জীবনের বড় ভুলের কথা জানালেন নীনা
প্রথম সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন; এটাই তাঁকে পরে প্রধান নায়িকার চরিত্রে অভিনয়ের পথ বন্ধ করে দেয়—খোলামেলা স্বীকারোক্তি নীনা গুপ্তর। সম্প্রতি অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘সাথ সাথ’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করার ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
নীনা জানান, তাঁর ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ শুরু হয়েছিল অমিত রবীন্দ্রনাথ শর্মার ‘বাধাই হো’ সিনেমা দিয়ে। তবে ১৯৮২ সালে ২৩ বছর বয়সে অভিষেকের পর অনেক দিন ধরে মূলধারায় স্বীকৃতি পাননি।
নীনা বলেন, ‘আমি প্রায়ই ভাবি, কেন এত দেরিতে আমার স্বীকৃতি এল? দেখছি, বেশির ভাগই আমার নিজের ভুল। কিন্তু অতীত নিয়ে ভাবার এখন কোনো মানে নেই। আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। আমার বয়সে সবকিছু পাওয়া সম্ভব নয়। আর ছোট চরিত্রে আমি বেশি সময় কাজ করতে পারি না। যা আসছে, তা বেশ ভালোই।’
নীনা মজা করে আরও বলেন, ‘অনেক সময় ভাবি, আজকের অনেক নায়িকার তুলনায় আমি হয়তো ভালো কাজ করতে পারতাম, আরও ভালো দেখাতাম। তবে সেই ভাবনা নিয়ে সময় নষ্ট করার মানে নেই।’
নীনা মনে করেন, তাঁর ক্যারিয়ার যে জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল, সে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে নিজেরও দায় দেখেন তিনি।
নীনার ভাষ্যে, ‘আমার নিজের ধৈর্যের অভাব ছিল। ভুল জায়গায় খুঁজেছি। অধিকাংশ সময় আমার আত্মসম্মান কম ছিল, যা আমার বৃদ্ধিকে বাধা দিয়েছে। কাউকে আমার পথ দেখানোর জন্য পাশে পাইনি। শেষে বুঝেছি, এই ইন্ডাস্ট্রি একটা ব্যবসা। এখানে আবেগের কোনো স্থান নেই। আমি ইন্ডাস্ট্রির ধরন বুঝিনি।’
সবশেষে নীনা বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল “সাধ সাধ” করা। ওই সিনেমায় সহায়ক চরিত্র করায় আমাকে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা যায়নি। এটা আমার ভুল। ভুল স্বীকার করলে মানুষ কম কষ্ট পায়। অন্যথায় সব সময় অন্যকে দোষারোপ করে কাটাতে হয়। ভুল স্বীকার করাই একমাত্র সমাধান।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে