয়। পাশাপাশি ছবিটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছিল।

২০২৪ সালে নিজের রাজনৈতিক দল গঠনের পর বিজয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরুর পর এটিই হতে যাচ্ছে অভিনেতা হিসেবে শেষ চলচ্চিত্র।

কেন আটকে গিয়েছিল মুক্তি?
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর সিবিএফসির পরীক্ষক কমিটি কয়েকটি কাটছাঁটের শর্তে ছবিটিকে ইউ/এ সনদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পরিবর্তন করে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যেই ছবিটি আবার জমা দেয়। ২৯ ডিসেম্বর আঞ্চলিক সিবিএফসি কার্যালয়ও জানায়, ছবিটি শিগগিরই ছাড়পত্র পাবে।
কিন্তু ৫ জানুয়ারি নির্মাতাদের জানানো হয়, কিছু অভিযোগ পাওয়ায় ছবিটি পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ছবির কিছু দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন

ফাঁস হয়েছিল ছবির অংশ
সেন্সর–প্রক্রিয়া চলাকালেই ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছবিটির কিছু অংশ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ক্লিপ নিয়ে তদন্ত শুরু করে তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম শাখা। পরে এ ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছবিতে বিজয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন গৌতম মেনন, প্রিয়া ভবানী শংকর, যোগী বাবু।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে