‘আমি একটা ঘোড়ার মতো, সামনে এগোতেই হবে’

মিথিলা পালকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

আট বছর পর বড় পর্দার হিন্দি সিনেমায় ফিরলেন অভিনেত্রী মিথিলা পালকর। বীর দাস পরিচালিত স্পাই-কমেডি ছবি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আমির খান প্রযোজিত ছবিটি মুক্তির পর থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দীর্ঘ বিরতি কেন? জানতে চাইলে দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিথিলা বলেন, ‘আট বছরের বিরতি কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার কাছে যে কাজগুলোর প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বেশির ভাগই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি হচ্ছিল।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি এটা নিয়ে অভিযোগ করছি না। ডিজিটাল মাধ্যমেই আমার জন্ম, এখানেই নিজেকে গড়ে তুলেছি।’

‘হ্যাপি প্যাটেল’-এর মাধ্যমে প্রথমবার বড় পরিসরের কমেডি সিনেমায় কাজ করলেন মিথিলা। এ অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ভীতিকর বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্যে, ‘কমেডি করা খুব কঠিন। একটু বেশি চেষ্টা করলেই সব নষ্ট হয়ে যায়।’ পরিচালক বীর দাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বীর সব সময় বলতেন, ফানি হওয়ার চেষ্টা কোরো না, শুধু চরিত্রটার মধ্যে সৎভাবে বাঁচো। চরিত্র যদি নিজের বাস্তবতায় বিশ্বাস করে, দর্শকও করবে।’ মিথিলার মতে, এ বিশ্বাসযোগ্যতাই ছবির হাস্যরসের মূল শক্তি।

সেটের অভিজ্ঞতাও ছিল একেবারেই ভিন্ন। বলিউডে যেখানে ব্যক্তিগত টিম, একাধিক ভ্যানিটি ভ্যান আর সারাক্ষণ মুঠোফোন ব্যবহারের চল রয়েছে, সেখানে ‘হ্যাপি প্যাটেল’-এর সেট ছিল আলাদা। মিথিলা বলেন, ‘সেটে ফোন ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না। আলাদা হেয়ার-মেকআপ টিমও ছিল না।’ তাঁর কথায়, ‘সবাই একই টিমের সঙ্গে কাজ করেছি, একই জায়গায় থেকেছি।’

মিথিলা পালকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

এ অভিজ্ঞতাকে মিথিলা থিয়েটারের সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে খেয়েছি, গান গেয়েছি, গল্প করেছি। শুটিং সেটটা শুধু কাজের জায়গা ছিল না, যেন একটা নতুন কমিউনিটি।’ আজকের দিনে মুঠোফোন মানুষকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, ‘সেটে থেকেও আমরা অনেক সময় আলাদা আলাদা জগতে ডুবে থাকি। এখানে সেটা হয়নি। এই একসঙ্গে থাকার মধ্যেই সিনেমা বানানোর আসল আনন্দ।’

মিথিলা পালকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন মিথিলা। ২০২৬ সালে একটি তেলেগু ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে উঠে আসে ক্যারিয়ারের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। মিথিলা বলেন, ‘আমাকে একসময় বলা হয়েছিল, আমি নাকি কোনো চরিত্রের জন্য খুব বেশি শহুরে।’ তাঁর ভাষ্যে, ‘এটা ঠিক যে মূলত শহুরে মেয়েদের চরিত্রেই অভিনয় করেছি। সেখান থেকেই হয়তো এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।’ এ ধরনের মন্তব্য কি শুধু নারী অভিনেতাদের ক্ষেত্রেই শোনা যায়—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি পুরুষ বনাম নারী বিতর্কে ঢুকতে চাই না। আমার যাত্রাটা আমার নিজের মতো। আমি একটা ঘোড়ার মতো, আমাকে শুধু সামনে এগোতে হবে।’
একাডেমি নয়, থিয়েটারই মিথিলার আসল শিক্ষক। বলেন, ‘আমি প্রথমে মঞ্চের পেছনে কাজ করতাম। সেট তৈরি থেকে আয়োজন—সব করেছি। থিয়েটার আগে মানুষ হতে শেখায়, তারপর অভিনেতা। মঞ্চে রিটেক নেই। এই শেখাটা ক্যামেরার সামনেও কাজে আসে।’

আরও পড়ুন

আলাপচারিতায় চলচ্চিত্রের সেটে পাওয়া শিক্ষকদের কথা বলতে গিয়ে মিথিলা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের নাম। কারওয়াঁ ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন মিথিলা। স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘ইরফান স্যার এত স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করতেন যে ভুলে যেতাম, আমি তাঁর সহ-অভিনেতা। অনেক সময় প্রতিক্রিয়া দিতেই ভুলে যেতাম।’

মিথিলা পালকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

শেষে আবারও আসে হ্যাপি প্যাটেল প্রসঙ্গ। এটি শুধু একটি ছবি নয়; বরং নতুন শুরুর প্রতীক। তাঁর ভাষ্যে, ‘এ ছবির মাধ্যমে আবার সিনেমা হলে ফিরেছি। কমেডির মতো ঘরানায় নিজেকে পরখ করার সুযোগ পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, ছবিটা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন আমি অভিনয় করতে এসেছি।’