‘সাইয়ারা’র সাফল্য, ভালোবাসার খোঁজে বলিউড

‘সাইয়ারা’ সিনেমার দৃশ্যে আহান পান্ডে ও অনীত পাড্ডাছবি: প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক

মোহিত সুরির ‘সাইয়ারা’ মুক্তির পর দুর্দান্ত ব্যবসা করেছে। গত ১৮ জুলাই মুক্তির পর বক্স অফিসে এ পর্যন্ত শুধু ভারতীয় বক্স অফিস থেকেই ৩২৩ কোটি রুপি আয় করেছে; বিশ্বব্যাপী আয় ছাড়িয়েছে ৫০০ কোটি রুপি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অনেক দিন পর রোমান্টিক সিনেমা পেয়ে লুফে নিয়েছেন দর্শকেরা। নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহর মনে করেন, ‘সাইয়ারা’র সাফল্য আরও রোমান্টিক সিনেমা তৈরির পথ করে দেবে।

২০১০-এর দশকে বলিউডের প্রধান ধারার সিনেমা বদলে গিয়েছিল। দক্ষিণ ভারতীয় হিট সিনেমা রিমেক, যেমন ‘সিংহাম’-এর হিন্দি রিমেক সফল হওয়ার পর দক্ষিণি রিমেকের নতুন ধারা শুরু হয়। এরপর রোমান্টিক সিনেমার বদলে অ্যাকশন সিনেমাই হচ্ছিল বেশি। এমনকি রোমান্টিক তারকা হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খানও সাফল্যের আশায় ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো অ্যাকশন ছবি করেছেন।

‘সাইয়ারা’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

আহান পান্ডে ও আনীত পাড্ডা অভিনীত ‘সাইয়ারা’ সিনেমার সাফল্য নিয়ে ‘দ্য স্ট্রিমিং শো’ পডকাস্টে করণ জোহর বলেন, ‘আমাদের সেই ধরনের পরিচালক নেই, যারা বড় বাজেটের ছবি করতে পারে। তবে আমরা “সাইয়ারা” করতে পারি। মোহিত সুরি জানিয়েছেন, সিনেমার সাফল্যের পর দক্ষিণি নির্মাতারা তাঁকে ফোন করেছিলেন। এটি শুনে খুবই আনন্দ পেলাম। আমরা সাধারণত তাদের ফোন করে বলি, তাদের ছবি কত অসাধারণ।’

করণ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের গল্প বলতে হবে। সব ধরনের সিনেমা হবে। তবে পরিবারকেন্দ্রিক, রোমান্টিক সিনেমা কমে গিয়েছিল। “সাইয়ারা” প্রমাণ করল, এ ধরনের সিনেমার বড় দর্শক আছেন।’

‘সাইয়ারা’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

১৯৯০-এর দশকে দেওয়ালি বা ঈদে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমার বড় ছবি সব সময় রোমান্টিক সিনেমা হতো, যেমন ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। এ ছবিগুলো কেবল রোমান্টিক সিনেমা নয়; বরং পারিবারিক মূল্যবোধ, বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের গল্পও বলত।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে বড় বাজেটের অ্যাকশন ও থ্রিলার ছবির আধিপত্য বেড়ে যায়। ফলে বলিউডে প্রেমের গল্পের ঘাটতি দেখা দেয়। করণ জোহরের মতে, ‘সাইয়াারা’র সাফল্য প্রমাণ করছে যে প্রেমের গল্প এখনো দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
এর আগে ছবিটির সাফল্য বিশ্লেষণ করেছেন আমির খানও। তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিটি প্রজন্মের আলাদা পছন্দ থাকে। একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে আমি চাই বিভিন্ন রকম গল্প খুঁজে বের করতে, যা সব ধরনের দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে।’
আমির মনে করেন, ‘সাইয়ারা’র আবেগঘন গল্প বলার ধরন ও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত থিমই জেন-জি দর্শকের মন জয় করেছে।
ছবির সাফল্যে আমির খানের প্রযোজনা সংস্থা এক বিবৃতিতে নবাগত দুই অভিনেতা আহান পান্ডে ও অনীত পাড্ডার অভিনয় ও তাঁদের পর্দার রসায়নের প্রশংসা করেছে। মোহিত সুরির পরিচালনা ও প্রযোজনার জন্য যশ রাজ ফিল্মসকেও ধন্যবাদ দিয়েছে সংস্থাটি।

ছবির গল্প বাণী ও কৃষকে নিয়ে। বিয়ে ভাঙার ছয় মাস পর বাণী উঠে দাঁড়ান। কাজ নেন এক পত্রিকা অফিসে। কিন্তু প্রথম দিনই মুখোমুখি হন এক রাগী, বদমেজাজি উঠতি গায়কের। ধ্বংসাত্মক তাঁর আচরণ। রেগে গেলে কোনো কিছুই পরোয়া করেন না। সেদিনই বাণী জানতে পারেন, তাঁর নাম কৃষ কাপুর। কৃষ স্বপ্ন দেখেন একদিন বড় গায়ক হবেন। কিন্তু স্বজনপ্রীতির চক্করে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ পান না।

আরও পড়ুন

এ কারণেই কৃষের এত ক্ষোভ। নিজের গানের দলের সদস্যদের সঙ্গেও মারামারি করতে দ্বিধা করেন না তিনি। ভাগ্যের ফেরে বাণী আর কৃষ আবার এক হন। তবে প্রয়োজনটা নেহাতই স্বার্থের। তবে দ্রুত ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। কৃষ আর বাণী যখন ধীরে ধীরে কাছে আসতে শুরু করেন, তখনই এক কঠিন সত্য তছনছ করে দিতে চায় সব। কৃষ হারান বাণীকে। কী হয় শেষ পর্যন্ত, তা জানতে হলে দেখতে হবে ‘সাইয়ারা’।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস