অমিতাভ–রেখার অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন জয়া

‘সিলসিলা’ সিনেমায় একসঙ্গে দেখা গেছে রেখা, অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনকে। আইএমডিবি

বলিউডের ইতিহাসে বহু প্রেমের গল্প রয়েছে। কিন্তু রহস্য, গুঞ্জন, বিতর্ক আর কৌতূহলের বিচারে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্কের গল্পের সঙ্গে তুলনা চলে খুব কম কিছুরই। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই সম্পর্ক নিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আগ্রহ এতটুকু কমেনি। কারণ, এই আলোচিত অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র—জয়া বচ্চন।

সত্তরের দশকের শেষভাগে অমিতাভ বচ্চন ও রেখা ছিলেন বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি। ‘দো আনজানে’, ‘মিস্টার নটবরলাল’, ‘সুহাগ’ এবং ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’—একটির পর একটি ছবিতে তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও শুরু হয় নানা গুঞ্জন। সেই গুঞ্জন এতটাই আলোচিত হয়ে ওঠে যে আজও বলিউডের অন্যতম বহুল আলোচিত বিষয় হিসেবে এটি টিকে আছে।

‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’-এর সেই শো

বহু বছর আগে ‘স্টারডাস্ট’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেখা এমন একটি ঘটনার কথা বলেছিলেন, যা এখনো আলোচনায় ফিরে আসে। রেখার দাবি অনুযায়ী, ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’-এর ট্রায়াল শো দেখতে বচ্চন পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। জয়া বচ্চন সামনের সারিতে বসেছিলেন, আর তাঁর পেছনে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। সাক্ষাৎকারে রেখা বলেন, সিনেমার প্রেমের দৃশ্যগুলো চলার সময় তিনি বারবার জয়ার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, আমাদের অন্তরঙ্গ দৃশ্য চলার সময় জয়ার চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরছিল।’

যদিও এ ঘটনা কতটা সত্য, তা যাচাই করা সম্ভব নয়, তবু বলিউডের জনপ্রিয় কিংবদন্তিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম হয়ে আছে। নানা সময়ে চলচ্চিত্র সমালোচকেরা এটা নিয়ে আলোচনা করেন, তাঁদের প্রতিবেদনে প্রসঙ্গটা নিয়ে আসেন।

‘সিলসিলা’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও রেখা। আইএমডিবি

এরপর কী ঘটেছিল

একই সাক্ষাৎকারে রেখা আরও দাবি করেন, ট্রায়াল শোর কিছুদিন পর তিনি শুনেছিলেন যে অমিতাভ বচ্চন নাকি প্রযোজকদের জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি আর রেখার সঙ্গে কাজ করবেন না। বাস্তবে দেখা যায়, ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’-এর পর তাঁদের একসঙ্গে কাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে এর ব্যতিক্রম ছিল ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সিলসিলা’।

এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন ও রেখা—তিনজনই। ছবির গল্পও আবর্তিত হয়েছিল এক বিবাহিত পুরুষ ও অন্য এক নারীর সম্পর্ককে ঘিরে। ফলে মুক্তির সময় দর্শকদের কাছে ছবিটি বাস্তব জীবনের আলোচিত গুঞ্জনেরই প্রতিফলন বলে মনে হয়েছিল। আজও অনেক সিনেমাপ্রেমীর মতে, ‘সিলসিলা’ বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী কাস্টিং সিদ্ধান্তগুলোর একটি।

আরও পড়ুন

জয়ার প্রতি রেখার সম্মান

সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা চললেও প্রকাশ্যে জয়া বচ্চনের বিরুদ্ধে কখনো তিক্ত মন্তব্য করতে দেখা যায়নি রেখাকে। সিমি গারেওয়াল–এর টক শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়ার প্রশংসা করে রেখা বলেছিলেন, ‘তিনি অনেক বেশি পরিণত, অনেক বেশি দৃঢ়। আমি খুব কম নারীকেই দেখেছি, যাঁর মধ্যে এত মর্যাদা, এত আভিজাত্য ও এত আত্মবিশ্বাস আছে।’

রেখা আরও বলেন, ‘মিডিয়ায় এসব গুঞ্জন শুরু হওয়ার আগেই আমাদের সম্পর্ক ছিল। আমরা একই ভবনে থাকতাম। আমি তাঁকে “দিদিভাই” বলে ডাকতাম। আজও ডাকি। পৃথিবীর কোনো কিছুই সেটা বদলাতে পারবে না।’

এই মন্তব্য চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের বিস্মিত করেছিল। কারণ, সংবাদমাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ককে প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপ দেওয়া হলেও রেখা বরাবরই জয়ার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার কথা বলেছেন।

জয়া বচ্চন ও অমিতাভ বচ্চন। ইনস্টাগ্রাম থেকে

রহস্যের কেন্দ্রে অমিতাভ

পুরো বিতর্কে সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র সম্ভবত অমিতাভ বচ্চন নিজেই। দশকের পর দশক ধরে রেখার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে তিনি কখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বরাবরই সংযত থেকেছেন তিনি। অন্যদিকে জয়া বচ্চনও খুব কম ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ গল্পের রহস্য আরও গভীর হয়েছে। সত্য, গুঞ্জন আর কিংবদন্তির মিশেলে অমিতাভ–রেখা–জয়ার এই ত্রিভুজ সম্পর্ক আজও বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে আছে।

এনডিটিভি অবলম্বনে