ঘরেই দুই প্রযোজক, তবু নায়ক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর
বলিউডের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর দুনিয়ার কিছু বড় তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবু অভিনয়ে জায়গা করে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।
বলছি উদয় চোপড়ার কথা। যশ চোপড়ার ছোট ছেলে ও যশরাজ ফিল্মসের চেয়ারম্যান আদিত্য চোপড়ার ভাই। অভিষেক হয়েছিল শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন আর ঐশ্বরিয়া রাই অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘মোহাব্বতে’ দিয়ে। পরে ‘ধুম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয় চরিত্র ‘আলি’র ভূমিকায়ও নজর কাড়েন। কিন্তু পরে আর বলিউডে টিকে থাকতে পারেননি।
সহকারী পরিচালক থেকে নায়ক
উদয় প্রথমে ক্যামেরার পেছনে কাজ শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকে বাবা যশ চোপড়ার ‘লামহে’ (১৯৯১), ‘ডর’ (১৯৯৩) আর ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ (১৯৯৭) ছবিতে সহকারী পরিচালক ছিলেন। ভাই আদিত্য চোপড়ার আলোচিত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ (১৯৯৫) ছবিতেও সহায়তা করেছিলেন। পরে ‘মোহাব্বতে’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয়।
আলোচিত চরিত্র, কিন্তু ক্যারিয়ার থেমে যায়
‘ধুম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধে উদয় অভিনীত ‘আলি’ চরিত্রটি দর্শকের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে ওঠে। তিনটি ছবিতেই ছিলেন তিনি। তবে ‘নীল অ্যান নিকি’, ‘পেয়ার ইমপসিবল’, ‘মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের পর তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দর্শকের সমালোচনায় পড়ে ক্যারিয়ার ক্রমেই থমকে যায়। তাঁর বড় পর্দার শেষ ছবি ছিল ‘ধুম ৩’ (২০১৩)।
স্বজনপ্রীতি বিতর্কে আদিত্যর উদাহরণ
নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র সিরিজ ‘দ্য রোমান্টিকস’-এ (২০২৩) আদিত্য চোপড়া নিজের ভাই উদয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সিনেমা পরিবার থেকে এলেও সবাই সফল হয় না। উদয় আমার ভাই, যশ চোপড়ার ছেলে, যশরাজ ফিল্মসের সমর্থনও পেয়েছে। তবু তাকে আমরা তারকা বানাতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন দর্শক।’
এই সিরিজেই উদয় স্বীকার করেছিলেন যে ব্যর্থতার তকমা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘“ধুম” ছবির পরও আমি মূলধারার নায়ক হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। ভেবেছিলাম, সবাই আমাকে ভালোবাসবে। কখনো ভাবিনি, কেউ আমাকে না–ও পছন্দ করতে পারে। এ কারণে আমি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলাম।’
প্রযোজনায় নতুন পথচলা
মুম্বাইয়ের সাইডেনহ্যাম কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর ২০১১ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইউসিএলএতে চলচ্চিত্রে কাজ নিয়ে কর্মশালায় অংশ নেন উদয়। পরে ২০১৪ সালে হলিউডে ‘গ্রেস অব মোনাকো’ (নিকোল কিডম্যান অভিনীত) ও ‘দ্য লংগেস্ট উইক’ (অলিভিয়া ওয়াইল্ড ও জেসন বেটম্যান অভিনীত) সিনেমার প্রযোজনা করেন।
যশরাজ ফিল্মসের হলিউড শাখা ওয়াইআরএফ এন্টারটেইনমেন্টের প্রথম প্রজেক্ট ছিল এগুলো। ‘দ্য রোমান্টিকস’ সিরিজটিরও প্রযোজক তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন
২০০৫ সালে ‘নীল অ্যান নিকি’ ছবির শুটিংয়ে কাজ করতে গিয়ে অভিনেত্রী তনিশা মুখার্জির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান উদয়। তবে দুই বছরের মাথায় তা ভেঙে যায়। পরে ২০১৩ সালে অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। বিয়ের খবরও ছড়িয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের শেষ দিকে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।
কোথায় আছেন উদয় চোপড়া?
বর্তমানে ওয়াইআরএফ এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নিবার্হী উদয় চোপড়া। পাশাপাশি নিজের ব্যবসাও দেখাশোনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর কমিক কোম্পানি ‘ইওমিকস’, যা যশরাজের জনপ্রিয় ছবিগুলোকে কমিক আকারে প্রকাশ করে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস