ঐশ্বরিয়াকে পাঁচ সিনেমা থেকে বাদ দিয়েছিলেন শাহরুখ, নতুন করে আলোচনায় পুরোনো সাক্ষাৎকার

সিনেমার দৃশ্যে ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখ। আইএমডিবি

একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটি ছিলেন শাহরুখ খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এ তাঁদের রসায়ন দর্শকের নজর কেড়েছিল। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর সাফল্যের পর দুজনকে একসঙ্গে আরও সিনেমায় দেখতে চেয়েছিলেন দর্শকেরা। সেই সময় তাঁদের নিয়ে একাধিক বড় প্রকল্পের কথাও চলছিল।
কিন্তু হঠাৎই বদলে যায় পরিস্থিতি। একের পর এক সিনেমা থেকে ঐশ্বরিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক বছর পর সিমি গারেওয়ালের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’-এ সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, কেন তাঁকে সিনেমাগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি পাননি।
সাম্প্রতিক সময়ে পুরোনো সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিও ও প্রতিবেদন আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘কেন’—আজও যে প্রশ্নের উত্তর পাননি ঐশ্বরিয়া
সিমি গারেওয়াল যখন ঐশ্বরিয়াকে প্রশ্ন করেন, শাহরুখের সঙ্গে তাঁর পাঁচটি সিনেমায় কাজ করার কথা ছিল কি না, তখন অভিনেত্রী সরাসরি কোনো কারণের কথা বলেননি; বরং জানিয়েছিলেন, কয়েকটি সিনেমা নিয়ে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার কথা চলছিল। পরে হঠাৎ সেগুলো আর হয়নি; কিন্তু তাঁকে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
ঐশ্বরিয়ার ভাষ্য ছিল, এমন পরিস্থিতিতে তিনি স্বাভাবিকভাবেই হতবাক ও আহত হয়েছিলেন। কিন্তু কারও কাছে গিয়ে ‘কেন’ জানতে চাওয়া তাঁর স্বভাব নয়। তাঁর যুক্তি ছিল, কেউ যদি ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে নিজে থেকেই দেবেন। না দিলে বুঝতে হবে, তিনি হয়তো তা করতে চাননি।

কোন কোন সিনেমা?
ঐশ্বরিয়ার নিজের বক্তব্যে সিনেমাগুলোর পুরো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে শাহরুখের সঙ্গে তাঁর যে কয়েকটি প্রকল্পের কথা চলছিল, তার মধ্যে ‘চলতে চলতে’ ও ‘বীর-জারা’র নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে। ‘কাল হো না হো’র নামও বিভিন্ন পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পাঁচটি সিনেমার সম্পূর্ণ, নির্ভুল তালিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্নতা আছে।

সিনেমার দৃশ্যে ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখ। আইএমডিবি

‘চলতে চলতে’: শুটিংও শুরু হয়েছিল
২০০৩ সালের ‘চলতে চলতে’ ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে প্রথম ঐশ্বরিয়াকেই নেওয়া হয়েছিল। ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গেও ছিলেন শাহরুখ খান। পরে ঐশ্বরিয়ার জায়গায় রানী মুখার্জি অভিনয় করেন এবং সিনেমাটি মুক্তির পর সফলও হয়।

২০২৫ সালে পরিচালক আজিজ মির্জা আবার সেই পুরোনো প্রসঙ্গে কথা বলেন। রেডিও নাশাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে মাত্র এক দিন শুটিং হয়েছিল। তাঁরা ‘প্রেম নগরিয়া’ গানটির শুটিং করেছিলেন। এরপর পরিস্থিতি আর পরিকল্পনামতো এগোয়নি এবং রানী মুখার্জি ছবিতে যুক্ত হন।

মজার বিষয়, রানী কিন্তু ছবিটির প্রথম পছন্দ ছিলেন না। আগে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হলেও অন্য কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি রাজি হতে পারেননি। পরে ঐশ্বরিয়া সরে গেলে আবার তাঁর কাছেই যাওয়া হয়।

সিনেমার দৃশ্যে ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখ। আইএমডিবি

তাহলে সালমান খানের ভূমিকা কী ছিল? তখন ঐশ্বরিয়া ও সালমান খানের সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ‘চলতে চলতে’র শুটিংয়ে সালমানের উপস্থিতি ও কথিত কিছু ঘটনার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই ঐশ্বরিয়াকে বাদ দিয়ে রানী মুখার্জিকে নেওয়া হয়।

শাহরুখ নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’
তবে ঐশ্বরিয়াকে ‘চলতে চলতে’ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শাহরুখ খান নিজেই পরে কথা বলেছিলেন। ২০০৩ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ঐশ্বরিয়াকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত কি না।

শাহরুখ স্বীকার করেছিলেন, কোনো প্রকল্পে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ শুরু করার পর তাঁকে বদলে দেওয়া কঠিন ও দুঃখজনক। তিনি ঐশ্বরিয়াকে বন্ধু হিসেবেও উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি ভুল করেছেন। তবে প্রযোজক হিসেবে সেই সময় সিদ্ধান্তটির পক্ষে ব্যবসায়িক কারণ ছিল বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ঐশ্বরিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও জানান।

পরে পুরোনো একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিওও সামনে আসে। যেখানে শাহরুখ জানান, বিষয়টি শুধু তাঁর একার সিদ্ধান্ত ছিল না; প্রযোজনার সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময় তাঁদের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানও চাপের মধ্যে ছিল। ফলে তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রযোজকের ব্যবসায়িক বাস্তবতার কথাও উঠে আসে।

আরও পড়ুন

‘বীর-জারা’ নিয়েও ছিল আক্ষেপ

ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে শাহরুখের আরেকটি বহুল আলোচিত প্রকল্প ছিল ‘বীর-জারা’। পরে ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রীতি জিনতা এবং ছবিটি বড় সাফল্য পায়। কিন্তু পুরোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটির সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার নামও একসময় জড়িয়েছিল। সিমি গারেওয়ালও সাক্ষাৎকারে ‘বীর-জারা’র কথা উল্লেখ করেছিলেন

ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখের জুটির জনপ্রিয়তার পেছনে অবশ্যই তাঁদের একসঙ্গে করা সিনেমাগুলোর ভূমিকা ছিল। ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ এবং বিশেষ করে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ তাঁদের জুটিকে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি দেয়।‘দেবদাস’-এ শাহরুখের দেবদাস আর ঐশ্বরিয়ার পার্বতী—দুজনের অভিনয় এবং পর্দার রসায়ন সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সেই সময় তাঁদের আরও অনেক সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যাবে, এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক ছিল।কিন্তু বাস্তবে ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখের জুটি আর সেভাবে এগোয়নি।এক দশকের বেশি পরে আবার একই পর্দায়দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এ আবার একসঙ্গে দেখা যায় ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখকে।

তবে এবার দুজন ছিলেন না ছবির মূল জুটি। ঐশ্বরিয়া অভিনয় করেন সাবার চরিত্রে, আর শাহরুখ খান স্বল্প উপস্থিতিতে তাঁর সাবেক স্বামীর চরিত্রে হাজির হন।একসময় যাঁদের একাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল, সেই ঐশ্বরিয়া ও শাহরুখকে শেষ পর্যন্ত এক ছবিতে দেখা গেল মাত্র কয়েকটি দৃশ্যে। তবু সেই উপস্থিতিই দর্শকের কাছে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছিল।সিনেমা থেকে বাদ পড়া নিয়ে ঐশ্বরিয়ার সাক্ষাৎকারটি পুরোনো হলেও রিলসে ছড়িয়ে পরার পর এটি নতুন করে আলোচনায়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে