সমালোচনা উপেক্ষা করে ‘দ্য রাজাসাব’-এর দৌড়

‘দ্য রাজাসাব’ সিনেমায় প্রভাসএক্স থেকে

‘বাহুবলী’ তারকা প্রভাস অভিনীত ‘দ্য রাজাসাব’ মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার। সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেলেও দর্শকমহলে ছবিটি ভালো সাড়া ফেলেছে। শুধু দক্ষিণেই নয়, প্রভাসকে ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত। হিন্দি সংস্করণে নিজের ১১ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক গড়েছেন প্রভাস।

হিন্দি, তেলেগু, তামিল, মালয়ালম ও কন্নড়—এই পাঁচ ভাষায় মুক্তি পাওয়া মারুতি পরিচালিত ‘দ্য রাজাসাব’ প্রথম দিনেই সব ভাষা মিলিয়ে আয় করেছে প্রায় ৬৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার শো থেকেই এসেছে প্রায় ৯ কোটি ১৫ লাখ রুপি। নিয়মিত প্রদর্শনী থেকে প্রথম দিনের আয় প্রায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ রুপি। আয়ের বড় অংশ এসেছে তেলেগু সংস্করণ থেকে। হিন্দি সংস্করণে ছবিটির আয় প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ রুপি। অঙ্কের হিসাবে খুব বড় না হলেও রেকর্ডের দিক থেকে এ আয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে প্রভাস ছাড়িয়ে গেছেন নিজেরই ১১ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ হিন্দি সংস্করণে প্রথম দিনে আয় করেছিল প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ রুপি, যা এবার পেরিয়ে গেছে ‘দ্য রাজাসাব’।

শুধু দক্ষিণে নয়, প্রভাস যে প্রকৃত অর্থেই প্যান-ইন্ডিয়া তারকা, তা আবারও প্রমাণ করেছে ওডিশার একটি ঘটনা। দক্ষিণে তাঁর ছবি মুক্তিকে ঘিরে নানান ব্যতিক্রমী উন্মাদনার খবর আগেও শোনা গেছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রভাসের বিশাল কাটআউটে মালা দিয়ে পূজা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দর্শক নকল কুমির নিয়েও হলে হাজির হন। তবে ওডিশার অশোক থিয়েটারের একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে ‘দ্য রাজাসাব’ চলাকালে কয়েকজন অনুরাগী পর্দার সামনে রঙিন কাগজে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

বুধবার রাতে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য রাজাসাব’-এর রাজকীয় প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠান
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান

বুধবার রাতে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য রাজাসাব’-এর রাজকীয় প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠান। হায়দরাবাদ শহরের বাইরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এক বিশাল ও অভিনব সেটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক টি জি বিশ্ব প্রসাদ, পরিচালক মারুতি, অভিনেত্রী নিধি আগারওয়াল ও ঋদ্ধি কুমার। দিল্লি ও মুম্বাই থেকে আসা সাংবাদিকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ অনুষ্ঠানে জাপানে ছবি মুক্তির পরিকল্পনার কথাও জানান প্রযোজক টি জি বিশ্ব প্রসাদ। তিনি বলেন, ‘আপাতত ছবিটি ভারতীয় ভাষাগুলোতেই মুক্তি পাচ্ছে। এরপর জাপানি ভাষায় ডাব করে জাপানে মুক্তি দেওয়া হবে। ভারতে মুক্তির তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সেখানে ছবিটি রিলিজ করা হবে।’
প্রভাস অভিনীত ‘বাহুবলী: দ্য এপিক’ ও ‘সাহো’ জাপানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে সুজিত পরিচালিত ‘সাহো’ ওপেনিং ডেতে কোনো ভারতীয় ছবির মধ্যে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছিল।

ছবির ভাবনা ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রযোজক বিশ্ব প্রসাদ বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে এ ছবির যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে বড় পরিসরের একটি হরর-কমেডি ছবি নির্মাণ, তা–ও একজন সর্বভারতীয় জনপ্রিয় তারকাকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় সিনেমায় হরর-ফ্যান্টাসি উপাদানের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। নতুন ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে সেটিই তুলে ধরতে চেয়েছি।’

অভিনেত্রী ঋদ্ধি কুমার বলেন, ‘গণমাধ্যমই সেই বাস্তব জগৎ, যা পর্দার জগৎকে দর্শকের কাছে বাস্তব করে তোলে।’ অনুষ্ঠানে লাল শাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি ও নিধি আগারওয়াল জানান, এই রং তাঁদের কাছে ‘রেবেল তারকা’ প্রভাসের প্রতি সম্মানের প্রতীক। এদিন প্রভাসের অনুপস্থিতিও সবার চোখে পড়েছে।

দ্য রাজাসাব’ সিনেমায় প্রভাস
এক্স থেকে

নিধি আগারওয়াল বলেন, ‘দ্য রাজাসাব’ তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বিশেষ ছবি। তিনি বলেন, ‘শুটিং সেটে যে আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছি, তা আগে কখনো পাইনি।’ পরিচালক মারুতি ও পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রভাসের আরও বড় ভক্ত হয়ে উঠেছেন।
পরিচালক মারুতি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই মুহূর্ত এসেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘ছবিতে নায়কের চরিত্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী। দর্শকেরা ছবিটি পুরোপুরি উপভোগ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

দ্য রাজাসাব-এর চিত্রগ্রহণ করেছেন কার্তিক পালানি, সংগীত পরিচালনা করেছেন থামন এস। এই হরর-ফ্যান্টাসি ছবিতে প্রভাস, নিধি আগারওয়াল ও ঋদ্ধি কুমারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মালবিকা মোহনান, সঞ্জয় দত্ত, বোমান ইরানি ও জরিনা ওয়াহাব। এখন দেখার বিষয়, সামনের দিনগুলোতে বক্স অফিসে প্রভাসের এ ছবি কতটা দাপট দেখাতে পারে।