না পড়েই রাজি হয়েছিলেন আমির
হিন্দি সিনেমার দুনিয়ায় আমির খান ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তিনি যেকোনো সিনেমায় অভিনয় বা প্রযোজনায় এতটাই নিখুঁতভাবে যুক্ত থাকেন যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হলে তাঁর নাম কোনো প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হন না। এ কারণে অনেক বড় বাজেটের সিনেমা থেকে তিনি শুধু চিত্রনাট্য পছন্দ না হওয়ায় সরে এসেছেন।
কিন্তু শুরুতে এ নিয়ম ছিল না। এর প্রমাণ ১৯৯০ সালের সিনেমা ‘আওয়াল নাম্বার’, যা পরিচালনা করেছিলেন দেব আনন্দ। অবাক করা বিষয়, আমির এই সিনেমায় চিত্রনাট্য না পড়ে রাজি হয়ে যান।
দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহন চুরিওয়ালা সম্প্রতি ভিক্কি লালওয়ানির সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমির খান বলেন, “আওয়াল নাম্বার” হলো একমাত্র সিনেমা, যেখানে তার বাবা বলেছিলেন, “কাহিনি জানতে চেয়ো না, স্ক্রিপ্ট দেখো না, টাকা নিয়েও কথা বোলো না। শুধু গিয়ে দেব সাহেবকে হ্যাঁ বোলো।” দেব সাহেবকে তখন এতটাই শ্রদ্ধার চোখে দেখা হতো।’
মোহন আরও জানান দেব আনন্দের পেশাদারত্ব ও উদারতার কথা। তিনি বলেন, দেব আনন্দ পারিশ্রমিক নিয়ে খুবই সচেতন ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে শিল্পীদের ফোন করে নিশ্চিত করতেন, তাঁদের পারিশ্রমিক পৌঁছে গেছে কি না।
উদাহরণ হিসেবে মোহন উল্লেখ করলেন কমেডিয়ান বীরবলের কথা। যিনি দেব আনন্দের ‘লুটমার’ সিনেমায় কাজ করেছিলেন। সিনেমা ব্যর্থ হলেও দেব আনন্দ নিশ্চিত করেছিলেন, বীরবল তাঁর অর্থ ঠিক সময়ে পান। মোহন জানান, বীরবল নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘তখনো “লুটমার”–এর কিছু টাকা পাইনি। কারণ, সিনেমা ভালো যায়নি। দেব সাহেব ফোন করে বললেন, “বীরবল, তাড়াতাড়ি আস, চেক নিয়ে যাও।”’
মোহন আরও বলেন, সংগীতপরিচালক এস ডি বর্মনও দেব আনন্দের ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ সিনেমায় কাজ করার সময় প্রথমে কাহিনি শুনে বিরক্ত হয়েছিলেন। মোহন বলেন, ‘বর্মনদা কাহিনি শুনে বলেন, “এই সিনেমা কোরো না। এটি ভয়ংকর গল্প। এমন পরিকল্পনা করছ কেন?”’
এতে দেব আনন্দ কিছুটা বিব্রত হলেও সামলে নেন। পরে গল্পের কিছু অংশ ও কয়েকটি চরিত্র বদল করেন। পরে অবশ্য আর এস ডি বর্মন আপত্তি করেননি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে