১ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি কীভাবে সামলান সাবা

ভাই সাইফ আলী খানের সঙ্গে সাবা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউডের তারকা সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানকে পর্দায় দেখা গেলেও তাঁদের বোন সাবা আলী খান বরাবরই থেকেছেন প্রচারের আলো থেকে দূরে। অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেননি তিনি। তবে পরিবারের উত্তরাধিকার রক্ষার দায়িত্বে তাঁর ভূমিকা দুই ভাই–বোনের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং ভোপালের নবাব পরিবারের হাজার কোটি রুপির সম্পদ ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের দেখভালের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সাবা।

সম্প্রতি শিট দ্য পিপল টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছেন সাবা পতৌদি। জানিয়েছেন, তাঁর বাবা, প্রয়াত মনসুর আলী খান পতৌদি—ক্রিকেটবিশ্বে যিনি ‘টাইগার পতৌদি’ নামে পরিচিত—নিজেই পরিবারের এই ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

সাবা আলী খান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাক্ষাৎকারে সাবাকে প্রশ্ন করা হয়, পরিবারের এই উত্তরাধিকারের আর্থিক মূল্য কি ১ হাজার কোটি রুপির বেশি? উত্তরে তিনি সম্মতি জানান। তবে তাঁর কাছে এই দায়িত্ব শুধু সম্পদ রক্ষা বা অর্থের হিসাব রাখার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, জনকল্যাণ ও বহু মানুষের সেবার বিষয়টি।

সাবা বর্তমানে ‘আওকাফ-এ-শাহি’ ট্রাস্টের মুতাওয়াল্লি। ওয়াক্ফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক বা ব্যবস্থাপককে মুতাওয়াল্লি বলা হয়। ভোপালের নবাব পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এই ট্রাস্টের অধীনে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের দেখভাল করা তাঁর দায়িত্বের অংশ। তাঁর দাদি সাজিদা সুলতান ও বাবা মনসুর আলী খান পতৌদিও এই ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সাবা জানান, ভোপালের এই প্রকল্পের সঙ্গে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থাও জড়িত। ভোপাল থেকে হজ করতে যাওয়া মানুষদের থাকার সুবিধা নিশ্চিত করতে সেখানে ঐতিহ্যবাহী অতিথিশালা বা রুবাতের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য ভবন অধিগ্রহণসহ নানা কাজ করতে হয়।

ট্রাস্টের অধীন মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সামলান সাবা। এ কাজে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয় না, কিংবা ভারতে ফিরিয়ে এনে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে ভোগ করা হয় না বলে জানান তিনি। পরিবারের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কও ঐতিহ্যগত।

সাবা আলী খান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাবার মতে, এই দায়িত্ব তাঁর বাবা তাঁকেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, পরিবারের এই উত্তরাধিকার সামলানোর জন্য মেয়েই বেশি উপযুক্ত। পুরুষপ্রধান পরিবেশে কাজ করতে হলেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। সাবা বলেন, ‘তারা আমাকে সম্মান করে, কারণ তারা জানে আমি কাজের ব্যাপারে আন্তরিক এবং আমাকে সহজে দমিয়ে রাখা যায় না।’

সাবা আরও জানান, ভোপালের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে কয়েকটি মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। সেসব জটিলতার নিষ্পত্তি হলে নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মেয়েদের জন্য একটি স্কুল, নারীদের জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং গ্রামীণ নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিতে চান তিনি।

সাবার দায়িত্বের বিষয়টি বুঝতে হলে পতৌদি ও ভোপালের নবাব পরিবারের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হয়। তাঁর দাদি সাজিদা সুলতান ছিলেন ভোপালের শেষ শাসক নবাব হামিদুল্লাহ খানের মেয়ে। হামিদুল্লাহ খান ১৯৬০ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত ভোপালের নবাব ছিলেন। তাঁর বড় মেয়ে আবিদা বেগম ১৯৫০ সালে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর ছোট মেয়ে সাজিদা উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবারের সম্পত্তি ও উপাধির দায়িত্ব পান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই সম্পত্তির মূল্য ১৫ হাজার কোটি রুপির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সাজিদা সুলতানের বিয়ে হয়েছিল পতৌদির নবাব ইফতিখার আলী খানের সঙ্গে। তাঁদের ছেলে মনসুর আলী খান পতৌদি ছিলেন ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেটার। অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের তিন সন্তান—সাইফ, সোহা ও সাবা। এভাবেই দুই নবাব পরিবারের ঐতিহ্য এসে মিলেছে এই পরিবারের ইতিহাসে।
সাবা অবশ্য নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন ভিন্ন পথে। চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও পরিবারের ঐতিহ্য ও সম্পত্তি রক্ষার গুরুদায়িত্ব তাঁকে আলোচনায় এনেছে। সম্প্রতি বোন সোহা আলী খানের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের স্বাস্থ্যসংকটের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তাঁর মস্তিষ্কে একটি টিউমার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানার পর জীবন যে মুহূর্তে বদলে গিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সাবা জানিয়েছিলেন, এমন ঘটনা মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দিলেও একই সঙ্গে লড়াই করার শক্তিও জোগায়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে